মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারি ২০২৬, ৭ মাঘ ১৪৩২

অস্ত্র লুটে ব্যর্থ হয়ে চট্টগ্রামে নৌবাহিনীর ঘাঁটিতে জঙ্গি হামলা

| প্রকাশিতঃ ২৫ অক্টোবর ২০১৭ | ৭:০৪ অপরাহ্ন

চট্টগ্রাম: রাঙামাটির কাপ্তাইয়ে নৌবাহিনীর শহীদ মোয়াজ্জেম ঘাঁটি থেকে অস্ত্র লুটের পরিকল্পনা ছিল জেএমবির। তবে নানা কারণে জঙ্গিদের সেই পরিকল্পনা সফল হয়নি। এই অবস্থায় নিজেদের অস্তিত্ব জানান দিতে চট্টগ্রামে নৌবাহিনীর ঈশা খাঁ ঘাঁটিকে বেছে নেয় জেএমবি। এই ঘাঁটির দুটি মসজিদে আত্মঘাতী বোমা হামলা চালায় জঙ্গিরা। পুলিশের তদন্তে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

২০১৫ সালের ১৮ ডিসেম্বর ঈশা খাঁ ঘাঁটিতে সংঘটিত ওই হামলার ঘটনায় নৌবাহিনীর কর্মকর্তাসহ ২৪ জন মুসল্লি আহত হন। ঘটনার পর একটি ব্যারাকের নিচতলার শৌচাগারে পরিত্যক্ত অবস্থায় অবিস্ফোরিত বোমা এবং একটি সুইসাইড ভেস্ট উদ্ধার হয়।

ঘটনার নয় মাস পর ২০১৬ সালের ৩ সেপ্টেম্বর নগরের ইপিজেড থানায় নৌবাহিনীর নেভাল প্রভোস্ট মার্শাল কমান্ডার এম আবু সাঈদ বাদী হয়ে সন্ত্রাসবিরোধী ও বিস্ফোরক আইনে মামলা করেন। দীর্ঘ ২২ মাস তদন্ত শেষে গত মঙ্গলবার রাতে চট্টগ্রাম মহানগর হাকিম আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা নগরের ইপিজেড থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মুহাম্মদ ওসমান গণি। হামলার ওই ঘটনায় একটি মামলা হলে আইনের দুটি ধারায় (সন্ত্রাসবিরোধী এবং বিস্ফোরক) পৃথক দুটি অভিযোগপত্র দেন তিনি। এতে নৌবাহিনীর সাবেক এক সদস্যসহ পাঁচজনকে আসামি করেছে পুলিশ।

আসামিরা হলেন- নৌবাহিনীর সাবেক সদস্য এম সাখাওয়াত হোসেন (হামলার সময় প্রেষণে র‌্যাবে কর্মরত ছিলেন, ঘটনার পরপরই পালিয়ে যান), ঈশা খাঁ ঘাঁটির বলকিপার আবদুল মান্নান, রমজান আলী ও বাবলু রহমান ওরফে রনি এবং মান্নানের বড় ভাই আবদুল গাফফার। তাঁদের মধ্যে সাখাওয়াত ও বাবলু পলাতক। বাকি তিনজন চট্টগ্রাম কারাগারে আটক আছেন।

চার পৃষ্ঠার অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়, ঈশা খাঁ ঘাঁটির ভেতরে পতেঙ্গা মসজিদে জুমার নামাজের সময় আসামি আবদুল মান্নান মুসল্লিদের ওপর পরপর দুটি বোমা নি¶েপ করেন। পরে আরও একটি বোমা বিস্ফোরণের চেষ্টার সময় মুসল্লিরা তাকে ধরে ফেলেন। ওই মসজিদে হামলার ১০ মিনিট পর সেদিন বেলা ১টা ৪৫ মিনিটে ঈশা খাঁ ঘাঁটির আরেকটি মসজিদেও আরেকটি বোমা হামলার ঘটনা ঘটে। ওই মসজিদে জুমার নামাজ শুরু হলে আসামি রমজান আলী জামাতের প্রায় মাঝ বরাবর দুটি বোমা নি¶েপ করে। পরে তাকেও ধরে ফেলা হয়।

জিজ্ঞাসাবাদে আসামিরা ¯^ীকার করেছে, দেশের প্রচলিত আইন তারা মানেন না। সেনা, নৌ, বিমানবাহিনী, পুলিশসহ অন্যান্য আইনশৃক্সখলা র¶াকারী বাহিনী তাদের কাজে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে। হামলা চালানোর উদ্দেশ্যে নৌবাহিনীর সাবেক সদস্য সাখাওয়াত হোসেনের মাধ্যমে কাপ্তাইয়ে শহীদ মোয়াজ্জেম ঘাঁটিতে মান্নান ও রমজান ক্যানটিন বয় হিসেবে কাজ নেন। রমজান টেক্সাইল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ডিপ্লোমা পাস করলেও অষ্টম শ্রেণি পাস দেখিয়ে এই চাকরি নেন। মান্নান, রমজান ও বাবলু পরিচয় এবং শি¶াগত যোগ্যতা গোপন করে ২০১২-১৩ সালে অস্থায়ী বেসামরিক কর্মচারী (ক্যানটিন বয়, ব্যাটম্যান, বলকিপার) হিসেবে কাপ্তাই বানৌজা শহীদ মোয়াজ্জেম ঘাঁটিতে কাজ নেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও ইপিজেড থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মুহাম্মদ ওসমান গণি বলেন, জেএমবির চট্টগ্রাম অঞ্চলের প্রধান সমš^য়ক রাইসুল ইসলাম খান ওরফে ফারদিন ওরফে নাফিসের নেতৃত্বে ঈশা খাঁ ঘাঁটিতে হামলা হয়। ২০১৬ সালের ৩ এপ্রিল বগুড়ার শেরপুরের একটি মেসে গ্রেনেড তৈরি করতে গিয়ে নিহত হন তিনি। শহীদ মোয়াজ্জেম ঘাঁটি থেকে অস্ত্র লুটের পরিকল্পনা সফল না হওয়ার প্রেক্ষিতে নিজেদের অস্তিত্ব জানান দিতে জঙ্গিরা এই বোমা হামলা চালায়।