শনিবার, ১৭ জানুয়ারি ২০২৬, ৪ মাঘ ১৪৩২

রাবার ড্যাম ‘পলিতে ঢাকা’, ৬০ হাজার একর জমিতে সেচ নিয়ে ‘অনিশ্চয়তা’

এম. জিয়াবুল হক | প্রকাশিতঃ ১৫ নভেম্বর ২০২৫ | ৮:১৮ অপরাহ্ন


কক্সবাজারের চকরিয়ায় মাতামুহুরী নদীর মিঠাপানি আটকিয়ে সেচ সুবিধা নিশ্চিত করতে নির্মিত পানি উন্নয়ন বোর্ডের দুটি রাবার ড্যাম পলিমাটিতে চাপা পড়ে তলিয়ে আছে। উপজেলার পালাকাটা রামপুর ও বাঘগুজারা পয়েন্টে নির্মিত ড্যাম দুটি পলি জমে অকার্যকর থাকায় আসন্ন বোরো মৌসুমে চকরিয়া ও পেকুয়া উপজেলার প্রায় ৬০ হাজার একর জমিতে চাষাবাদ নিয়ে কৃষকদের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।

চকরিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ শাহনাজ ফেরদৌসী বলেছেন, মাতামুহুরী নদীর রাবার ড্যাম দুটি ফুলানোর মাধ্যমে নিরবচ্ছিন্ন সেচ সুবিধা নিয়ে চকরিয়া উপজেলার কৃষকেরা প্রতিবছর শুষ্ক মৌসুমে বোরোধান ও রবিশস্য চাষাবাদ করে আসছেন। এবছরও চকরিয়া উপজেলার ৪৪ হাজার ৫০০ একর এবং পেকুয়া উপজেলার ১৫ হাজার একর সহ মোট ৬০ হাজার একর জমিতে বোরোধান চাষের প্রস্তুতি নিচ্ছেন কৃষকেরা। অনেক এলাকায় বোরোধানের বীজতলা তৈরির কাজও শুরু হয়েছে।

কৃষিবিদ শাহনাজ ফেরদৌসী বলেন, “বর্তমানে রাবার ড্যাম দুটি পলিমাটি চাপা পড়ে তলিয়ে থাকার কারণে চাষাবাদে মিঠাপানির নিরবচ্ছিন্ন সেচ সুবিধা নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষকেরা। এমন পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য দ্রুতসময়ে চাপাপড়া পলিমাটি অপসারণ করে রাবার ড্যাম দুটি ফুলানোর ব্যবস্থা নিতে কক্সবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের সংশ্লিষ্টদের নজরদারি কামনা করছি।”

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ১৯৭৩ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান চকরিয়া উপজেলাকে সবুজ বিপ্লবের আওতায় আনতে সর্বপ্রথম মাতামুহুরী নদীর দুই পয়েন্টে অস্থায়ী মাটির ক্রসবাঁধ নির্মাণের উদ্যোগ নেন। ২০০৭ সাল পর্যন্ত প্রতিবছর শুষ্ক মৌসুমে এই বাঁধ তৈরি করে প্রায় ৬০ হাজার একর জমিতে চাষাবাদ নিশ্চিত করা হতো। পরবর্তী ২০০৯ সালে পানি উন্নয়ন বোর্ড ৬০ কোটি টাকা ব্যয়ে নদীর দুই পয়েন্টে স্থায়ীভাবে রাবার ড্যাম দুটি নির্মাণ করে।

জানতে চাইলে কক্সবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী (এসডি চকরিয়া উপজেলা এরিয়া) মো. জামাল মুর্শিদ বলেন, পলিমাটি চাপা পড়ে রাবার ড্যাম দুটি ডুবে থাকলেও কৃষকের নিরবচ্ছিন্ন সেচ সুবিধা নিশ্চিতে পাউবোর তরফ থেকে যথাসময়ে ড্যাম দুটি ফুলানোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি জানান, পাউবোর প্রকৌশলীরা ইতোমধ্যে রাবার ড্যাম দুটি পরিদর্শন করে প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন।

মোঃ জামাল মুর্শিদ বলেন, “এখনো চকরিয়া উপজেলায় পুরোদমে বোরোধান চাষ শুরু হয়নি, তবে রবিশস্যের সবজি চাষে কৃষকেরা নদী থেকে মেশিন বসিয়ে সেচ সুবিধা নিতে পারছেন। তবে চাষের ভর মৌসুম সন্নিকটে আসার আগে অর্থাৎ ডিসেম্বর মাসের শুরুতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে রাবার ড্যাম দুটি ফুলানোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।” তিনি জানান, সেইজন্য টেন্ডারের মাধ্যমে ঠিকাদার নিয়োগ দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে এবং চাষাবাদে সেচ সুবিধা নিয়ে কৃষকদের কোনো অনিশ্চয়তায় পড়তে হবে না বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ আতিকুর রহমান বলেন, প্রতিবছর শুষ্ক মৌসুমে কৃষকের সেচ সুবিধা নিশ্চিতকল্পে উপজেলা প্রশাসনের সিদ্ধান্ত ক্রমে মাতামুহুরী নদীর রাবার ড্যাম দুটি ফুলানো হয়। এবছরও চাষাবাদের শুরুতে ড্যাম দুটি ফুলানোর পদক্ষেপ নিতে কক্সবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের সংশ্লিষ্টদের জানানো হয়েছে।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, যথাসময়ে রাবার ড্যাম দুটি ফুলানোর মাধ্যমে নদীর মিঠাপানির উৎস আটকিয়ে সেচ সুবিধা নিশ্চিত হলে চাষাবাদ নিয়ে কৃষকদের অনিশ্চয়তা কেটে যাবে।