
দীর্ঘ সাড়ে তিন দশক পর চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (চাকসু) নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। বুধবার সকাল সাড়ে ৯টা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঁচটি ভবনে একযোগে ভোট গ্রহণ শুরু হয়েছে, যা চলবে বিকেল ৪টা পর্যন্ত। এই নির্বাচনকে আগামী জাতীয় নির্বাচনের জন্য একটি ‘মহড়া’ হিসেবে দেখছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মুহাম্মদ ইয়াহইয়া আখতার।
ভোট শুরুর আগে সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইটি ভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে উপাচার্য মুহাম্মদ ইয়াহইয়া আখতার বলেন, “এটি বহুল প্রতীক্ষিত একটি নির্বাচন। প্রায় তিন যুগ পর এই নির্বাচন হচ্ছে। সব অংশীজনের সঙ্গে আলোচনা করে আমরা সুশৃঙ্খলভাবে নির্বাচনের আয়োজন করেছি। শিক্ষার্থীরাই এই নির্বাচন চেয়েছে এবং তারাই সুন্দরভাবে প্রচার চালিয়ে নির্বাচনের অনুকূল পরিবেশ তৈরি করেছে। এই কৃতিত্ব তাদের।”
নিরাপত্তা ও অন্যান্য প্রস্তুতির কথা জানিয়ে উপাচার্য আরও বলেন, “এটি জাতীয় নির্বাচনের জন্য একটি অনুকূল পরিবেশ তৈরি এবং মহড়া হিসেবে বিবেচিত হবে।”
এবারের চাকসু নির্বাচনে ২৭ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের আইটি ভবন, নতুন কলা ভবন, বিজ্ঞান, সমাজবিজ্ঞান ও বাণিজ্য অনুষদ ভবনের ৬০টি কক্ষে প্রায় ৭০০টি বুথে ভোট গ্রহণ চলছে। নির্বাচনে ১৩টি প্যানেল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে, যেখানে সহসভাপতি (ভিপি) পদে ২৪ জন এবং সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদে ২২ জন প্রার্থী রয়েছেন।
ভোটের স্বচ্ছতা ও প্রক্রিয়া নিয়ে উপ-উপাচার্য কামাল উদ্দিন বলেন, “আমরা ডাকসু নির্বাচনকে অনুসরণ করছি না। প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয় স্বায়ত্তশাসিত। তবে আমরা তাদের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়েছি। আমরা ছবিযুক্ত ভোটার তালিকা করেছি, যা অন্য কোনো বিশ্ববিদ্যালয় করেনি। ভোট গণনা দ্রুত ও নির্ভুল করতে পর্যাপ্ত ওএমআর মেশিন রাখা হয়েছে।”
কামাল উদ্দিন এই নির্বাচনকে ‘অন্তর্ভুক্তিমূলক’ উল্লেখ করে বলেন, “শুধু কে কাকে ভোট দিচ্ছে, তা ছাড়া পুরো প্রক্রিয়ার সঙ্গে আপনারাও (সাংবাদিক) আমাদের সহযাত্রী। আমরা শতভাগ স্বচ্ছভাবে ভোট গণনা শেষে ফল ঘোষণা করতে চাই। নিখুঁতভাবে কাজটি শেষ করতে যতটুকু যৌক্তিক সময় প্রয়োজন, ততটুকু দিতে হবে।”