
একুশে পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশের এক দিনের মাথায় চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শনে গেছেন চট্টগ্রাম-১৫ (সাতকানিয়া-লোহাগাড়া) আসনের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী এবং চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।
আজ মঙ্গলবার (২৬ মে) দুপুরে সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী ও সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি পরিদর্শন করেন। এ সময় সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী ও সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী হাসপাতালের বিভিন্ন সংকট, চিকিৎসক স্বল্পতা ও সেবাব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা নিয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলেন।
এর আগে গতকাল সোমবার (২৫ মে) সকালে একুশে পত্রিকায় ‘সাতকানিয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসক সংকট, শূন্য পদ ও অনুপস্থিতিতে ব্যাহত চিকিৎসাসেবা’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। ওই প্রতিবেদনে চিকিৎসক সংকট, দীর্ঘদিন ধরে একাধিক পদ শূন্য থাকা, চিকিৎসকদের কর্মস্থলে অনুপস্থিতি এবং প্রয়োজনীয় টেকনিক্যাল জনবলের অভাবে স্বাস্থ্যসেবা ব্যাহত হওয়ার চিত্র তুলে ধরা হয়। সংবাদটি প্রকাশের পরই বিষয়টি সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী ও স্বাস্থ্য প্রশাসনের নজরে আসে।
পরিদর্শন শেষে সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী জানান, একুশে পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদটি সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরীর নজরে এসেছে। এরপরই সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি পরিদর্শনে এসেছেন। এ সময় সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী আরও জানান, তাঁর সঙ্গে সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীও রয়েছেন। এখানকার বিভিন্ন সমস্যার কথা শুনেছেন এবং অল্প সময়ের মধ্যে সমস্যাগুলো সমাধানে উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী আশ্বস্ত করেন।
চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী জানান, সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী এই প্রথম স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি পরিদর্শনে এসেছেন। সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী জানান, সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরীকে বিভিন্ন সমস্যার কথা জানানো হয়েছে। যে সমস্যাগুলো সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীর মাধ্যমে সমাধান করা সম্ভব, সেগুলো দ্রুত করা হবে। অন্য বিষয়গুলোতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরীকে অনুরোধ করেছেন বলেও ডা. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী উল্লেখ করেন।
একুশে পত্রিকায় প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, সাতকানিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কনসালটেন্ট ও মেডিকেল অফিসার মিলিয়ে অনুমোদিত ৩৮টি পদের মধ্যে বর্তমানে ১৭টি পদ শূন্য রয়েছে। এর মধ্যে ছয়টি কনসালটেন্ট ও ১১টি মেডিকেল অফিসারের পদ দীর্ঘদিন ধরে খালি রয়েছে। হাসপাতাল সূত্র অনুযায়ী, গত এক মাসে প্রায় ১২ হাজার রোগীকে চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়েছে এবং প্রতিদিন ইনডোরে গড়ে ৬০ থেকে ৭০ জন রোগী ভর্তি থাকেন। কিন্তু প্রয়োজনীয় সংখ্যক চিকিৎসক না থাকায় রোগীদের কাঙ্ক্ষিত সেবা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়ছে।
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছিল, কয়েকজন চিকিৎসক দীর্ঘদিন ধরে প্রশিক্ষণ, সংযুক্তি বা কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। একই সঙ্গে সোনোলজিস্ট ও এক্স-রে টেকনিশিয়ানের অভাবে আধুনিক যন্ত্রপাতি থাকলেও অনেক সেবা কার্যকরভাবে দেওয়া যাচ্ছে না। ফলে রোগীদের অতিরিক্ত খরচ করে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে পরীক্ষা করাতে হচ্ছে।
এছাড়া ২০১৪ সালে হাসপাতালের জন্য সরবরাহ করা জেনারেটর এখনো জ্বালানির বরাদ্দ না পাওয়ায় চালু হয়নি বলেও একুশে পত্রিকার ওই প্রতিবেদনে উঠে আসে। বিদ্যুৎ বিভ্রাটের সময় এতে রোগী ও স্বজনদের দুর্ভোগ বাড়ছে। স্থানীয় সচেতন মহল দ্রুত শূন্য পদে নিয়োগ, চিকিৎসকদের নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করা এবং প্রয়োজনীয় টেকনিক্যাল জনবল নিয়োগের দাবি জানিয়েছেন।