
চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় দরবেশহাট থেকে পুটিবিলার হাসনাভিটা পর্যন্ত প্রায় ২০ কিলোমিটার দীর্ঘ ডিসি সড়কের একটি বড় অংশ খানাখন্দে ভরে চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। সড়কটির বিভিন্ন স্থানে পিচ-পাথর উঠে গিয়ে তৈরি হয়েছে শত শত ছোট-বড় গর্ত, যা বৃষ্টিতে ডোবার আকার ধারণ করছে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা, শিক্ষার্থী ও রোগীরা।
সরেজমিনে দেখা যায়, সড়কটির প্রায় পাঁচ কিলোমিটার অংশ, বিশেষ করে লোহাগাড়া সদরের শাহপীর মাজার গেট, দরবেশহাট তিন রাস্তার মোড়, দয়ারবর পাড়া, এম চর হাট বাজার, মাস্টার পাড়া, গৌড়স্থান লাকী পাড়া, নয়াবাজার, গজালিয়া দিঘীর পাড় এবং হাসনা ভিটার আগে সেতু পর্যন্ত অংশজুড়ে যান চলাচল প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। অনেক জায়গায় গর্তে জমে থাকা কাদাপানিতে যানবাহন আটকে যাচ্ছে, আবার পথচারীদেরও হেঁটে চলাচল করা দায় হয়ে পড়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহার এবং ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত ভারী যানবাহন চলাচলের কারণে সড়কটির এই বেহাল দশা। তারা জানান, এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন গাছ, বাঁশ, ইট ও মাটি বোঝাই ভারী ট্রাক চলাচল করে, যা সড়কটিকে দ্রুত নষ্ট করে ফেলছে।
এলজিইডি সূত্রে জানা গেছে, বান্দরবান পার্বত্য জেলার সঙ্গে সংযুক্ত এই সড়কটি প্রায় ১০ বছর আগে পাকা করা হয়েছিল এবং সর্বশেষ পাঁচ বছর আগে এর সংস্কার করা হয়।
পুটিবিলার বাসিন্দা জাহেদুল ইসলাম অভি বলেন, “সড়কটি চলাচলের পুরোপুরি অযোগ্য হয়ে পড়েছে। সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়ছেন শিক্ষার্থী ও রোগীরা। এটি দ্রুত সংস্কার করা জরুরি।”
সিএনজি অটোরিকশাচালক নাছির উদ্দিন বলেন, “গর্তের কারণে দিনের পর দিন গাড়ি চালাতে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। কিছু অংশ সংস্কার করা হলেও ভারী ট্রাক চলার কারণে অল্পদিনেই তা আগের অবস্থায় ফিরে গেছে।”
গৌড়স্থান উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও কবি সোলাইমান বলেন, “সড়কটি এতটাই খারাপ যে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে যাতায়াত করাই কঠিন হয়ে পড়েছে। বৃষ্টি হলে বড় গর্তে পানি জমে যানবাহন চলাচল অসম্ভব হয়ে পড়ে।”
এ বিষয়ে জানতে চাইলে লোহাগাড়া উপজেলা প্রকৌশলী ইফরাত বিন মুনির বলেন, “এম চর হাট বাজার থেকে হাসনাভিটা সেতু পর্যন্ত সড়ক সংস্কার কাজের টেন্ডার হয়েছে এবং ঠিকাদারকে কার্যাদেশও দেওয়া হয়েছে। বাকি অংশের জন্য এখনো টেন্ডার হয়নি। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত কাজ শুরুর ব্যবস্থা করা হবে।”