
চট্টগ্রামের হাটহাজারী পৌরসভায় উপজেলা পরিষদের একটি ‘অননুমোদিত’ ও ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ মার্কেটের ছাদে নতুন করে স্থাপনা নির্মাণ করা হচ্ছে; যা বড় ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি করেছে বলে স্থানীয়রা মনে করছেন।
প্রায় ২০ দিন ধরে নির্মাণকাজ চললেও প্রশাসন ব্যবস্থা না নেওয়ায় উল্টো ‘সহযোগিতার’ অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয়রা।
দুর্ঘটনা এড়াতে জরাজীর্ণ মার্কেটটি অপসারণের দাবিতে এলাকাবাসীর পক্ষে সম্প্রতি চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক ও চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ) বরাবরে আবেদন করা হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, হাটহাজারী-নাজিরহাট আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশে ১ নম্বর খাস খতিয়ানের সম্পত্তিতে অবস্থিত উপজেলা পরিষদ মার্কেটটি ১৯৮৫ সালে কোনো অনুমোদন ছাড়াই নির্মাণ করা হয়েছিল। দীর্ঘদিনে মার্কেটটির বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখা দিয়েছে এবং ছাদের আস্তর খসে পড়ছে।
এর মধ্যেই ‘ওলামা পরিষদ’ নামে একটি সংগঠন ওই ঝুঁকিপূর্ণ ছাদের ওপর নতুন করে পাকা স্থাপনা তৈরি করছে, যার নির্মাণকাজ প্রায় ৯০ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে।
এ ব্যাপারে হাটহাজারী ওলামা পরিষদের সভাপতি মাওলানা জসিম উদ্দিন স্থাপনা তৈরির কথা স্বীকার করেছেন। তিনি গণমাধ্যমকর্মীদের বলেন, “বিষয়টি নিয়ে আগের ইউএনও এবিএম মশিউজ্জামানের সাথে একাধিকবার বৈঠক করেছি। আমরা বাইরে ওলামা পরিষদের অফিসের জন্য জায়গা দেখছি। বর্তমানে উপজেলা পরিষদের ছাদে অস্থায়ীভাবে স্থাপনাটি তৈরী করা হচ্ছে।”
জানতে চাইলে হাটহাজারী পৌরসভার প্রশাসক শরীফ উদ্দীন জানান, মার্কেটটি উপজেলা পরিষদের হওয়ায় পৌরসভার অনুমতির সুযোগ নেই। তিনি বলেন, “বিষয়টি নির্বাহী কর্মকর্তার সাথে কথা বললে ভালো জানা যাবে। পৌরসভার কিছু করণীয় থাকলে তা করা হবে।”
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শাহেদ আরমান বলেন, “বিষয়টি আমি খোঁজ নিয়ে দেখছি।”
হাটহাজারী উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মু. আবদুল্লাহ আল মুমিন জানান, তিনি বিষয়টি জানার পর কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছিলেন।
নির্দেশনার পরও সোমবার কাজ চলার বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে ইউএনও বলেন, “বিষয়টি দেখার জন্য আমি উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তাকে (পিআইও) দায়িত্ব দিয়েছিলাম।”
এ বিষয়ে পিআইও নিয়াজ মোর্শেদ জানান, তিনি ওলামা পরিষদের লোকজনকে ইউএনও অফিসে আসতে বলেছেন।
এ ব্যাপারে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মো. সাইফুল ইসলামের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি এ প্রতিবেদককে বলেন, “বিষয়টি এখনি আমি খোঁজ খবর নিয়ে দেখছি।”