শনিবার, ১৭ জানুয়ারি ২০২৬, ৪ মাঘ ১৪৩২

‘বিএনপির সিদ্ধান্ত কোরআন-হাদিস নয়’: স্বতন্ত্র লড়তে চেয়ারম্যান পদ ছাড়লেন লেয়াকত

বাঁশখালী (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি | প্রকাশিতঃ ২৮ ডিসেম্বর ২০২৫ | ৭:৫৯ অপরাহ্ন


চট্টগ্রাম-১৬ (বাঁশখালী) আসনে দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে অবশেষে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে লড়ার ঘোষণা দিয়েছেন চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মো. লেয়াকত আলী। এ লক্ষ্যে তিনি গণ্ডামারা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন।

রোববার দুপুর ১টার দিকে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞার কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগপত্র জমা দেন তিনি। পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বিএনপির দলীয় মনোনয়ন প্রসঙ্গে ক্ষোভ ও নিজের আত্মবিশ্বাসের কথা জানান এই নেতা।

লেয়াকত আলী বলেন, দলের সিদ্ধান্ত তো কোরআন-হাদিস নয়। সময় থাকলে সিদ্ধান্ত পরিবর্তনও হতে পারে। আমি দল করি, দলের প্রতি শ্রদ্ধা আছে। কিন্তু মানুষের চাওয়া উপেক্ষা করা যায় না। দল যদি পুনর্বিবেচনা করে, সেটাও সম্ভব। এখনও সময় আছে।

বাঁশখালী আসনে বিএনপি ইতিমধ্যে দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মিশকাতুল ইসলাম চৌধুরী পাপ্পাকে ধানের শীষের চূড়ান্ত প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করেছে। দীর্ঘদিন ধরে এই আসনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন লেয়াকত আলী। দল তাঁকে বেছে না নেওয়ায় তিনি এখন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে লড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তিনি জানান, সোমবার আনুষ্ঠানিকভাবে রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে মনোনয়নপত্র জমা দেবেন।

লেয়াকত আলী দাবি করেন, দলের দুঃসময়ে তিনি তৃণমূলের নেতাকর্মীদের পাশে ছিলেন এবং আজও তারা তাঁর সঙ্গে আছেন। সাধারণ মানুষ ও ভোটাররা চাচ্ছেন তিনি প্রার্থী হন। মানুষের জন্য কাজ করতেই তিনি নির্বাচনে আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

উল্লেখ্য, বাঁশখালীর পশ্চিম বড়ঘোনা গ্রামে এস আলম গ্রুপ ও চীনের সেপকো থ্রির যৌথ মালিকানাধীন কয়লাভিত্তিক এসএস পাওয়ার প্ল্যান্টবিরোধী আন্দোলনের মাধ্যমে লেয়াকত আলী দেশজুড়ে আলোচনায় আসেন। স্থানীয়দের জমি অধিগ্রহণ, পরিবেশ ও জীবিকা সংকটের প্রশ্নে তাঁর সরব ভূমিকা তাঁকে একটি শক্তিশালী সমর্থকগোষ্ঠী তৈরি করে দিয়েছে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

এই আন্দোলনের জের ধরে ২০২৩ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি বিদ্যুৎকেন্দ্রে ঠিকাদারের কাজে বাধা ও পুলিশের ওপর হামলার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় তিনি দীর্ঘ সময় কারাগারে ছিলেন। পরে ২০২৪ সালের ৯ আগস্ট তিনি মুক্তি পান।

লেয়াকত আলী এর আগেও ২০০৩ থেকে ২০০৮ এবং ২০১৭ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত গণ্ডামারা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০২২ সালে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলার কারণে তাঁকে সাময়িক বরখাস্ত করা হলেও ২০২৫ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্টের রায়ের মাধ্যমে তিনি চেয়ারম্যান পদ ফিরে পান। এখন সংসদ নির্বাচনে লড়তে তিনি সেই পদ স্বেচ্ছায় ছেড়ে দিলেন।

স্থানীয় রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, লেয়াকত আলীর স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়া বাঁশখালীতে বিএনপির দলীয় প্রার্থী মিশকাতুল ইসলাম চৌধুরী পাপ্পার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। লেয়াকতের ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা এবং স্থানীয় ইস্যুভিত্তিক রাজনীতি ভোটের সমীকরণে নতুন মেরুকরণ সৃষ্টি করবে।