চট্টগ্রাম : স্বাধীনতার মহান স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৩তম শাহাদাত বার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস উদযাপন উপলক্ষে বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ চট্টগ্রাম মহানগর ইউনিট কমান্ডের উদ্যোগে আলোচনা সভা রোববার বিকেলে অনুষ্ঠিত হয়।
সংসদের মহানগর ইউনিট কমান্ডার মোজাফফর আহমদের সভাপতিত্বে ও বীর মুক্তিযোদ্ধার সন্তান সরওয়ার আলম চৌধুরী মনির সঞ্চালনায় নগরীর দারুল ফজল মার্কেট চত্বরে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মাহতাব উদ্দিন চৌধুরী। প্রধান বক্তা ছিলেন চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন।
বিশেষ অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা নঈম উদ্দিন চৌধুরী, মহানগর আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামন্ডলীর সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ মোহাম্মদ ইসহাক, কেন্দ্রীয় শ্রমিক লীগের যুগ্ম সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ¦ মো. শফর আলী চৌধুরী, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের স্বাক্ষী বীর মুক্তিযোদ্ধা এডভোকেট মো. নুরুল আবছার ও মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন চৌধুরী।
অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ চট্টগ্রাম মহানগর ইউনিট কমান্ডের ডেপুটি কমান্ডার শহীদুল হক চৌধুরী সৈয়দ, ডেপুটি কমান্ডার মো. লেয়াকত হোসেন, সহকারী কমান্ডার সাধন চন্দ্র বিশ^াস, সহকারী কমান্ডার পান্টু লাল সাহা, সহকারী কমান্ডার এফএফ আকবর খান, বীর মুক্তিযোদ্ধা আকতার হোসেন, যুদ্ধকালীন কমান্ডার মো. জাহিদ হোসেন, আকবরশাহ থানার ডেপুটি কমান্ডার নুর উদ্দিন চৌধুরী, মহানগর ছাত্রলীগ নেতা কামরুল হুদা পাভেল, বীর মুক্তিযোদ্ধার সন্তান কাজী রাজীশ ইমরান, মো. সাজ্জাদ হোসেন, মিজানুর রহমান সজিব, জয়নাল আবেদীন, শাহেদ মুরাদ সাকু, ইঞ্জিনিয়ার মশিউজ্জামান সিদ্দিকী পাভেল প্রমুখ।
বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল মান্নান খানের কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে জাতির পিতার শাহাদাত বার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবসের আলোচনা শুরু হয়। শুরুতে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ শাহাদাত বরণকারীদের আত্মার রুহের মাগফেরাত কামনায় দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।
প্রধান অতিথি চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মাহতাব উদ্দিন চৌধুরী বলেন, হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তিনি না হলে ১৯৭১ সালে আমরা ‘বাংলাদেশ’ নামক একটি স্বাধীন রাষ্ট্র পেতাম না। ৭১’র পরাজিত শক্তি রাজাকার, আলবদর ও কুলাঙ্গার বাহিনী পরাজয় মেনে নিতে না পেরে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির জনককে সপরিবারে হত্যা করে। জাতির জনকের কন্যা প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার সরকার ক্ষমতায় আসার পর দেশের উন্নয়নের চিত্র পাল্টে গেছে। সরকারের উন্নয়নের অগ্রযাত্রা বাধাগ্রস্ত করতে স্বাধীনতাবিরোধীরা নানান ধরনের ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে। তারা প্রধানমন্ত্রীকেও হত্যার ষড়যন্ত্র করছে। সরকারের উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখাসহ মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষের শক্তি বর্তমান সরকারকে আবারো নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করতে পারলে দেশবিরোধীরা আর মাথাছাড়া দিয়ে উঠতে পারবে না। এজন্য সকলকে সতর্ক থাকতে হবে এবং বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ গড়তে সরকারের উন্নয়নের মহাসড়কে সবাইকে শামিল হতে হবে।
প্রধান বক্তা চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সিটি মেয়র আলহাজ¦ আ জ ম নাছির উদ্দীন বলেন, বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশ একে অপরের পরিপূরক। ১৯৭১ সালে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাঙালি জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করেছিলেন। তাঁর নেতৃত্বে এদেশের সর্বস্তরের মেহনতি মানুষ দীর্ঘ ৯ মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে অংশ নিয়ে পাকিস্তানি আলবদর ও তাদের দোসরদের পরাজিত করে বাংলাদেশ স্বাধীন করেছে। আমরা পেয়েছি স্বাধীনতার লাল সূর্য। কিন্তু যারা বাংলাদেশের স্বাধীনতা মেনে নিতে পারেনি তারা ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করে ইতিহাসে কালো অধ্যায় রচনা করেছে। তারা মনে করেছিল বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করতে পারলে বাংলাদেশে স্বাধীনতা ধ্বংস হয়ে যাবে। কিন্তু এদেশের বীর মুক্তিযোদ্ধারাসহ স্বাধীনতা সংগ্রামে অংশগ্রহণকারীদের প্রতিরোধের মুখে টিকতে না পেরে পাকিস্তানি বর্বর বাহিনী পিছু হঁটেছে। আজ বঙ্গবন্ধুর কন্যা প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতায় আসার পর এদেশের মাটিতে স্বাধীনতাবিরোধী যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের আওতায় এনেছে। অনেক যুদ্ধাপরাধীর ফাঁসি হয়েছে, অনেকের মামলা বিচারাধীন রয়েছে। স্বাধীনতা সংগ্রামে বিরোধিতাকারী ও তাদের প্রেতাত্মারা এখনো অনেকে জীবিত আছে। তাদের থেকে সতর্ক থাকতে হবে।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে আমাদের দেশ এখন নি¤œ মধ্যম আয়ের দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশের কাতারে পৌঁছেছে। প্রতিটি সূচকের দেশের অভূতপূর্ব উন্নয়ন হয়েছে। সরকারের এ ধারা অব্যাহত থাকলে আগামী ২০২১ সালে এদেশ মধ্যম আয়ে, ২০৩০ সালে এসডিজি অর্জন ও ২০৪১ সালে উন্নত রাষ্ট্রে পৌঁছবে বাংলাদেশ।
একুশে/প্রেসবিজ্ঞপ্তি/এটি