
চট্টগ্রামের সন্দ্বীপে দেড় মাসের বেশি সময় ধরে প্রশাসনের জিম্মায় থাকা ২৮৪টি মহিষের মালিকানা শনাক্ত হয়েছে। উপজেলার বিচ্ছিন্ন দ্বীপ উড়িরচরের ১৪ জন বাসিন্দা নিজেদের এই মহিষগুলোর মালিক বলে দাবি করার পর তদন্ত শেষে প্রশাসন তা নিশ্চিত হয়েছে।
মহিষগুলো মালিকদের কাছে ফিরিয়ে দিতে গত বৃহস্পতিবার তিন সদস্যের একটি উপকমিটি গঠন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মংচিংনু মারমা।
এর আগে গত ৪ জুলাই সন্দ্বীপের কালীরচরে বিশাল এই মহিষের পাল দেখতে পেয়ে স্থানীয়রা ফেসবুকে ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে দিলে সারা দেশে কৌতূহল সৃষ্টি হয়। মালিকবিহীন অবস্থায় পাওয়ায় মহিষগুলো নিয়ে নানা গুজবও ছড়াতে থাকে। এ পরিস্থিতিতে গত ৯ জুলাই উপজেলা প্রশাসন মহিষগুলোকে নিজেদের জিম্মায় নেয় এবং প্রকৃত মালিক শনাক্ত করতে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা আলী আজমকে আহ্বায়ক করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে।
ইউএনও মংচিংনু মারমা জানান, তদন্ত কমিটি দীর্ঘ যাচাই-বাছাই শেষে ১৪ ব্যক্তিকে মালিক হিসেবে চিহ্নিত করেছে। এখন সুষ্ঠুভাবে মহিষগুলো হস্তান্তরের জন্য সন্দ্বীপ থানার ওসি এ কে এম সফিকুল আলম চৌধুরীকে আহ্বায়ক করে তিন সদস্যের একটি উপকমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিতে নৌবাহিনীর একজন প্রতিনিধি ও উপজেলা আনসার-ভিডিপি কর্মকর্তা স্বপন কুমার পাল সদস্য হিসেবে রয়েছেন। আগামী বৃহস্পতিবারের মধ্যে এই কমিটি মালিকদের কাছে মহিষগুলো হস্তান্তর করবে।
মহিষের মালিকদের একজন আবদুর রহিম জানান, তারা উড়িরচরের বাসিন্দা এবং মহিষগুলো বাল্কহেডে করে কালীরচরে চরাতে নিয়ে এসেছিলেন। আরেক মালিক মো. রিয়াদ বলেন, “আমরা টিকা কার্ড ও মহিষের দাগ ও বর্ণের লিখিত বিবরণ জমা দিয়ে মালিকানা প্রমাণ করেছি। এর বাইরে মহিষের আর কোনো কাগজপত্র থাকে না।”
ইউএনও মংচিংনু মারমা বলেন, ভবিষ্যতে সন্দ্বীপের কোনো চারণভূমিতে পশু স্থানান্তর করলে অবশ্যই প্রশাসনকে আগে থেকে জানাতে হবে। যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করা না হলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।