
কর্নেল (অব.) অলি আহমদের নেতৃত্বাধীন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন জোটে যোগ দেওয়ার পর চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া) আসনের নির্বাচনী সমীকরণ নাটকীয়ভাবে পাল্টে গেছে। এনসিপি ও এলডিপি যুক্ত হওয়ায় ৮ দলীয় জোট এখন ১০ দলীয় জোটে পরিণত হয়েছে। নতুন এই মেরুকরণের ফলে পটিয়া আসনে জোটের প্রার্থী হিসেবে এলডিপির এম এয়াকুব আলী মনোনয়ন পাচ্ছেন বলে জোর গুঞ্জন শুরু হয়েছে।
রোববার জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ডা. ফরিদুল আলমের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত তিনি তা জমা দেননি। মূলত এরপর থেকেই এম এয়াকুব আলীর মনোনয়ন পাওয়ার গুঞ্জনটি আরও জোরালো হতে থাকে।
নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রাম-১২ আসনে রোববার পর্যন্ত ১২ জন প্রার্থী মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন। এর মধ্যে রোববার মাত্র একজন প্রার্থী—জাতীয় পার্টির ফরিদ উদ্দীন আহমদ—তাঁঁর মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। এই আসনে বিএনপি থেকে ৫ জন ফরম কিনলেও কেন্দ্র থেকে এনামুল হক এনামকে চূড়ান্ত মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে জামায়াত থেকে ডা. ফরিদুল আলম এবং এলডিপি থেকে এম এয়াকুব আলীকে প্রাথমিকভাবে দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হয়েছিল।
বিএনপি জোটের সঙ্গে বনিবনা না হওয়ায় এলডিপি প্রথমে এককভাবে নির্বাচন করার ঘোষণা দিয়েছিল। কিন্তু একক নির্বাচনের ঘোষণার তিন দিনের মাথায় রোববার দলটি জামায়াতের নেতৃত্বাধীন জোটে যোগ দেয়। এলডিপির পক্ষ থেকে জোটের কাছে যে কয়টি আসন দাবি করা হয়েছে, তার মধ্যে চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া) আসনটি অন্যতম।
একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, জামায়াতের নেতৃত্বাধীন জোট থেকে চট্টগ্রামের পটিয়া ও চন্দনাইশ—এই দুটি আসন ছেড়ে দিয়ে এলডিপিকে দেওয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত হতে পারে। এ কারণে পটিয়া ও চন্দনাইশের জামায়াতের দুই প্রার্থীকে রোববার বিকেলে ঢাকায় কেন্দ্রে জরুরি তলব করা হয়েছে বলে জানা গেছে। এতে পটিয়ায় জামায়াত প্রার্থীর কপাল পুড়তে পারে বলে ধারণা করছেন স্থানীয় নেতাকর্মীরা, যদিও তিনি ইতিমধ্যে নির্বাচনের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছিলেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে পটিয়া পৌরসভা জামায়াতের আমীর সেলিম উদ্দীন বলেন, আমরা এখনো বিষয়টি নিয়ে নিশ্চিত নই। কেন্দ্র থেকে আমাদের কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়নি। আমরা নির্বাচনী কাজে ব্যস্ত সময় পার করছি।
অন্যদিকে পটিয়া পৌরসভা এলডিপির সভাপতি আমির হোসেন আত্মবিশ্বাসের সুরে বলেন, ভারতীয় আধিপত্যের বিরোধিতায় ইসলামী জোট ঐক্যবদ্ধ হয়েছে। সমঝোতার মাধ্যমে পটিয়া আসনটি এলডিপিই পাচ্ছে।