মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারি ২০২৬, ৭ মাঘ ১৪৩২

চাকরিচ্যুতির প্রতিবাদে পটিয়ায় ২৬ ব্যাংকে তালা, মহাসড়ক অবরোধ

একুশে প্রতিবেদক | প্রকাশিতঃ ১০ অগাস্ট ২০২৫ | ৩:৫৪ অপরাহ্ন


চাকরিচ্যুত সহকর্মীদের পুনর্বহালের দাবিতে চট্টগ্রামের পটিয়ায় ২৬টি ব্যাংকে তালা ঝুলিয়ে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন ব্যাংকাররা।

রোববার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত প্রায় সাত ঘণ্টা ধরে চলা এই কর্মসূচির কারণে সরকারি-বেসরকারি ব্যাংকগুলোতে লেনদেন বন্ধ থাকার পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ ওই মহাসড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। পরে প্রশাসনের আশ্বাসে আন্দোলনকারীরা অবরোধ তুলে নেন।

বিক্ষোভকারীরা জানান, গত বছরের আগস্টে সরকার পরিবর্তনের পর ছয়টি বেসরকারি ইসলামী ব্যাংক থেকে প্রায় সাত হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারীকে ‘বিনা নোটিশে, বিনা কারণে’ চাকরিচ্যুত করা হয়, যাদের একটি বড় অংশ পটিয়ার বাসিন্দা। চাকরি ফিরে পেতেই তারা এই কর্মসূচি দিয়েছেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকাল ৭টা থেকে চাকরিচ্যুত শতাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী পটিয়া আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে জড়ো হতে থাকেন। সকাল ৮টার দিকে তারা পটিয়া সদরে থাকা ২৬টি সরকারি-বেসরকারি ব্যাংকের শাখার মূল ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেন।

পরে সকাল সাড়ে ৮টায় তারা চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে বিক্ষোভ মিছিল শুরু করেন এবং পটিয়া থানার মোড়ে অবস্থান নিয়ে সড়ক অবরোধ করেন।

আন্দোলনে সংহতি প্রকাশ করে উপজেলা ইসলামী ফ্রন্টের সভাপতি সৈয়দ এয়ার মুহাম্মদ পেয়ারু, দক্ষিণ জেলা গণঅধিকার পরিষদের আহ্বায়ক ডা. এমদাদুল হাসানসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতারা বক্তব্য দেন।

হঠাৎ ব্যাংক বন্ধ ও সড়ক অবরোধে চরম ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ মানুষ।

জমি রেজিস্ট্রি করতে টাকা তুলতে আসা কোলাগাও এলাকার বাসিন্দা জমির উদ্দিন বলেন, “সোনালী ব্যাংকে এসে দেখি গেটে তালা। এখন কী করব বুঝতে পারছি না। আমার জরুরি লেনদেন আটকে গেল।”

পূবালী ব্যাংকের পটিয়া শাখা ব্যবস্থাপক বিপ্লব চক্রবর্তী বলেন, “সপ্তাহের প্রথম দিনে গ্রাহকের চাপ বেশি থাকে। অবরোধের কারণে সকাল থেকে কার্যক্রম বন্ধ থাকায় গ্রাহকরা ভোগান্তির শিকার হয়েছেন।”

জনতা ব্যাংকের ব্যবস্থাপক নাজিম জানান, দুপুর পৌনে ২টার দিকে লেনদেন চালু হওয়ার পর কার্যক্রম স্বাভাবিক হয়।

প্রশাসনের আশ্বাসে অবরোধ প্রত্যাহার

দুপুর ১টার দিকে পটিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারহানুর রহমান, চট্টগ্রাম জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) আসাদুজ্জামান ও পটিয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আরিফুর রহমান আন্দোলনকারীদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন।

বৈঠকে প্রশাসনের কর্মকর্তারা তাদের দাবি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার আশ্বাস দিলে দুপুর ২টায় আন্দোলনকারীরা অবরোধ তুলে নেন এবং ব্যাংকগুলোতে লেনদেন শুরু হয়।

আন্দোলনের নেতৃত্বে থাকা মফিজুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, “আমাদের অন্যায়ভাবে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। প্রশাসনের আশ্বাসে আমরা কর্মসূচি স্থগিত করেছি। কিন্তু চাকরিতে পুনর্বহাল করা না হলে ভবিষ্যতে দক্ষিণ চট্টগ্রামে আরও কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।”

সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকের চাকরিচ্যুত ক্যাশ অফিসার তারেকুর রহমান বলেন, “হঠাৎ করেই কোনো কারণ ছাড়া আমাকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। আমি অসহায় হয়ে পড়েছি। চাকরি ফিরে না পাওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাব।”