মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারি ২০২৬, ৭ মাঘ ১৪৩২

এক সড়কেই বদলে গেছে ফটিকছড়ির বড়বিল-পিনপিনিয়া গ্রাম

ফটিকছড়ি (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি | প্রকাশিতঃ ১ সেপ্টেম্বর ২০২৫ | ৫:১৮ অপরাহ্ন


একটি সড়কের অভাবে গ্রামের মানুষের দুর্ভোগের শেষ ছিল না। ছেলেমেয়েরা ঠিকমতো স্কুল-কলেজে যেতে পারত না। বর্ষাকালে এক গ্রাম থেকে আরেক গ্রামে যাওয়া ছিল রীতিমতো দুঃসাধ্য। অন্যদিকে, জলাবদ্ধতার কারণে কৃষক ঠিকমতো ফসল ঘরে তুলতে পারতেন না। এবার সেখানে পাকা সড়ক নির্মাণে দুর্ভোগের দিন শেষ হয়েছে। বদলে গেছে গ্রামের আর্থ-সামাজিক চিত্র।

চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার হারুয়ালছড়ি ইউনিয়নের প্রত্যন্ত গ্রাম পিনপিনিয়া। পিনপিনিয়া জামে মসজিদের সামনে থেকে সড়কটি শুরু হয়ে শেষ হয়েছে পিনপিনিয়া ছড়ার কূল ঘেঁষে। গ্রামীণ এই সড়কটির দুই পাশে রয়েছে কয়েকশ বিঘা ফসলি জমি। সবুজ শ্যামলে ভরপুর এই গ্রামের চারপাশ উঁচু-নিচু পাহাড়-টিলা বেষ্টিত এবং এর এক পাশে বহমান ফটিকছড়ি খাল। প্রায় দেড় কিলোমিটার দীর্ঘ এই সড়কটি নিয়ে এলাকাবাসীর দুর্ভোগ ও আক্ষেপের শেষ ছিল না। কৃষকদেরও কষ্টে অর্জিত ফসল ঘরে তুলতে বেগ পেতে হতো।

তবে, এবার সব দুর্ভোগ ও কষ্টের অবসান হয়েছে। কারণ, কাদামাটির সড়কটি এখন পাকা হয়েছে। আর তাতেই পাল্টে গেছে বড়বিল ও পিনপিনিয়া গ্রামের অন্তত পাঁচ হাজার মানুষের জীবনযাত্রা। এ কারণে স্থানীয়রা উচ্ছ্বসিত।

ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, উন্নয়ন সহায়তা তহবিলের চার লক্ষ টাকা ব্যয়ে ব্রিকস ফ্ল্যাট সোলিং দ্বারা সড়কটির উন্নয়নকাজ করা হয়। পানি নিষ্কাশনের জন্য এ সড়কের মাঝে দুটি কালভার্ট তৈরি করে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএডিসি) এবং ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর।

স্থানীয় বাসিন্দা মোহাম্মদ আলী বলেন, ‘আমাদের গ্রামটি দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত ছিল। ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মো. ইকবাল হোসেন চৌধুরীর উদ্যোগে এ সড়কটি নির্মিত হওয়ায় গ্রামের চিত্র পাল্টে গেছে, সেই সাথে বড়বিল গ্রামেরও। এখানকার মানুষের জীবনমানও বৃদ্ধি পেয়েছে।’

স্থানীয় কৃষক নুরুল আমিন বলেন, ‘এই সড়কটি দিয়ে হাঁটাচলা করাও দুঃসাধ্য ছিল। সড়কটি পাকা হওয়ায় গ্রামের মানুষের খুব উপকার হয়েছে। এখন খুব সহজে চলাচল করতে পারি।’ মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ করায় তিনি ইউপি চেয়ারম্যানকে অশেষ কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানান।

হারুয়ালছড়ি ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মো. ইকবাল হোসেন চৌধুরী বলেন, ‘এই দুটি গ্রাম দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত ছিল। গ্রামের মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে প্রায় দেড় কিলোমিটার দীর্ঘ সড়কটি নির্মাণ করা হয়েছে। আগামীতেও অবহেলিত মানুষের পাশে থাকতে চাই।’ তিনি সবার সহযোগিতা কামনা করেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, ‘স্থানীয় চেয়ারম্যান এলাকার উন্নয়নে আন্তরিক। অবহেলিত এই অঞ্চলের জন্য তিনি সরকারের নানা দপ্তরে বিভিন্ন সময় দেনদরবার করেন। একজন জনপ্রতিনিধি এমনই হওয়া দরকার। আমরাও সরকারের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করে থাকি।’