মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারি ২০২৬, ৭ মাঘ ১৪৩২

পারকি সৈকতে উপদেষ্টার সফরের ভিডিওতে কৃষকলীগ নেতা, সমালোচনা

আনোয়ারা (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি | প্রকাশিতঃ ২৭ অগাস্ট ২০২৫ | ৮:৫০ অপরাহ্ন


চট্টগ্রামের আনোয়ারায় পারকি সমুদ্র সৈকতে নির্মাণাধীন পর্যটন কমপ্লেক্স পরিদর্শনে গিয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের একজন উপদেষ্টার সফরের ছবিতে এক কৃষকলীগ নেতার উপস্থিতিকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সমালোচনার ঝড় উঠেছে।

বুধবার সকালে বাণিজ্য, বস্ত্র ও পাট এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা উপদেষ্টা শেখ বশির উদ্দীনের পরিদর্শনের সময় তোলা ছবি ও ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। এসব ছবিতে উপদেষ্টার ঠিক পেছনেই আনোয়ারা উপজেলা কৃষকলীগের সভাপতি নুরুল আনোয়ারকে দেখা যায়।

ফেসবুকে বিভিন্ন ব্যক্তি এসব ছবি পোস্ট করে নানা ধরনের মন্তব্য করেন, যা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা তৈরি হয়। ব্যবহারকারীরা কৃষকলীগ নেতার উপদেষ্টার এত কাছাকাছি থাকাকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে অভিহিত করেন এবং এর ‘প্রতিবাদ’ হওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে আনোয়ারা থানার ওসি মনির হোসেন এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাহমিনা আক্তার কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

প্রকল্পের কাজে ধীরগতি

পারকি সৈকতে ‘পর্যটন সুবিধাদি প্রবর্তন (২য় সংশোধিত)’ শীর্ষক প্রকল্পের কাজ পরিদর্শন শেষে উপদেষ্টা শেখ বশির উদ্দীন সাংবাদিকদের বলেন, “পানি সমস্যাসহ নানা কারণে প্রকল্পের কাজে ধীরগতি দেখা দিয়েছে। তবে প্রকল্পের সাথে জড়িত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও প্রকল্প পরিচালক নিশ্চিত করেছেন, চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে সব ধরনের অবকাঠামোগত কাজ শেষ হবে।”

এ সময় বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব বেগম নাসরীন জাহান বলেন, “পারকি সমুদ্রসৈকতের পর্যটন কমপ্লেক্স একটি সম্ভাবনাময় প্রকল্প। এর সফল বাস্তবায়নে স্থানীয়দের সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং ট্যুরিস্ট পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা প্রয়োজন।”

পরিদর্শনকালে অন্যদের মধ্যে বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের চেয়ারম্যান সায়েমা শাহীন সুলতানা, প্রকল্প পরিচালক মাজেদুর রহমান, আনোয়ারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাহমিনা আক্তার এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি) দীপক ত্রিপুরা উপস্থিত ছিলেন।

প্রসঙ্গত, ২০১৮ সালে পারকি সমুদ্রসৈকতের আধুনিকায়নে ১৩.৩৬ একর জমিতে ৬২ কোটি টাকা ব্যয়ে এই পর্যটন কমপ্লেক্সের নির্মাণ কাজ শুরু হয়। দুই বছরের মধ্যে কাজ শেষ করার কথা থাকলেও ২০২০ সালের নভেম্বরে মেয়াদ শেষ হওয়ার সময় তিনটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মাত্র ২০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন করতে পারে।

পরে প্রকল্পের মেয়াদ ২০২১ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত এবং বরাদ্দ বাড়িয়ে ৭১ কোটি ২৫ লাখ টাকা করা হয়। এরপরও কাজে ধীরগতি থাকায় প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্তৃপক্ষ পুনরায় মেয়াদ বৃদ্ধির আবেদন করে।