মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারি ২০২৬, ৭ মাঘ ১৪৩২

ধর্মীয় শিক্ষকের বদলে সঙ্গীত শিক্ষক নিয়োগ ‘ইসলামবিরোধী এজেন্ডা’: হেফাজত

হাটহাজারী (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি | প্রকাশিতঃ ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫ | ৭:৩৭ অপরাহ্ন


সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ধর্মীয় শিক্ষকের পরিবর্তে সঙ্গীত শিক্ষক নিয়োগের নতুন বিধিমালাকে ‘ইসলামবিরোধী এজেন্ডা’ হিসেবে আখ্যায়িত করে তা বাতিলের দাবি জানিয়েছে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ।

শুক্রবার এক বিবৃতিতে সংগঠনটি হুঁশিয়ারি দিয়েছে, এই গেজেট বাতিল করে ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগের নতুন বিধিমালা করা না হলে তারা ‘রাজপথে গণ-আন্দোলন’ গড়ে তুলবে।

হেফাজতের আমির আল্লামা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী ও মহাসচিব আল্লামা সাজেদুর রহমান যৌথভাবে এই বিবৃতি দেন।

বিবৃতিতে হেফাজত নেতারা বলেন, “ইসলামে বাদ্যযন্ত্রের ব্যবহার নিষিদ্ধ। মুসলিম-অধ্যুষিত দেশে মুসলিম অভিভাবকদের মতামত না নিয়ে তাদের ছেলেমেয়েদের প্রাথমিক শিক্ষায় সঙ্গীত শিক্ষা চাপিয়ে দেওয়ার অধিকার কোনো সরকারের নেই।”

তারা অভিযোগ করেন, “এলজিবিটি ও গানবাদ্য ঢুকিয়ে ধর্মপ্রাণ মুসলিম শিশু-কিশোরদের ইসলামী মূল্যবোধ থেকে দূরে রাখার ডি-ইসলামাইজেশন প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রচেষ্টা পতিত আওয়ামী ফ্যাসিস্ট আমল থেকেই ছিল। দুঃখজনকভাবে অন্তর্বর্তী সরকারের দুর্বলতার সুযোগে সেই পুরনো ইসলামবিরোধী অ্যাজেন্ডাগুলো বাস্তবায়নে নেমেছে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে চেপে বসা পাশ্চাত্যের উচ্ছিষ্টভোগী কিছু সুশীল এনজিওকর্মী।”

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, যখন বাংলা, অংক ও ইংরেজির মতো মৌলিক শিক্ষায় শিক্ষার্থীরা দুর্বল, তখন সঙ্গীত শিক্ষকের পরিবর্তে সরকারের উচিত ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগসহ শিক্ষার মান বাড়াতে মনোযোগ দেওয়া।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে মাদ্রাসাশিক্ষার্থী ও আলেমদের আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে হেফাজত নেতারা বলেন, “ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগের বিধিমালা করা হলে মাদ্রাসাশিক্ষিতদের কর্মসংস্থান ঘটবে। আমরা আশা করি, সরকার অতিসত্বর সঙ্গীত শিক্ষকের পরিবর্তে প্রাথমিক স্তরে ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগের নতুন বিধিমালা করবে। আমরা চাই না আলেম-ওলামার সঙ্গে অন্তর্বর্তী সরকারের কোনো সাংঘর্ষিক পরিস্থিতি তৈরি হোক।”

হেফাজতের যুগ্মমহাসচিব মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী গণমাধ্যমে বিবৃতিটি প্রেরণ করেন।