
নথিতে দুইটি ‘২’ ঘষামাজা করে প্রায় ৪০ কোটি টাকা রাজস্ব ফাঁকির অপচেষ্টার ঘটনায় চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনে (চসিক) তোলপাড় চলছে। এই ঘটনায় দুদকের অভিযানের পর এবার দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে সংস্থাটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ মুহম্মদ তৌহিদুল ইসলামকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছেন মেয়র ডা. শাহাদাত। সোমবার (২৭ অক্টোবর) মেয়র এই নোটিশ ইস্যু করেন এবং জবাব দেওয়ার জন্য ১৫ কার্যদিবস সময় দেন।
নোটিশে বলা হয়েছে, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের ৪১ নম্বর ওয়ার্ডের একটি হোল্ডিংয়ের বার্ষিক মূল্যায়নে ফিল্ড বুকে ঘষামাজা করে ২৫ কোটি ৬৭ লাখ ৪ হাজার ৭৫০ টাকা থেকে ২০ কোটি টাকা কমিয়ে ৫ কোটি ৬৭ লাখ ৪ হাজার ৭৫০ টাকা দেখানো হয়। পরে রিভিউ অ্যাসেসম্যান্ট বোর্ডের মাধ্যমে তা ৫৮ লাখ টাকায় চূড়ান্ত নিষ্পত্তি করা হয়।
একইভাবে ৩৮ নম্বর ওয়ার্ডের আরেকটি হোল্ডিংয়ের ফিল্ড বুকে ঘষামাজা করে ২৬ কোটি ৩৮ লাখ ১৯ হাজার ২৫০ টাকা থেকে ২০ কোটি টাকা কমিয়ে ৬ কোটি ৩৮ লাখ ১৯ হাজার ২৫০ টাকা দেখানো হয় এবং রিভিউ অ্যাসেসম্যান্ট বোর্ডের মাধ্যমে ২ কোটি টাকায় চূড়ান্ত নিষ্পত্তি করা হয়।
নোটিশে উল্লেখ করা হয়, “অ্যাসেসম্যান্টের এই ঘষামাজার অনিয়মের মাধ্যমে অ্যাসেসম্যান্ট ভ্যালু ব্যাপকহারে কমানোর কারণে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন ব্যাপকভাবে রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত হয়েছে।”
এ সংক্রান্ত নথি পর্যালোচনায় দেখা যায়, অনিয়মের বিষয়টি ২০২৩ সালের ২৮ মে কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছিল। শেখ মুহম্মদ তৌহিদুল ইসলাম ওই সময় থেকে গত ৫ সেপ্টেম্বর (২০২৫) পর্যন্ত সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
নোটিশে মেয়র উল্লেখ করেন, “আপনি… উক্ত অভিযোগের বিষয়ে দ্রুততার সাথে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের ব্যবস্থাকরণসহ দোষী ব্যক্তিদের শনাক্তকরণ এবং বর্ণিত হোল্ডিংসমূহের অ্যাসেসম্যান্ট রিভিউ বাতিলপূর্বক কর নির্ধারণের বিষয়ে পুনঃরিভিউর জন্য কোনো পদক্ষেপ নেননি। এতে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন বিপুল পরিমাণ রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত হয়েছে এবং দোষী ব্যক্তিদের যথাসময়ে কোনো শাস্তির আওতায় আনা সম্ভব হয়নি।”
নোটিশ অনুযায়ী, শেখ মুহম্মদ তৌহিদুল ইসলাম গত ৬ সেপ্টেম্বর প্রশিক্ষণের জন্য কর্মস্থল ত্যাগ করার পর কর্তৃপক্ষ যথাযথ তদারকির মাধ্যমে দ্রুত তদন্ত প্রতিবেদন গ্রহণ করে। অভিযুক্তদের বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং অ্যাসেসম্যান্টসমূহ বাতিল করে পুনরায় রিভিউয়ের মাধ্যমে নিষ্পত্তির নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাকে পাঠানো নোটিশে আরও বলা হয়, “সুদীর্ঘ সময়ে আপনি উল্লিখিত বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ না করায় করপোরেশন বড় ধরনের রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত হয়েছে, যাতে স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) আইন, ২০০৯ এর ৬২(২) ধারা অনুযায়ী আপনার দায়িত্বে অবহেলার বিষয়টি সুস্পষ্টভাবে প্রতীয়মান।”
এই দায়িত্ব অবহেলার বিষয়ে নোটিশ প্রাপ্তির ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে শেখ মুহম্মদ তৌহিদুল ইসলামকে কারণ দর্শানোর জন্য নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।