চট্টগ্রাম: চট্টগ্রাম নগর ছাত্রলীগের সহ সম্পাদক সুদীপ্ত বিশ্বাস খুনের ঘটনায় গ্রেফতার হওয়া যুবলীগ কর্মী মোক্তার হোসেন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। খুনের ঘটনায় অংশ নেয়া অন্তত ১৫ জনের নাম তিনি জবানবন্দিতে বলেছেন। তবে খুনের নির্দেশদাতার নাম বলেননি। বুধবার ১৬৪ ধারায় এই জবানবন্দি রেকর্ড করেন চট্টগ্রাম মহানগর হাকিম আবু ছালেম মো. নোমান।
সদরঘাট থানার ওসি মর্জিনা আক্তার বলেন, ঘটনার দিন সুদীপ্তকে মারতে গিয়েছিল ৩৫ থেকে ৪০জন। এদের মধ্যে ৬ থেকে ৯ জন সুদীপ্তের বাড়িতে যায়। বাকিরা ব্যাকআপ টিম হিসেবে ঘটনাস্থলের অদূরে ছিল। দুই ঘন্টার জবানবন্দিতে সেদিনের খুনের ঘটনার তথ্য প্রকাশ করেছেন মোক্তার। দলবেঁধে যারা সুদীপ্তকে মারতে গিয়েছিল তাদের মধ্যে অন্তত ১৫ জনের নাম প্রকাশ করেছে সে। এরপর আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন।
আদালত সূত্র জানায়, হত্যাকান্ডে অংশ নেয়ার কথা জবানবন্দিতে স্বীকার করার পাশাপাশি ঘটনায় জড়িত ১৫ থেকে ২০ জনের নাম প্রকাশ করেছে মোক্তার। তারা হলেন- মোরশেদ আলম নিপু, আইনুল কাদের নিপু, জাহেদুর রহমান জাহিদ ওরফে বেবি জাহিদ, হানিফ, মুরাদ, জিহাদ, ফয়সাল, রুবেল, চশমা রুবেল, টাংকির পাহাড়ের রুবেল, বাপ্পী, খায়ের, শামীম, বাবু, সুমন। তবে সুদীপ্ত খুনের নির্দেশদাতা কে ছিলেন সে বিষয়ে কিছু জানাননি মোক্তার।
গত ৬ অক্টোবর সকাল সাড়ে সাতটার দিকে চট্টগ্রাম নগরের দক্ষিণ নালাপাড়া এলাকায় বাসা থেকে ডেকে নিয়ে সুদীপ্তকে পিটিয়ে আহত করা হয়। পরে তাকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে বেলা সাড়ে ১১টায় তার মৃত্যু হয়। এই ঘটনায় অজ্ঞাতপরিচয় সাত-আটজনের বিরুদ্ধে সুদীপ্তর বাবা মেঘনাথ বিশ্বাস মামলা করলেও পুলিশ বলছে, ঘটনায় জড়িত অনেকেই।
চট্টগ্রাম নগরের লালখান বাজার এলাকার এক আওয়ামী লীগ নেতার অনুসারীরা সুদীপ্ত হত্যার ঘটনায় জড়িত বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে গত ১৩ অক্টোবর রাতে মোক্তার হোসেন নামের এক যুবলীগ কর্মীকে গ্রেফতার করেছিল পুলিশ। এরপর আদালতের নির্দেশে মোক্তারকে চারদিন জিজ্ঞাসাবাদ শেষে বুধবার আদালতে হাজির করে পুলিশ। এরপর আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয় মোক্তার।