সোমবার, ১৯ জানুয়ারি ২০২৬, ৬ মাঘ ১৪৩২

রোহিঙ্গা ঠেকাতে ৩০ উপজেলাকে বিশেষ ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা

| প্রকাশিতঃ ২৬ অগাস্ট ২০১৭ | ৩:৪৯ অপরাহ্ন

চট্টগ্রাম: বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের ভোটার হওয়া ঠেকাতে চট্টগ্রাম বিভাগের ৪টি জেলার ৩০ উপজেলাকে বিশেষ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। এর মধ্যে কক্সবাজার ও রাঙামাটির ৮টি করে এবং বান্দরবান ও চট্টগ্রামের ৭টি করে উপজেলা রয়েছে। শনিবার চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে ভোটার তালিকা হালনাগাদ সংক্রান্ত বিশেষ কমিটির সভায় এসব তথ্য জানান নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সচিব হেলাল উদ্দীন।

সভায় জানানো হয়, বিশেষ এলাকা হিসেবে কক্সবাজার ও বান্দরবানের সব উপজেলাকে অর্থ্যাৎ ১৫টিকে চিহ্নিত করা হয়েছে। রাঙামাটির ১০টি উপজেলার মধ্যে ৮টিকে বিশেষ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এগুলো হচ্ছে সদর, লংগদু, রাজস্থলী, বিলাইছড়ি, কাপ্তাই, বাঘাইছড়ি, জুরাছড়ি ও বরকল। চট্টগ্রামের ১৬টি উপজেলার মধ্যে চিহ্নিত সাতটি উপজেলা হচ্ছে বোয়ালখালী, পটিয়া, আনোয়ারা, চন্দনাইশ, সাতকানিয়া, লোহাগাড়া ও বাঁশখালী।

ইসি সচিব হেলাল উদ্দীন বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা ঘোষিত প্রত্যেক উপজেলায় রোহিঙ্গাদের ভোটার হওয়া ঠেকাতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে আহ্বায়ক ও উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তাকে সদস্যসচিব করে বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির যাচাইবাছাই ছাড়া এই ৩০টি উপজেলায় কেউ ভোটার হতে পারবেন না। গত ২৫ জুলাই থেকে সারাদেশে একযোগে ভোটার তালিকা হালনাগাদ কার্যক্রম শুরু হয় যা শেষ হয়েছে ৯ আগস্ট। যাদের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে তাদের যাচাইবাছাই ও নিবন্ধন কার্যক্রম চলবে ৫ নভেম্বর পর্যন্ত।

সভায় নির্বাচন কমিশনার অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শাহাদাৎ হোসেন চৌধুরী বলেন, রোহিঙ্গারা ভোটার হওয়ার জন্য উঠে পড়ে লেগেছে। কারণ ভোটার হলে তারা জাতীয় পরিচয়পত্র পাচ্ছে এবং সরকারি সব সুযোগ সুবিধার দাবিদার হচ্ছে। নজরদারির অভাবে অথবা প্রভাবশালীদের স্পন্সরশিপে আগে অনেক রোহিঙ্গাই ভোটার হয়ে গেছেন। অবস্থা এমন হয়েছে রোহিঙ্গাদের তৃতীয় ও চতুর্থ প্রজন্ম বাংলাদেশে জনপ্রতিনিধি পর্যন্ত হয়ে গেছে।

চট্টগ্রামের ভারপ্রাপ্ত বিভাগীয় কমিশনার শংকর রঞ্জন সাহার সভাপতিত্বে সভায় নির্বাচন কমিশনের জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) অনুবিভাগের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সাইদুল ইসলাম, পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি মো. মনিরুজ্জামান, নগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (অপরাধ ও অভিযান) সালেহ মো.তানভীর, চট্টগ্রাম বিভাগের চারটি জেলার পুলিশ, বিজিবি, জেলা প্রশাসক, ৩০ উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাচন কর্মকর্তা, গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিনিধিরা বক্তব্য রাখেন।