শনিবার, ১৭ জানুয়ারি ২০২৬, ৪ মাঘ ১৪৩২

বাংলাদেশ জেল এর নতুন নাম ‘কারেকশন সার্ভিস বাংলাদেশ’

একুশে প্রতিবেদক | প্রকাশিতঃ ২৬ অগাস্ট ২০২৫ | ৩:১১ অপরাহ্ন


দেশের কারাগারগুলোর নাম পরিবর্তন করে ‘কারেকশন সার্ভিসেস বাংলাদেশ’ বা ‘বাংলাদেশ সংশোধনমূলক পরিষেবা’ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কারাগারকে শাস্তির স্থান হিসেবে পরিচিত না করে সংশোধনাগার হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতেই এ উদ্যোগ। এ লক্ষ্যে ‘কারেকশন সার্ভিস অ্যাক্ট ২০২৫’-এর খসড়াও চূড়ান্ত করা হয়েছে।

আজ মঙ্গলবার রাজধানীর বকশিবাজারে কারা সদর দপ্তরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে কারা মহাপরিদর্শক (আইজি প্রিজনস) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ মো. মোতাহের হোসেন এসব তথ্য জানান।

কারা মহাপরিদর্শক বলেন, “কারাগারকে সংশোধনের জায়গা হিসেবে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এ ধারণা থেকেই নাম পরিবর্তন করে ‘কারেকশন সার্ভিসেস বাংলাদেশ’ করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট আইন যুগোপযোগী করার লক্ষ্যে ‘কারেকশন সার্ভিস অ্যাক্ট ২০২৫’-এর খসড়া চূড়ান্ত করে অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হয়েছে।”

সংবাদ সম্মেলনে দেশের কারাগারগুলোতে ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত বন্দীর সংকটের বিষয়টিও তুলে ধরা হয়। সৈয়দ মো. মোতাহের হোসেন বলেন, “বন্দীদের স্থান সংকুলানের জন্য নতুন করে ২টি কেন্দ্রীয় কারাগার এবং ৪টি জেলা কারাগার চালু করা হয়েছে। এ ছাড়া ব্যবস্থাপনার সুবিধার্থে ও অধিকতর সমন্বয়ের জন্য কারা বিভাগের ঢাকা বিভাগকে ভেঙে দুটি আলাদা বিভাগ করা হয়েছে।”

কারাগারে লোকবল সংকটের কথা উল্লেখ করে মহাপরিদর্শক জানান, সরকার ১ হাজার ৮৯৯টি নতুন পদ অনুমোদন দিয়েছে। তবে কারাগারের কার্যক্রম সঠিকভাবে পরিচালনার জন্য আরও দেড় হাজার নতুন জনবলের চাহিদা পাঠানো হয়েছে।

মাদক ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কথা উল্লেখ করে কারা মহাপরিদর্শক বলেন, “গত এক বছরে মাদক বহন, গ্রহণ ও সরবরাহের সঙ্গে জড়িত থাকায় ২৯ জন কারারক্ষীকে ফৌজদারি মামলায় কারাগারে পাঠানোসহ বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “কারা বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দুর্নীতি এবং নিয়মবহির্ভূত কাজের বিষয়েও আমরা কঠোর অবস্থানে রয়েছি। গত এক বছরে বিভিন্ন অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের মধ্যে কয়েকজনকে বাধ্যতামূলক অবসর, ৩৪ জনকে চাকরিচ্যুত এবং ৪৪০ জনের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। এ ছাড়া ১৭২ জনকে প্রশাসনিক কারণে বিভাগের বাইরে বদলি করা হয়েছে।”