চট্টগ্রাম : বাংলাদেশ যদি হয় একটি কবিতা, বঙ্গবন্ধু সেই কবিতার কবি। যতদিন বাংলাদেশ নামক ‘কবিতা’ থাকবে, ততদিন বঙ্গবন্ধু থাকবেন। এ কবির মৃত্যু নেই, হতে পারে না।’
রাঙ্গুনিয়ার প্রাচীনতম বিদ্যাপীঠ উত্তর পদুয়া বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের জাতীয় শোক দিবসের আলোচনাসভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় একুশে পত্রিকা সম্পাদক আজাদ তালুকদার এই কথা বলেন।
১৫ আগস্ট দুপুরে স্কুলের জ্যোৎস্না বিকাশ চৌধুরী স্মৃতি অডিটরিয়ামে স্কুলের উদ্যোগে স্কুল পরিচালনা কমিটির সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম তালুকদারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রাক্তন কমিশনার ও শিক্ষা স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট রেহানা বেগম রানু।
একুশে পত্রিকা সম্পাদক আজাদ তালুকদার বলেন, আজকের ছাত্রদের মনে রাখতে হবে মুজিব ছিলেন সেই ছাত্র;যিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগে পড়ার সময় চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারীদের যৌক্তিক দাবির প্রতি একাত্মতা প্রকাশ করতে গিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রত্ব হারিয়েছেন, বহিস্কৃত হয়েছিলেন। আজকের শিশুদের মনে রাখতে হবে, মুজিব ছিলেন সেই খোকা; যিনি শিশু থাকাবস্থায় পরনের শার্ট খুলে অন্যকে দিয়ে দিয়েছিলেন, বাবার গোলার ধান নিরন্ন মানুষের কাছে বিলিয়ে দিয়েছিলেন। আজকের কিশোরদের মনে রাখতে হবে মুজিব ছিলেন সেই কিশোর; যিনি অবিভক্ত ভারতের মুখ্যমন্ত্রী শেরেবাংলা একে ফজলুল হকের পথ রূদ্ধ করে স্কুলের ছাদ মেরামতের দাবি উত্থাপন করেছিলেন।
‘ষড়যন্ত্রকারী, ক্ষমতালিপ্সুরা বঙ্গবন্ধুকে হত্যার মধ্যদিয়ে বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা চিরতরে স্তব্ধ করে দিতে চেয়েছিল, বঙ্গবন্ধুর নিশানা মুছে ফেলতে চেয়েছিল। কিন্তু তাদের সেই চেষ্টা সফল হয়নি। মৃত বঙ্গবন্ধুর চেয়ে জীবিত বঙ্গবন্ধু আজ অনেক বেশি শক্তিশালী, অনেক বেশি প্রেরণাদায়ী। আজকের আলোচনা সভা, শোকর্যালী তখনই স্বার্থক হবে যখন বঙ্গবন্ধুর জীবনাদর্শ আমরা প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে ছড়িয়ে দিতে পারবো, ধারণ করতো পারবো, লালন করতে পারবো-বলেন জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক আজাদ তালুকদার।
ষড়যন্ত্রকারীরা এখনো থেমে নেই, দেশি-বিদেশি চক্রান্ত চলছে জানিয়ে সাংবাদিক আজাদ তালুকদার এ ব্যাপারে সবাইকে সজাগ থাকতে এবং সময়ের প্রয়োজনে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে সবার প্রতি আহ্বান জানান।
অ্যাডভোকেট রেহানা বেগম রানু বলেন, ‘৭৫ পরবর্তী ২১ বছর ধরে উদ্ভট এক উঠৈর পিঠে চড়ে অন্ধকারে নিপতিত হওয়া বাংলাদেশকে আলোর পথে নিয়ে যেতে বঙ্গবন্ধুকন্যা যে সংগ্রাম শুরু করেছেন তা এখনো চলমান। প্রধানমন্ত্রীর যোগ্য, সাহসী নেতৃত্বে বাংলাদেশ আজ বিশ্বনন্দিত রাষ্ট্র। নন্দিত বাংলাদেশের উন্নয়ন, অগ্রযাত্রা, সম্ভাবনা ধরে রাখতে হলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করতে হবে। আমাদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে আমরা কি পাকিস্তানিদের দোসর, যুদ্ধাপরাধী, জঙ্গিবাদি ধ্যান-ধারণায় এই রাষ্ট্রকে পরিচালিত করবো, নাকি শেখ হাসিনার নন্দিত বাংলাদেশের সারথী হয়ে আমাদের সন্তানদের নীল আমস্ট্রংয়ের মতো চাঁদে পাঠাবো।’
স্বাধীনতা অর্জনের চেয়ে স্বাধীনতা রক্ষা করা কঠিন। জাতির জনক আমাদেরকে স্বাধীনতা এনে দিয়েছেন, আত্মমর্যাদাশীল জাতি হিসেবে বিশ্বদরবারে পরিচিতি দিয়েছেন। সেই স্বাধীনতা রক্ষার জন্য আমাদের ইস্পাত-কঠিন শপথ নিতে হবে। এ জন্য সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে ঐক্যবদ্ধ থেকে কাজ করার আহ্বান জানান নারীনেত্রী রেহানা বেগম রানু।
সভাপতির ভাষণে জাহাঙ্গীর আলম তালুকদার বলেন, ‘বাঙালির হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ সন্তান, বাঙালির অবিসংবাদিত নেতা, বাংলাদেশের স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মৃত্যু নেই। তিনি আছেন, থাকবেন বাঙালি জাতির আত্মমর্যাদা, আত্মপরিচয়ের গৌরবোজ্জ্বল, স্পর্ধিত ঠিকানা হয়ে। তার ঋণ, আত্মত্যাগ বাঙালি জাতি কখনো শোক করতে পারবে না। তাঁর স্বপ্ন ছিল একটি সুখী, সমৃদ্ধশালী স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়া। তাঁর স্বপ্ন পূরণ করতে, অসমাপ্ত কাজ সমাপ্ত করতে প্রতিনিয়ত জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তাঁরই কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা কাজ করে চলেছেন। আমরা যদি সোনার বাংলা গড়তে প্রধানমন্ত্রীর হাতকে শক্তিশালী করতে পারি তখনই বঙ্গবন্ধুর আত্মত্যাগ সফল হবে, তাঁর আত্মা শান্তি পাবে।’
অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মক্তে বক্তৃতা করেন স্কুলের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ রফিক, প্রবীণ শিক্ষানুরাগী বিজন দাশগুপ্ত, মোহাম্মদ খোরশেদ।
উপস্থিত ছিলেন সমাজসেবক আব্বাস উদ্দিন মেম্বার, মেম্বার আবুল কালাম বাচা, আব্দুল হক সওদাগর, আওয়ামী লীগ নেতা মোরশেদ আলম,আক্কাস উদ্দিন, রাঙ্গুনিয়া উপজেলা যুবলীগের সদস্য মো. তারেক সোহেল, স্থানীয় ইউপি সদস্য আরকান উদ্দিন,যুবলীগ নেতা জসিম উদ্দিন, দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া পদুয়া ডিগ্রী কলেজ ছাত্রলীগ-এর প্রাক্তন নেতা আরাফাত রুবেল, ছাত্রলীগ নেতা শাখাওয়াত হোসেন প্রমুখ।
একুশে/প্রেসবিজ্ঞপ্তি