
সত্তরের দশকের তুখোড় ছাত্রনেতা, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি আলী আকবর চৌধুরী মারা গেছেন। শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) সকাল ৯টা ৪৬ মিনিটে চট্টগ্রামের ন্যাশনাল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। তার বয়স হয়েছিল ৭৪ বছর।
আলী আকবর চৌধুরী স্ত্রী নুর জাহান আক্তার দীপ্তি, ছেলে আহমেদ জামিল চৌধুরী ও মেয়ে তাসনুভা তাজিন চৌধুরীসহ অসংখ্য আত্মীয়-স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। তার বাবার নাম আহমেদ মিয়া সওদাগর ও মা গোলচেহেরা খাতুন।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, শনিবার বাদ জোহর সীতাকুণ্ডের বারো আউলিয়ার হাফিজ জুট মিল মাঠে মরহুমের প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর রাঙ্গুনিয়ার মরিয়ম নগরে বাদ মাগরিব দ্বিতীয় জানাজা শেষে তাকে দাফন করা হয়।
বাবার অসুস্থতা ও মৃত্যু প্রসঙ্গে ছেলে আহমেদ জামিল চৌধুরী জানান, গত শনিবার আলী আকবর চৌধুরী স্ট্রোক করেছিলেন, কিন্তু পরিবারের সদস্যরা প্রথমে সেটিকে গ্যাস্ট্রিকের ব্যথা মনে করেছিলেন। আলী আকবর চৌধুরী নিজেও বুকে জ্বালাপোড়ার কথা বলছিলেন। মঙ্গলবার ব্যথা তীব্র হলে তাকে চিকিৎসকের কাছে নেওয়া হয়। সেখানে ইসিজি রিপোর্ট দেখে চিকিৎসক নিশ্চিত করেন যে তিনি স্ট্রোক করেছেন।
জামিল চৌধুরী আরও জানান, মঙ্গলবারই তাকে ন্যাশনাল হাসপাতালের সিসিইউতে ভর্তি করা হয়। বুধবার সকালে কথা বলার সময় তিনি দ্বিতীয়বার স্ট্রোক করলে দ্রুত তাকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) স্থানান্তর করা হয়। এসময় তার ক্রিয়েটিনিন লেভেল বেড়ে গিয়ে কিডনি বিকল হয়ে পড়ে এবং রক্তচাপ আশঙ্কাজনকভাবে কমে যায়। তিনি হেপাটাইটিস-সি ভাইরাসেও আক্রান্ত ছিলেন। চিকিৎসকরা ঝুঁকি নিয়ে ডায়ালাইসিস শুরু করলেও বৃহস্পতিবার থেকে তিনি আর সাড়া দিচ্ছিলেন না। অবশেষে শনিবার সকালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
সাহসী রাজনীতির এক অধ্যায়
আলী আকবর চৌধুরী ছিলেন সত্তরের দশকের তুখোড় ছাত্রনেতা। সেসময় তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা বিভাগে ভর্তি হন এবং ছাত্ররাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন। ১৯৮০-৮১ সালে তিনি চট্টগ্রাম উত্তর জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি নির্বাচিত হন।
এছাড়া কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন ও খ ম জাহাঙ্গীর কমিটিতে সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন আলী আকবর চৌধুরী। রাজনীতি করতে গিয়ে তিনি মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কৃত হন এবং হুলিয়া মাথায় নিয়ে দেশ ছাড়তে বাধ্য হন। ১৯৯২ সালে দেশে ফিরে এলেও তিনি আর সক্রিয় রাজনীতির নেতৃত্বে আসেননি, বরং অনেকটা নিভৃতচারী জীবনযাপন করছিলেন।