মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারি ২০২৬, ৭ মাঘ ১৪৩২

মহিউদ্দিনের বাসায় সভা আওয়ামী লীগের গঠনতন্ত্র পরিপন্থী : আ জ ম নাছির

| প্রকাশিতঃ ২৩ অক্টোবর ২০১৭ | ১১:৩১ পূর্বাহ্ন

চট্টগ্রাম: সাম্প্রতিক সময়ে নগর আওয়ামী লীগ সভাপতি এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর বাসায় অনুষ্ঠিত কয়েকটি সভার বিষয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে সাধারণ সম্পাদক ও সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন বলেছেন, গঠনতন্ত্র অনুযায়ী সভাপতির পরামর্শক্রমে সাধারণ সম্পাদক সভা আহ্বান করেন। কিন্তু ২০ অক্টোবর ও এর আগে চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগ সভাপতির বাসভবনে কয়েকটি সভা আহ্বান করা হয়েছে, যা সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে আমার সাথে কোনো ধরনের আলাপ বা কথা বলা হয়নি। যা আওয়ামী লীগের সংগঠনের গঠনতন্ত্র পরিপন্থী।

রোববার রাতে চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন গণমাধ্যমে এক বিবৃতি পাঠিয়ে এসব কথা বলেছেন।

মেয়র আ জ ম নাছির বলেন, আমি চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র হলেও দলের সাধারণ সম্পাদক। দল ও সরকারের ভাবমূর্তি বাড়ানো ও জনমত সরকারের অনুকূলে রাখা আমার দায়িত্ব।

বিবৃতিতে তিনি আরো উল্লেখ করেন, ‘সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দলের সভাপতির সাথে আলোচনা ও পরামর্শক্রমে নগর আওয়ামী লীগের বিভিন্ন সভা ডাকা ও দলীয় কার্যক্রম পরিচালনা করা আমার দায়িত্ব। দলীয় সভাপতির বাসভবনে সম্প্রতি কয়েকটি বৈঠক এবং শুক্রবারের সভার বিষয়ে আমি অবহিত নই। তবে প্রকাশিত সংবাদের প্রতি আমার দৃষ্টি আকর্ষিত হয়েছে। ওই সভায় পৌরকর নিয়ে দল ও সরকারকে বিব্রত করা হচ্ছে মর্মে যে বক্তব্য দেওয়া হয়েছে, তা কোনো ক্রমেই গ্রহণযোগ্য নহে। বরং সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ও কার্যকরী কমিটির অনেককে অবহিত না করে সভায় যেসব আলোচনা করা হয়েছে তা বিভ্রান্তিমূলক ও সঠিক নয়। হোল্ডিং ট্যাক্স সম্পর্কে ইতিপূর্বে আমি বিভিন্ন সংবাদ ও সভার মাধ্যমে মেয়র হিসেবে আমার অবস্থান তুলে ধরেছি। এ বিষয়ে সাবেক মেয়র নিশ্চয়ই অবহিত আছেন। সিটি করপোরেশন রাষ্ট্রের বিধিবদ্ধ আইন দ্বারা পরিচালিত এবং সরকার সিটি করপোরেশনের সামগ্রিক কার্যক্রম তত্ত্বাবধান করে। প্রতি পাঁচ বছর পর পর হোল্ডিং ট্যাক্স পুনর্মূল্যায়ন করার আইনি বিধানের আলোকে বর্তমানের হোল্ডিং ট্যাক্স পুনর্মূল্যায়ন করা হয়েছে।’

আ জ ম নাছির উদ্দীন আরো উল্লেখ করেন, “মেয়র সরকারের অংশ ও প্রতিষ্ঠান। যিনি মেয়র তাকে আইনী কাঠামোর মধ্যে চলতে হয় এবং তার মধ্যেই উন্নয়ন ও জনসেবা পরিচালনা করতে হয়, কথাটা বার বার আমি বোঝাতে চেষ্টা করেছি। পৌরকর নিয়ে অনেক আলোচনা-সমালোচনা হচ্ছে অথচ আজ পর্যন্ত আমরা সুনির্দিষ্ট কোন অভিযোগ পাইনি। তবুও সিটি কর্পোরেশনের সড়ক ও জনপথের উন্নয়ন, ময়লা-আবর্জনা অপসারন, নালা ও খাল পরিচ্ছন্ন রাখা, জলাবদ্ধতা নিরসনের ব্যাপারে চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামীলীগের নেতৃবৃন্দ বিশেষ করে, মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি সাবেক মেয়র আমাদের শ্রদ্ধেয় নেতা আলহাজ্ব এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরীর পরামর্শকে স্বাগত জানাই। দলের সাধারণ সম্পাদক হিসাবে মেয়রের দায়িত্ব পালনে চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা সকল ষড়যন্ত্র ও বিভ্রান্তির উর্ধ্বে উঠে আমাকে সহযোগীতা করবেন এটা আমার প্রত্যাশা।

বিবৃতিতে তিনি উল্লেখ করেন, “বিএনপি মনোনীত সাবেক মেয়র আলহাজ্ব মোহাম্মদ মনজুর আলমের সময়ও এসেসমেন্ট হয়েছিল। আপিল নিষ্পত্তির মাধ্যমে পৌরকর ও রেইট ধার্য করা হয়েছিল। আজ যারা গৃহকর নিয়ে বিভ্রান্তিমূলক কথা বলছেন, সেদিন তারা রহস্যজনকভাবে নিশ্চুপ ছিলেন। এর কারন আজো জনগণ জানতে পারেনি। যদি জনগণের প্রতি এতই দরদ থাকত তাহলে আজকের মতই সোচ্চার হতেন। কি কারনে সেইদিন তারা নিশ্চুপ ছিলেন? তা নগরবাসী জানতে চায়। পূর্বের মেয়রের আমলে এসেসমেন্টকালে কোন বাদ-প্রতিবাদ হয়নি, তাহলে এখন কেন “রিভিউ বোর্ডে” আপত্তি চূড়ান্তভাবে নিষ্পত্তি না হওয়ার আগেই এতো হৈ-চৈ ? এ কারনেই কর্মসূচিগুলো উদ্দেশ্য প্রনোদিত বলে আমি মনে করি।”