সোমবার, ১৯ জানুয়ারি ২০২৬, ৬ মাঘ ১৪৩২

৫ বছর আগের জঙ্গি মামলা এখনো তদন্ত করছে পুলিশ!

| প্রকাশিতঃ ১৫ জুলাই ২০১৬ | ১১:৫০ অপরাহ্ন

Policeচট্টগ্রাম: জেএমবি সদস্যদের বিরুদ্ধে করা ২০১০ সালের একটি মামলা এখনো ঝুলে আছে। চট্টগ্রামের হাটহাজারীর আলীপুরে জঙ্গি আস্তানা থেকে বোমা ও জঙ্গি প্রচারপত্র উদ্ধারের পর মামলাটি করা হয়। ঘটনার ৬ মাস পর মামলাটির চার্জশিট দেয়া হয়। তবে সরকারের অনুমোদন না থাকায় অভিযোগ আমলে নিতে পারেনি আদালত। সর্বশেষ গত ২ জুন মামলাটি পুনঃতদন্তের আবেদন করে হাটহাজারী থানা পুলিশ। এরপর গত ৬ জুন আদালতের আদেশ পেয়ে নতুন করে এই মামলায় তদন্তে নামে পুলিশ।

জানা গেছে, ২০১০ সালের ২৬ ডিসেম্বর সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ৯টার মধ্যে হাটহাজারীর আলীপুর এলাকার ডাক্তার শফিউলের ভাড়া বাসায় অভিযান চালায় পুলিশ। অভিযানের শুরুতে পুলিশকে লক্ষ্য করে বোমার বিস্ফোরণ ঘটিয়ে পালানোর সময় শামীম নামের জেএমবির এক সদস্যকে আটক করা হয়। পরে ওই বাসা থেকে জিহাদি বই ও পাঁচটি বোমা উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় ২০১০ সালের ২৭ ডিসেম্বর হাটহাজারী থানার তৎকালীন এসআই ওমর ফারুক বাদি হয়ে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একটি মামলা করেন। মামলা নম্বর ২৪ (১২) ১০। এই মামলায় আসামির তালিকায় শামীম হোসেনসহ ১৩ জনের নাম উল্লেখ করা হয়। আসামিদের সবার বিরুদ্ধে ছিল জেএমবি সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ।

তদন্ত শেষে ২০১১ সালের ৯ জুন মামলাটির চার্জশিট দেন তদন্ত কর্মকর্তা ও তৎকালীন হাটহাজারী থানার ওসি (তদন্ত) জাকের হোসেন মাহমুদ। চার্জশিটে ৯ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়; এরমধ্যে শামীম হোসেন, মোশাররফ হোসেন ও মফিজুল ইসলাম নামের তিনজন গ্রেফতার হন।

জেএমবি সদস্যদের বিরুদ্ধে করা মামলা ২০০৯ সালের সন্ত্রাসবিরোধী আইনে করা হয়েছিল। এ আইন অনুযায়ী সরকারের অনুমোদন ছাড়া কোন অভিযোগ আমলে নিতে পারেন না আদালত। তবে এর আগে মামলাটি অনুমোদনের জন্য ২০১০ সালের ২৮ ডিসেম্বর চট্টগ্রামের তৎকালীন জেলা প্রশাসক ফয়েজ আহমদ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেছিলেন। কিন্তু দীর্ঘ পাঁচ বছর পার হলেও মামলাটি অনুমোদন দেয়নি স্বরাষ্ট মন্ত্রণালয়। এর ফলে অভিযোগ আমলে নিতে পারেনি আদালত।

এ অবস্থায় চলতি বছরের গত ২ জুন মামলাটি পুনঃতদন্তের আবেদন করে পুলিশ। আদালতে আবেদনটি করেন হাটহাজারী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মজিবুর রহমান। এ আবেদনটি গত ৬জুন সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ শহীদুল ইসলামের আদালত মঞ্জুর করেন।

জানতে চাইলে বর্তমানে মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা ও হাটহাজারী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মজিবুর রহমান বলেন, গত ১৬ মে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে হাটহাজারী থানায় একটি চিঠি আসে। এতে বলা হয়, মামলার আসামিদের মধ্যে কার বিরুদ্ধে কি অভিযোগ তা সুনির্দিষ্টভাবে চার্জশিটে তুলে ধরতে হবে। সে মোতাবেক মামলাটি পুণরায় তদন্তের জন্য আমি আবেদন করলে আদালত তা মঞ্জুর করেন।

এদিকে ২০১১ সালে মামলাটির ‘ক্রুটিপূর্ণ’ চার্জশিট জমা দিয়েছিলেন হাটহাজারী থানার তৎকালীন পরিদর্শক (তদন্ত) জাকির হোসেন মাহমুদ; তিনি বর্তমানে কক্সবাজার সিআইডি পুলিশের পরিদর্শক হিসেবে কর্মরত আছেন। এ বিষয়ে বক্তব্য জানার জন্য শুক্রবার তার মোবাইল ফোনে কল করা হলেও ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।

এ প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবি সমিতির সভাপতি কফিল উদ্দিন চৌধুরী বলেন, মামলাটি হয়েছিল ২০১০ সালে। ৫ বছর ধরে মামলাটির অনুমোদন দেয়নি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এখন মন্ত্রণালয় বলছে চার্জশিট সঠিকভাবে দেয়া হয়নি, আবার তদন্ত করতে হবে। চার্জশিটে কোন ভুলভ্রান্তি থাকলে তা দ্রুত সময়ের মধ্যে মন্ত্রণালয় জানালে এতদিনে মামলার বিচার শেষ হয়ে যেত। সংশ্লিষ্টদের চরম দায়িত্বহীনতার কারণেই ২০১০ সালের একটি মামলা এখনো তদন্তের পর্যায়েই রয়ে গেছে। এজন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।