
আন্তর্জাতিক ডেস্ক : জর্দানের রাজধানী আম্মানে গাজায় হাসপাতালে হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল। ১৭ অক্টোবর রাতে। ছবি : সংগৃহীত
জর্দানের রাজধানী আম্মানে গাজায় হাসপাতালে হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল। ১৭ অক্টোবর রাতে। ছবি : সংগৃহীত
গাজার আল-আহলি ব্যাপটিস্ট হাসপাতালে মঙ্গলবার রাতে হামলার প্রতিবাদে মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে বিক্ষোভ হয়েছে। এসব স্বতস্ফুর্ত বিক্ষোভ কোনো কোনো স্থানে সহিংস হয়ে ওঠেছে। তবে শেষ পর্যন্ত নিহতের কোনো খবর জানা যায়নি।
পশ্চিম তীর
ফিলিস্তিনের অধিকৃত পশ্চিম তীর ও রামাল্লায় ব্যাপক বিক্ষোভ হয়েছে। রামাল্লায় ফিলিস্তিন অথরিটির প্রধান মাহমুদ আব্বাসের বিরুদ্ধে স্লোগান ওঠেছে। বিক্ষোভকারীরা আব্বাসের পদত্যাগ দাবি করেন। বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে কাঁদানে গ্যাসের শেল ও স্টেন গ্রেনেডস ছুড়েছে পুলিশ।
লেবানন
ইসরায়েলের দক্ষিণের প্রতিবেশী লেবাননেও হাসপাতালে হামলার প্রতিবাদে কয়েক হাজার মানুষ রাস্তায় নেমে আসেন। বিক্ষোভকারীদের কয়েক শত লেবাননের যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসের দিকে যেতে চেষ্টা করে। এ সময় নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যসের সঙ্গে তাদের সংঘাত হয়।
লেবাননের হিজবুল্লাহ হাসপাতালে হামলার জন্য ইসরায়েলকে দায়ী করছে।
জর্দান
ইসরায়েলের পূর্ব দিকের প্রতিবেশী জর্দানেও বড় ধরনের বিক্ষোভ হয়েছে। জর্দানের ইসরায়েলি দূতাবাস এলাকায় বিক্ষোভকারীরা প্রবেশের চেষ্টা করেন। ফলে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষ হয়।
জর্দানের রাজধানী আম্মানে বুধবার জর্দানের বাদশা দ্বিতীয় আবদুল্লাহ, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন, মিসরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাতাহ আস-সিসি এবং মাহমুদ আব্বাস গাজা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করতে একটি শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হওয়ার কথা ছিল। গাজার হাসপাতালে হামলার কারণে তা মুলতবি করা হয়েছে।
মিসর
গাজার আল-আহলি হাসপাতালে হামলার প্রতিবাদে মিসরের রাজধানী কায়রোতেও বিক্ষোভ হয়েছে। কায়রোর যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসের সামনে বিক্ষোভকারীরা নানা ধরনের স্লোগান দেন। দক্ষিণের এই প্রতিবেশী দেশটির সঙ্গে আবর দেশগুলোর মধ্যে সবার আগে ইসরায়েলের কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপিত হয়।
২০২১ সালের মে মাসের ১১ দিনের ইসরায়েল-হামাস যুদ্ধ মধ্যস্থতায় প্রধানতম ভূমিকা রেখেছিল মিসর।
তিউনিসিয়া
উত্তর আফ্রিকার দেশ তিউনিসিয়াতেও গাজার হাসপাতালে হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ হয়েছে। বিক্ষোভকারী ফ্রান্স ও যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী স্লোগান দেন।
তিউনিসিয়া এক সময় ফ্রান্সে ঔপনিবেশ ছিল।
তুরস্ক
তুরস্কের বৃহত্তম শহর ইস্তাম্বুলেও বিক্ষোভ হয়েছে। ইস্তাম্বুলের ইসরায়েলি কনস্যুলেটের সামনে কয়েক শত বিক্ষোভকারী জড়ো হয়ে হামলার প্রতিবাদ জানান।
তুরস্কও ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক বাড়ানোর চেষ্টা করছে। হামাসের হাতে বন্দিদের মুক্ত করতে কাজ করছে দেশটি।
কে হামলা করেছে
গাজার আল-আহলি ব্যাপটিস্ট হাসপাতালে কে হামলা করেছে তা নিয়ে ইসরায়েল ও হামাস পরস্পরকে দুষছে।
হামলার পরপরই এক প্রতিবেদনে ইসরায়েল ওই হাসপাতালে হামলা চালিয়েছে বলে উল্লেখ করেছিল রয়টার্স। ইসরায়েল প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আইডিএফ) ধারণা ছিল ওই হাসপাতালে হামাসের অনেক আহত যোদ্ধা চিকিৎসা নিচ্ছিল।
কয়েকটি সূত্র বলছে, ওই হাসপাতালে হামাসের কিছু যোদ্ধা চিকিৎসা নিচ্ছিল ঠিক। কিন্তু সেখানকার রোগীদের সিংহভাগ ছিল বাস্তুচ্যুত সাধারণ মানুষ। হতাহতের অধিকাংশ নারী ও শিশু।
একই হামলায় পাশ্ববর্তী জাতিসংঘের একটা স্কুলও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেখানেও অন্তত ৬ জন নিহত হয়েছে। স্কুলটিতে বর্তমানে কয়েক শত উদ্বাস্তু আশ্রয় নিয়েছে।
আল-আহলি আবর হাসপাতাল ব্যাপটিস্ট হাসপাতাল নামেও পরিচিত। জেরুজালেমের এপিস্কোপাল ডায়োসিস বা স্থানীয় অ্যাংলিকান খ্রিস্টান সম্প্রদায় এটা পরিচালনা করে।
সূত্র : আল-জাজিরা, রয়টার্স