চট্টগ্রাম: হত্যার দায়ে দুই পেশাদার ছিনতাইকারীর ফাঁসি মঙ্গলবার (১২ জুলাই) রাত ১২টা ১ মিনিটে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে সম্পন্ন হয়েছে।
ফাঁসিতে ঝুলিয়ে দণ্ড কার্যকর করা দুজন হলেন- মিরসরাই উপজেলার উত্তর হাজী সরাই গ্রামের লেদু মিয়ার বাড়ির কামাল উদ্দিনের ছেলে সাইফুল ইসলাম ওরফে শহীদ এবং একই উপজেলার মধ্যম সোনাপাড়া গ্রামের তাজুল ইসলামের ছেলে মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ ওরফে শহীদ।
চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেলা সুপার ইকবাল কবির বলেন, রাত ১২টা ১মিনিটে ফাঁসি কার্যকর হয়েছে।
এর আগে একই মঞ্চে দুই খুনির ফাঁসি রায় কার্যকর করতে কারা কর্তৃপক্ষকে সহযোগিতা করেন জল্লাদ আব্দুল হান্নানের নেতৃত্বে পাঁচ জল্লাদ। তাদের জম টুপি পরিয়ে হাত-পা বেঁধে পাশাপাশি ফাঁসির মঞ্চে গলায় দড়ি লাগিয়ে দেন এই পাঁচ জল্লাদ। রাত ১২টা ১ মিনিট হতেই জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের মৌখিক আদেশে সিনিয়র জেল সুপার ইকবাল কবির তার হাতে থাকা লাল রুমাল ফেলে দেন। তখন সঙ্গে সঙ্গেই ফাঁসির মঞ্চে থাকা জল্লাদরা তাদের হাতে থাকা লিভার টান দিলে ফাঁসিতে ঝুলতে থাকেন এই দুই খুনি। তার মিনিট দশেক পর সেখান থেকে নামিয়ে জেলা সিভিল সার্জন হাত ও পায়ের রগ কেটে তাদের মৃত্যু নিশ্চিত করে ডেথ সার্টিফিকেটে স্বাক্ষর করেন।
এর আগে রাত সাড়ে ১১টায় দুই খুনির তওবা পড়ান চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারা মসজিদের পেশ ইমাম মো. ইলিয়াছ আজম। তারও আগে তাদের দুজনকে গোসল করানোর পাশাপাশি রাতের খাবার পরিবেশন করা হয়। পরিবারের সদস্যদের সাথে শেষ সাক্ষাতেরও সুযোগ দেয়া হয়। মঙ্গলবার দুপুরবেলা স্বজনরা কারাগার থেকে বেরিয়ে আসার পরই মূলত তাদের ফাঁসি কার্যকরের চূড়ান্ত প্রস্তুতি শুরু করে কারা কর্তৃপক্ষ।
সেই প্রস্তুতির অংশ হিসেবে মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে চট্টগ্রাম কারাগারে প্রবেশ করেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মেজবাহ উদ্দিন, চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. আজিজুর রহমান সিদ্দিকী, নগর পুলিশের উপকমিশনার (উত্তর) পরিতোষ ঘোষ।
আগে থেকেই ডিআইজি প্রিজন অসীম কান্তি পাল, জেল সুপার ইকবাল কবির চৌধুরী, জেলার মাহবুবুল ইসলামসহ কারাগারের দায়িত্বপ্রাপ্তরা সেখানে উপস্থিত ছিলেন।
প্রসঙ্গত ২০০৪ সালের ২০ মে রাতে মিরসরাই উপজেলা সদর থেকে একটি সিএনজি অটোরিকশা ভাড়া করে তিনজন ফটিকছড়ি উপজেলার দাঁতমারা এলাকায় যান। সেখানকার একটি নির্জন স্থানে চালক আজিজকে খুন করে ফেলে রেখে অটোরিকশাটি নিয়ে পালিয়ে যান দণ্ডিত তিন আসামি। এ ঘটনায় পরের দিন আজিজের ছোট ভাই মিয়া ধন বাদী হয়ে ফটিকছড়ি থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। একই বছরের ২৮ জুলাই শহীদুল্লাহ, সাইফুল ও মীর হোসেনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরু করেন আদালত।
২০০৫ সালের ২৯ নভেম্বর চট্টগ্রামের তৎকালীন জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক আব্দুর রহমান পাঠোয়ারী তিন আসামির মধ্যে প্রথম দুজনের বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডাদেশ ও অপর আসামি মীর হোসেনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। পরে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুই আসামি নিম্ন আদালতের দেয়া ফাঁসির আদেশের বিরুদ্ধে সংক্ষুব্ধ হয়ে উচ্চ আদালতে আপিল করেন।
২০১১ সালের ৩১ জানুয়ারি আপিল শুনানি শেষে দুই আসামির বিরুদ্ধে দেয়া মৃত্যুদণ্ডাদেশ বহাল রাখেন উচ্চ আদালত। পরে সেই আদেশের বিরুদ্ধেও সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে আপিল আবেদন করেন দুই দণ্ডিত আসামি।সেখানেও ২০১৩ সালের ৭ এপ্রিল তাদের মৃত্যুদণ্ডাদেশ বহাল থাকায় তারা ২০১৪ সালের ২ ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণ ভিক্ষার আবেদন করেন। সেটি গত মে মাসে নাকচ হলে ফাঁসি কার্যকরের উদ্যোগ নেয় কারা কর্তৃপক্ষ।