
চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার পারকি সমুদ্র সৈকতে নির্মাণাধীন পর্যটন কমপ্লেক্স থেকে প্রায় ২৫ লাখ টাকার ভারী বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম রহস্যজনকভাবে উধাও হয়ে গেছে। বুধবার (১৫ অক্টোবর) সকালে বিষয়টি প্রকাশ্যে এলে এটিকে সাধারণ ‘চুরি’ বলে অভিহিত করা হলেও ঘটনার পারিপার্শ্বিকতা এবং ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের অভিযোগ কর্তৃপক্ষের দিকেই সন্দেহের আঙুল তুলেছে। এত বিপুল পরিমাণ ভারী মালামাল কারা, কীভাবে সরাল, তা নিয়ে সৃষ্টি হয়েছে বড় ধরনের প্রশ্ন।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, পর্যটন কমপ্লেক্সের বিদ্যুৎ সাব-স্টেশন স্থাপনের দায়িত্বে থাকা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স শরীফ অ্যান্ড সন্স-এর সাইট ম্যানেজার আহমেদ আলী খান গত ১৩ সেপ্টেম্বর অসুস্থতার কারণে ছুটিতে যান। বুধবার সকালে কর্মস্থলে ফিরে তিনি সাব-স্টেশনের তালা খুলে দেখতে পান ভেতরের প্রায় ২৫ লাখ টাকা মূল্যের ভারী বৈদ্যুতিক তার, বিভিন্ন সামগ্রী এবং একটি টেবিল ফ্যানসহ অন্যান্য সরঞ্জাম নেই। এ ঘটনায় আহমেদ আলী খান আনোয়ারা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, সাব-স্টেশন কক্ষের উত্তর পাশের দেয়ালের একটি সুড়ঙ্গ ভেঙে মালামালগুলো সরানো হয়েছে। কিন্তু বিস্ময়করভাবে, ঘটনার পর সেই সুড়ঙ্গপথটি পুনরায় ইট দিয়ে গেঁথে বন্ধ করে দেওয়া হয়। চুরির এমন আলামত ঘটনাটিকে আরও রহস্যময় করে তুলেছে। পেশাদার চোরেরা এত সময় নিয়ে আলামত নষ্ট করতে সুড়ঙ্গ বন্ধ করে দেবে, এমনটা অস্বাভাবিক বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এই ঘটনায় পর্যটন কর্পোরেশনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং কর্মকর্তাদের ভূমিকা নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন তুলেছেন মেসার্স শরীফ অ্যান্ড সন্স-এর স্বত্বাধিকারী শিব্বিরউজ্জামান শিব্বির। তিনি একুশে পত্রিকাকে বলেন, “আমাদের দায়িত্ব শুধু কাজ সম্পাদন করা। পুরো প্রকল্পের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব পর্যটন কর্পোরেশন কর্তৃপক্ষের। সেখানে তাদের নিজস্ব নিরাপত্তা ব্যবস্থা রয়েছে। যেসব মালামাল উধাও হয়েছে, সেগুলো অত্যন্ত ভারী এবং একদিনে বা গোপনে নিয়ে যাওয়া প্রায় অসম্ভব। এটি কর্তৃপক্ষের প্রত্যক্ষ মদদ ছাড়া কিছুতেই সম্ভব নয়।”
এদিকে, অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে পর্যটন কর্পোরেশনের উপসহকারী প্রকৌশলী সম্পদ রায় প্রথমে মালামাল চুরির বিষয়টি স্বীকার করেন। তবে বিস্তারিত জানতে চাইলে তিনি পরে কথা বলবেন বলে ফোন কেটে দেন এবং এরপর তার সঙ্গে আর যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তার এই এড়িয়ে যাওয়ার আচরণ রহস্য আরও ঘনীভূত করেছে।
আনোয়ারা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ মনির হোসেন জানান, পর্যটন কমপ্লেক্স থেকে মালামাল চুরির বিষয়ে একটি অভিযোগ তারা পেয়েছেন। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এ ব্যাপারে বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান সায়েমা শাহীন সুলতানাকে অবহিত করা হলে তিনি ঘটনাটিকে গুরুত্ব সহকারে দেখার আশ্বাস দেন এবং সংশ্লিষ্টদের তলব করা হবে বলে জানান।