
চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় ফসলি জমির মাটি কেটে পরিবেশ ও কৃষি বিপর্যয় সৃষ্টির অভিযোগে ‘সোনার বাংলা’ নামের একটি ইটভাটাকে তিন লাখ টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। একই সঙ্গে সাত দিনের মধ্যে কাটা গর্ত ভরাট করে জমি সমতল করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শনিবার দুপুরে উপজেলার নলুয়া ইউনিয়নের দক্ষিণ মরফলা এলাকায় অবস্থিত ওই ইটভাটায় এই অভিযান পরিচালনা করা হয়।
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সামছুজ্জামানের নেতৃত্বে পরিচালিত এই অভিযানে কৃষি জমি থেকে অবৈধভাবে মাটি কাটার প্রমাণ পাওয়া যায়। ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্র জানায়, ইটভাটার আশপাশের একাধিক ফসলি জমি থেকে ২০ থেকে ৩০ ফুট গভীর করে মাটি কাটা হয়েছে। এসব মাটি সরাসরি ইটভাটার কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছিল। অতিরিক্ত গভীর গর্তের কারণে পাশের আবাদি জমিগুলো ধসে পড়ার এবং ধানসহ বিভিন্ন ফসলের ব্যাপক ক্ষতির ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন-২০১০ এর সংশ্লিষ্ট ধারায় ইটভাটা কর্তৃপক্ষকে তিন লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। পাশাপাশি ভবিষ্যতে আর মাটি না কাটার অঙ্গীকার করে ইটভাটার পক্ষ থেকে লিখিত মুচলেকা নেওয়া হয়েছে। নির্দেশনা অমান্য করলে আরও কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার সতর্কবার্তাও দেওয়া হয়।
অভিযানের বিষয়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সামছুজ্জামান বলেন, ফসলি জমি থেকে ২০-৩০ ফুট গভীর করে মাটি কাটার কারণে আশপাশের জমি ধসে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। এ কারণে জরিমানা করার পাশাপাশি দ্রুত গর্ত ভরাটের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
কৃষি বিশেষজ্ঞদের মতে, ফসলি জমির ওপরের উর্বর মাটি বা টপসয়েল কেটে নেওয়া হলে জমি দীর্ঘদিন চাষের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। এতে জমির পানি ধারণক্ষমতা নষ্ট হয় এবং বোরো ও আমন মৌসুমে সেচ সংকট দেখা দেয়। এছাড়া গভীর গর্তে বর্ষাকালে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে শিশু ও গবাদিপশুর দুর্ঘটনার আশঙ্কাও বাড়ে।
উল্লেখ্য, একই ইটভাটাকে এর আগে গত ১৭ নভেম্বর অবৈধভাবে কৃষি জমি দখল করে ইটভাটা স্থাপন ও পরিচালনার দায়ে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছিল। সে সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট খোন্দকার মাহমুদুল হাসানের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত ইট প্রস্তুত ও ভাটা নিয়ন্ত্রণ আইন-২০১৩ এর ১৮ ধারায় ওই দণ্ড দিয়েছিলেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, বারবার জরিমানা হলেও ইটভাটা কর্তৃপক্ষ অনিয়ম বন্ধ না করে সুযোগ বুঝে আবারও ফসলি জমির মাটি কেটে নিচ্ছে।
এ বিষয়ে সাতকানিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খোন্দকার মাহমুদুল হাসান বলেন, ফসলি কৃষিজমি ও পরিবেশ রক্ষা প্রশাসনের অগ্রাধিকার। অবৈধভাবে কৃষি জমির মাটি কেটে ইটভাটা পরিচালনা কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না। ভবিষ্যতে নির্দেশনা অমান্য করলে ইটভাটা বন্ধসহ আরও কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।