
দেশের সব আদালতে বিচারকের বাসস্থান ও যাতায়াতের সময় নিরাপত্তা বাহিনী নিযুক্ত করাসহ দুই দফা দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন। এই দাবি পূরণে ৪৮ ঘণ্টার সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন বিচারকেরা। তা না হলে আগামী রোববার থেকে তাঁরা একযোগে ‘কলমবিরতি’ পালনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
শুক্রবার (১৪ নভেম্বর) বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মো. আমিরুল ইসলাম ও মহাসচিব মুহাম্মদ মাজহারুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এই দাবি জানানো হয়।
বিচারকদের দ্বিতীয় দাবিটি হলো, রাজশাহীর ঘটনায় বিচারকের নিরাপত্তা নিশ্চিতে ‘অবহেলার’ সঙ্গে সম্পৃক্ত এবং গ্রেপ্তার করা আসামিকে (লিমন মিয়া) আইনবহির্ভূতভাবে মিডিয়ার সামনে উপস্থাপন করে ‘অপেশাদারত্ব’ প্রদর্শনে জড়িত পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।
রাজশাহীতে গতকাল বৃহস্পতিবার জেলা জজ মোহাম্মদ আবদুর রহমানের বাসভবনে ছুরিকাঘাতে তাঁর ১৭ বছরের ছেলে তাওসিফ রহমানকে হত্যা করা হয়। এই হামলায় বিচারকের স্ত্রী তাসমিন নাহারও (৪৪) আহত হন। এ ঘটনায় বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন গভীর শোক ও ক্ষোভ জানিয়েছে। হামলাকারী লিমন মিয়া (৩৫) বর্তমানে পুলিশের হেফাজতে চিকিৎসাধীন।
বিবৃতিতে বিচারকেরা বলেছেন, দেশের প্রত্যেক আদালত বা ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণ, এজলাস, বিচারকদের বাসভবন ও গাড়িতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের কাছে সুপ্রিম কোর্ট থেকে বারবার চিঠি দেওয়া হলেও সরকার কোনো ‘দৃশ্যমান পদক্ষেপ’ নেয়নি।
বিচার বিভাগের সদস্যরা রাষ্ট্রের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ দায়িত্ব পালন করলেও তাঁরা ও তাঁদের পরিবার নিরাপত্তাহীন বলে ওই বিবৃতিতে জানানো হয়। অ্যাসোসিয়েশন আরও জানায়, জেলা পর্যায়ের সব বিচারকের জন্য সরকারি আবাসন ও পরিবহনব্যবস্থা নেই। বিশেষ করে চৌকি আদালতে বিচারকদের বাধ্য হয়ে অরক্ষিত বাসায় ভাড়া থাকতে হয় এবং রিকশা-ভ্যানে করে, এমনকি হেঁটেও যাতায়াত করতে হয়।
আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে বিচারকদের কর্মের পরিবেশ ও সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি পূরণ না হলে রোববার থেকে সারা দেশে একযোগে কলমবিরতি পালন করা হবে বলে বিচারকেরা জানিয়েছেন। এ ছাড়া প্রতিবাদ হিসেবে রোববার দেশের সব বিচারক নিজ নিজ কর্মস্থলে কালো ব্যাজ পরবেন বলেও ওই বিবৃতিতে জানানো হয়।