সোমবার, ১৯ জানুয়ারি ২০২৬, ৬ মাঘ ১৪৩২

ব্যানার ছেঁড়ার জেরে চট্টগ্রামে গোলাগুলি, ঝরল ছাত্রদল কর্মীর প্রাণ

একুশে প্রতিবেদক | প্রকাশিতঃ ২৮ অক্টোবর ২০২৫ | ১০:৪৯ পূর্বাহ্ন


চট্টগ্রামে যুবদলের দুই পক্ষের মধ্যে গভীর রাতে গোলাগুলির ঘটনায় মো. সাজ্জাদ (২২) নামে এক ছাত্রদল কর্মী নিহত এবং অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। সোমবার দিবাগত রাত দুইটার দিকে নগরের বাকলিয়া এক্সেস রোডের বগার বিলমুখ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ ও দলীয় সূত্র জানিয়েছে, ব্যানার ছেঁড়াকে কেন্দ্র করে এই সংঘাতের সূত্রপাত হয়।

নিহত মো. সাজ্জাদ নগর যুবদলের বিলুপ্ত কমিটির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক (বহিষ্কৃত) এমদাদুল হক বাদশার অনুসারী।

দলীয় সূত্র বলছে, এমদাদুল হক বাদশা ও নগর ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি গাজী সিরাজ উল্লাহর অনুসারীদের মধ্যে এই গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। গোলাগুলির ঘটনায় জড়িত হিসেবে নাম আসা গাজী সিরাজ উল্লাহর অনুসারী বোরহান উদ্দিন নগর ছাত্রদলের সাবেক আপ্যায়নবিষয়ক সম্পাদক। তবে তিনি এখন নিজেকে যুবদলের সংগঠক দাবি করেন, যদিও বর্তমানে যুবদলের কোনো কমিটি নেই।

গোলাগুলির বিষয়ে জানতে চাইলে বাকলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইখতিয়ার উদ্দিন বলেন, “ব্যানার ছেঁড়াকে কেন্দ্র করে ঘটনার সূত্রপাত বলে জানা গেছে। গুলিতে একজন নিহত হয়েছেন। আহত আছেন বেশ কয়েকজন। ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।”

দলীয় সূত্র বলছে, ব্যানার ছেঁড়াকে কেন্দ্র করে এমদাদুল হক বাদশার অনুসারী যুবদল কর্মী মো. জসিমকে সোমবার রাতে গাজী সিরাজ উল্লাহর অনুসারী বোরহান উদ্দিন ও নজরুল ইসলাম সোহেল তুলে নিয়ে যান।

মো. জসিম সাংবাদিকদের বলেন, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ও নগর বিএনপির সাবেক সভাপতি শাহাদাত হোসেন তার ছবি ব্যবহার করে নগরের বিভিন্ন স্থানে সন্ত্রাসী-চাঁদাবাজদের টাঙানো ব্যানার তুলে ফেলার নির্দেশ দেন। এরপর বাকলিয়াসহ বিভিন্ন এলাকায় লাগানো ব্যানারগুলো তিনি (জসিম) খুলে ফেলেন। এর মধ্যে শাহাদাত হোসেন ও গাজী সিরাজ উল্লাহর ছবিসহ বোরহান উদ্দিনের ব্যানার ছিল। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে সোমবার রাতে ৮ থেকে ১০ জনের একটি দল তাকে তুলে নিয়ে যায় এবং আটকে রেখে মারধর করে।

দলীয় সূত্র বলছে, মো. জসিমকে আটকে রাখার খবর ছড়িয়ে পড়লে এমদাদুল হক বাদশার অনুসারীরা তাকে ছাড়িয়ে আনতে যান। এ সময় বাকলিয়া এক্সেস রোডে তাদের লক্ষ্য করে গুলি ছোড়া হয়। পরে আহত অবস্থায় মো. সাজ্জাদকে হাসপাতাল আনা হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তার বুকে গুলি লেগেছিল।

জানতে চাইলে এমদাদুল হক বাদশা বলেন, “সিরাজের ছবি দিয়ে ব্যানার টাঙিয়েছিলেন বোরহান। মেয়র শাহাদাতের নির্দেশে ব্যানারগুলো খুলে ফেলায় জসিমকে ধরে নিয়ে যান বোরহানরা। ছাড়িয়ে আনতে গেলে গুলি করেন।”