
ফেসবুকে এক যুবকের দেওয়া ‘উসকানিমূলক’ পোস্টকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে কওমি মাদ্রাসা ও সুন্নি আকিদাপন্থীদের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে শতাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন। শনিবার সন্ধ্যা থেকে রাত পর্যন্ত দফায় দফায় চলা এই সংঘর্ষ, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনায় পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে রাতে উপজেলা প্রশাসন ১৪৪ ধারা জারি করেছে।
এর আগে ওই ফেসবুক পোস্ট দেওয়ার অভিযোগে আরিয়ান ইব্রাহীম (২০) নামে ফটিকছড়ির এক যুবককে আটক করে পুলিশ।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শনিবার দুপুরে চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত জশনে জুলুসে যাওয়ার পথে আরিয়ান ইব্রাহীম হাটহাজারী মাদ্রাসার সামনে থেকে একটি ছবি তুলে ফেসবুকে পোস্ট করেন। পোস্টে তিনি মাদ্রাসার দিকে ‘অশালীন অঙ্গভঙ্গি’ করেন বলে অভিযোগ ওঠে, যা কওমি অঙ্গনে তীব্র উত্তেজনা সৃষ্টি করে। তবে জুলুসে অংশগ্রহণকারীদের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, মাদ্রাসা এলাকা থেকে তাদের গাড়িতে গরম পানি ছোড়া হলে আরিয়ান শুধু সেদিকে আঙ্গুল তুলে ইশারা করেছিলেন।
পোস্টটি ভাইরাল হওয়ার পর কওমিদের দাবির মুখে ফটিকছড়ি থানা পুলিশ শনিবার সন্ধ্যায় জশনে জুলুস থেকে ফেরার পথে আরিয়ানকে আটক করে। তবে এর মধ্যেই সন্ধ্যার পর সুন্নিদের একটি দল হাটহাজারীতে মাদ্রাসার বিরুদ্ধে স্লোগান দিলে নতুন করে উত্তেজনা দেখা দেয়। এর প্রতিবাদে কওমিদের একাংশ হাটহাজারী বাসস্টেশন এলাকায় নাজিরহাট আঞ্চলিক সড়ক অবরোধ করে এবং কয়েকটি গাড়িতে ভাঙচুর চালায়। এরপরই দুই পক্ষের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ শুরু হয়।
সংঘর্ষের পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে শনিবার রাতে হাটহাজারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মুমিন এক আদেশে ১৪৪ ধারা জারি করেন। আদেশে বলা হয়, ‘হাটহাজারী উপজেলাধীন মীরের হাট থেকে এগারো মাইল সাবস্টেশন পর্যন্ত এবং উপজেলা গেট থেকে কৃষি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট পর্যন্ত রাস্তার উভয়পার্শ্বে ও তৎসংলগ্ন এলাকায়’ রোববার বিকেল তিনটা পর্যন্ত সকল প্রকার সভা-সমাবেশ, মিছিল, গণজমায়েত এবং পাঁচ বা ততোধিক ব্যক্তির একত্রে চলাচল নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
এদিকে, আরিয়ানের ফেসবুক প্রোফাইলে ‘ফটিকছড়ি পৌরসভা ৩নং ওয়ার্ড ছাত্রদলের সভাপতি’ পরিচয় লেখা থাকলেও পৌর ছাত্রদলের সভাপতি একরাম উল্লাহ চৌধুরী এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, আরিয়ান ছাত্রদলের কেউ নন। আটকের পর আরিয়ান নিজেও এক ভিডিও বার্তায় তার কাজের জন্য ক্ষমা চেয়েছেন।