
উপমহাদেশের অন্যতম শীর্ষ হাদিস বিশারদ ও চট্টগ্রামের পটিয়া আল জামিয়া আল ইসলামিয়া মাদ্রাসার শায়খুল হাদিস ও প্রধান মুফতি আল্লামা হাফেজ আহমদুল্লাহ মারা গেছেন।
রোববার সকাল ৬টা ৫০ মিনিটে চট্টগ্রাম নগরীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয় বলে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। তার বয়স হয়েছিল ৮৪ বছর।
আল্লামা আহমদুল্লাহ আঞ্জুমানে ইত্তেহাদুল মাদারিস বাংলাদেশের সহ-সভাপতিসহ কয়েকটি ইসলামী সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ছিলেন।
তার মৃত্যুতে দেশের আলেম সমাজে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
মাদ্রাসার বর্তমান মুহতামিম আল্লামা আবু তাহের নদভী জানান, আজ (রোববার) রাত ৯টায় পটিয়া মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর মাদ্রাসার ‘মাকামে আজিজিয়া’ কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে।
আল্লামা আহমদুল্লাহর জন্ম ১৯৪১ সালের ১২ মে চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার নাইখাইন গ্রামে। তিনি জিরি মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা শাহ আহমদ হাসানের নাতি।
স্থানীয় জিরি মাদ্রাসা থেকে দাওরায়ে হাদিস সম্পন্ন করার পর তিনি উচ্চশিক্ষার জন্য পাকিস্তান যান। সেখানে তিনি জামিয়া আশরাফিয়া লাহোর, খাইরুল মাদারেস মুলতান ও দারুল উলুম করাচিতে মাওলানা ইদ্রিস কান্ধলভি ও মুফতি শফী উসমানীর মতো আলেমদের কাছে শিক্ষা লাভ করেন। পাকিস্তানের বর্তমান গ্র্যান্ড মুফতি মুহাম্মদ তাকি উসমানী তার সহপাঠী ছিলেন।
১৯৬৮ সালে দেশে ফিরে তিনি জিরি মাদ্রাসায় শিক্ষকতা শুরু করেন। পরে তিনি পটিয়া মাদ্রাসায় যোগ দেন এবং পরবর্তীতে প্রতিষ্ঠানটির প্রধান মুফতি ও শায়খুল হাদিসের দায়িত্ব পান।
শিক্ষকতার পাশাপাশি তিনি ইসলামী বিষয়ে বেশ কয়েকটি গ্রন্থ রচনা করেছেন। এর মধ্যে ‘যুগোপযোগী দশ মাসায়েল’, ‘মাসায়েলে রমজান’ ও দুই খণ্ডে প্রকাশিত ‘মাশায়েখে চাটগামী’ উল্লেখযোগ্য।