চট্টগ্রাম : গতানুগতিকের বাইরে গিয়ে এবারই প্রথম বৃহৎ পরিসরে ইফতার ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করেছে নগর আওয়ামী লীগ। সেই ইফতার মাহফিলে এবার প্রায় দুই হাজার নেতাকর্মীর পাশাপাশি সমাজের বিভিন্ন শ্রেণী পেশার প্রতিনিধি ও প্রশাসনের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। মূলত ইফতার মাহফিলটি হয়ে উঠেছিল নেতাকর্মীদের মিলন মেলায়।
শনিবার বিকাল ৪ টা থেকে কাজীর দেউড়িস্থ ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারে আয়োজিত এ ইফতার মাহফিল ৬টার আগেই পরিপূর্ণ হয়ে যায়। আমন্ত্রিত অতিথিদের নিজে গেটে দাঁড়িয়ে অভ্যর্থনা জানানোর পাশাপাশি প্রতিটি টেবিলে গিয়ে কুশল বিনিময় করেছেন আয়োজনের মূখ্য ভূমিকায় থাকা নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন। এসময় মঞ্চ থেকে নেমে তিনি বারবার আমন্ত্রিত অতিথিদের খোঁজ নেন।
বিকেল ৪টা থেকে নগরের প্রতিটি থানা ওয়ার্ড ও ইউনিট থেকে নেতাকর্মীরা এসে অনুষ্ঠানেস্থলে হাজির হন। এসময় মঞ্চে বক্তব্য রাখেন অতিথিরা। পরে রোজার ওপর বিশেষ ওয়াজ করছিলেন হযরত খাজা গরীব উল্লাহ শাহ মাজারের পেশ ইমাম আলহাজ্ব মাওলানা আনিসুজ্জামান আলকাদেরী। এরই মাঝে বৃহৎ পরিসরের এ আয়োজনে নেতাকর্মীরা একত্রিত হতে পেরে নিজেদের মধ্যে কুশলাদি বিনিময় করেন। আর মঞ্চের সামনে থরে থরে সাজানো টেবিলে সাজানো ছিল আমন্ত্রিত অতিথিদের টেবিল। ক্যাটাগরি ভিত্তিক বিন্যাস করা ছিল অতিথিদের আসনগুলো। আওয়ামী লীগের এই ইফতার মাহফিলে উপস্থিত ছিলেন প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও। কোনো ধরণের বিশৃংখলা ছাড়াই দুই হাজারের অধিক মানুষের এই ইফতার মাহফিলটি সুন্দর ও গোছানো ভাবে শেষ হওয়ায় নেতাকর্মীরা সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। আর অনেক দিন পর মনোরম নিরিবিলি পরিবেশে নেতাকর্মীরা সবাই এক হতে পেরে একে অপরের খোঁজ খবরও নিয়েছেন। এক অর্থে এই ইফতার মাহফিল হয়ে উঠেছিল নেতাকর্মীদের মিলন মেলায়।
ইফতার মাহফিলে সিটি মেয়র ও নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দিন বলেন, ‘এবার মাহে রমজান ইসলাম ও মানবতা বিরোধী জঙ্গীবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে প্রেরণা যুগিয়েছে। এ লড়াই অব্যাহত রাখার জন্য আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে নিজের আত্মশক্তিকে জাগিয়ে তুলতে চাই। প্রধানমন্ত্রী জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বাঙালি জাতিসত্তা রক্ষায় অসম্ভবকে সম্ভব করেছেন। তিনি বার বার হামলার শিকার হয়েছেন। তাই আমাদের নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তাঁর পাশে দাঁড়াতে হবে। এটাই হোক আত্মশক্তি প্রকাশের অবলম্বন।’
উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহতাব উদ্দিন চৌধুরী, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ব্যারিষ্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, ভারতীয় সহকারী হাই কমিশনার, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যায়ের উপাচার্য ড. ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরী, উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নুরুল আলম চৌধুরী, দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোছলেম উদ্দিন আহমেদ, উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এম এ সালাম, চট্টগ্রাম মেট্টোপলিটন পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মাসুদুল হাসান, এনএসআই ও ডিজিএফআই এর পরিচালকবৃন্দ, বিএমএ সভাপতি ডা. মুজিবুল হক খান, আই ই বি চট্টগ্রাম নেতা ইঞ্জি মো হারুন, সমাজসেবা অধিদপ্তর পরিচালক সহ বিভিন্ন পেশাজীবি সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
এতে আরো উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি এড সুনীল কুমার সরকার, এড. ইব্রাহিম হোসেন চৌধুরী বাবুল, আলহাজ্ব খোরশেদ আলম সুজন, আলহাজ্ব আলতাফ হোসেন চৌধুরী বাচ্চু, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এম রেজাউল করিম চৌধুরী, আলহাজ্ব বদিউল আলম, আলহাজ্ব এম এ রশিদ, চট্টগ্রাম মহানগর মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হাসিনা মহিউদ্দিন, মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক নোমান আল মাহমুদ, শফিক আদনান, চৌধুরী হাসন মাহমুদ হাসনী, সম্পাদকমন্ডলীর সদস্য আলহাজ্ব শফিকুল ইসলাম ফারুক, এড. শেখ ইফতেখার সাইমুল চৌধুরী, মশিউর রহমান চৌধুরী, মো: হোসেন, আবদুল আহাদ, জোবাইদা নার্গিস খান, ইঞ্জি: মানস রক্ষিত, ফয়সাল ইকবাল চৌধুরী, দিদারুল আলম চৌধুরী প্রমুখ। এছাড়া চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্যবৃন্দ চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের সম্মানিত কাউন্সিলরবৃন্দ ও ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, সহযোগী সংগঠনের আহ্বায়ক-যুগ্ম আহ্বায়ক, সভাপতি, সাধারন সম্পাদকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। ইফতার পূর্ব দোয়া মাহফিল পরিচালনা করেন হযরত খাজা গরীব উল্লাহ শাহ মাজারের পেশ ইমাম আলহাজ্ব মাওলানা আনিসুজ্জামান আলকাদেরী।
তবে নগরের দুই সাংসদ নগর আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি ডা. আফসারুল আমীন ও নগর আওয়ামী লীগের সদস্য এম এ লতিফ এমপি উপস্থিত ছিলেন না ইফতার মাহফিলে। এমনকি উপস্থিত ছিলেন না প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী ও নগর আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি নুরুল ইসলাম বিএসসি।
একুশে/এডি