সোমবার, ১৯ জানুয়ারি ২০২৬, ৬ মাঘ ১৪৩২

বাড়িভাড়া-চিকিৎসা ভাতা বৃদ্ধি: সাতকানিয়ায় ১০ হাজার শিক্ষকের বিক্ষোভ

সাতকানিয়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি | প্রকাশিতঃ ২০ অক্টোবর ২০২৫ | ১:২৯ অপরাহ্ন


বেতন-ভাতা বৃদ্ধিসহ ৭ দফা দাবিতে চট্টগ্রামের সাতকানিয়ার কেরানীহাট এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছেন বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রায় ১০ হাজার শিক্ষক-কর্মচারী।

সোমবার সকালে বাংলাদেশ আদর্শ শিক্ষক ফেডারেশন, দক্ষিণ জেলার উদ্যোগে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে দক্ষিণ চট্টগ্রামের কর্ণফুলী থেকে লোহাগাড়া পর্যন্ত বিভিন্ন উপজেলার বেসরকারি স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষকরা অংশ নেন।

শিক্ষক নেতারা জানান, সমাবেশের আগে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি সাতকানিয়া রাস্তার মাথা মডেল মসজিদ থেকে শুরু হয়ে বান্দরবান রাস্তার মাথার গোল চত্বরে গিয়ে শেষ হয়।

পরে বাংলাদেশ আদর্শ শিক্ষক ফেডারেশন, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলার সভাপতি অধ্যক্ষ মাওলানা মুহাম্মদ ইসমাইল হক্কানির সভাপতিত্বে ও শিক্ষক নেতা অধ্যাপক মুহাম্মদ আবু তাহেরের সঞ্চালনায় সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

সমাবেশে বক্তব্য দেন ফেডারেশনের উপদেষ্টা অধ্যক্ষ মাওলানা মুহাম্মদ বদরুল হক, বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষক পরিষদ চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলার সভাপতি অধ্যক্ষ মাওলানা মুহাম্মদ মোশাররফ হোসাইন, বাংলাদেশ কলেজ শিক্ষক পরিষদ চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলার সভাপতি অধ্যাপক নজরুল ইসলাম, বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষক পরিষদ দক্ষিণ জেলার সেক্রেটারি অধ্যক্ষ মাওলানা মুহাম্মদ মুনিরুল আলম, লোহাগাড়া উপজেলার মাদ্রাসা শিক্ষক পরিষদের সভাপতি অধ্যক্ষ মাওলানা মুহাম্মদ খালেদ জমীল এবং চন্দনাইশ উপজেলার মাদ্রাসা শিক্ষক পরিষদের সভাপতি অধ্যক্ষ মাওলানা মুহাম্মদ হোসাইন রুমী।

বক্তারা বলেন, “ন্যায্য দাবি আদায়ে আমরা দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন-সংগ্রাম করে আসছি। কিন্তু এখনো আমাদের দাবি পূরণ হয়নি। এ কারণে আমরা মানবিক সংকটে পড়েছি। এই দুর্মূল্যের বাজারে জীবনযাত্রার ব্যয় মেটানো দিনদিন কঠিন হয়ে পড়ছে।”

তারা অবিলম্বে ২০ শতাংশ বাড়িভাড়া, মাসিক ১ হাজার ৫০০ টাকা চিকিৎসা ভাতা এবং কর্মচারীদের জন্য ৭৫ শতাংশ উৎসব ভাতা বাস্তবায়নের দাবি জানান।

বক্তারা আরও বলেন, “শিক্ষকরা জাতি গঠনের কারিগর, অথচ তাদের প্রতি সরকারের অবহেলা দুঃখজনক। আমরা ক্লাসরুমে থাকতে চাই, কিন্তু বাধ্য হয়ে আমাদের এখন রাজপথে নামতে হয়েছে।”

দাবি বাস্তবায়ন না হলে ভবিষ্যতে বৃহত্তর আন্দোলনের কর্মসূচি দেওয়া হবে বলে সমাবেশ থেকে হুঁশিয়ারি দেন শিক্ষক নেতারা।