চট্টগ্রাম: চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে স্কুলছাত্রী তাছনিম সুলতানা তুহিনকে ধর্ষণ ও হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন মামলার প্রধান আসামি মো. মুন্না।
সোমবার বিকেলে মুখ্য বিচারিক হাকিম কামরুন নাহার রুমীর আদালত ১৬৪ ধারায় মুন্নার জবানবন্দি রেকর্ড করে।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন হাটহাজারী থানার ওসি বেলাল উদ্দিন মো. জাহাঙ্গীর।
জবানবন্দিতে মুন্না জানান, তার সাথে প্রায় এক বছর আগে থেকে সম্পর্ক ছিল নিহত স্কুলছাত্রী তুহিনের। ঘটনার দিন সন্ধায় উভয়ের বাসায় কেউ না থাকায় তুহিনকে তার বাসায় ডেকে নেয় মুন্না। উভয়ের সম্মতিতে শারীরিক সম্পর্কও হয় একপর্যায়ে কথা কাটাকাটির জেরে তুহিন চিৎকার করলে তার মুখ ও গলা চেপে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয় তুহিনকে। এরপর লাশ গুম করার উদ্দেশ্যে একটি প্লাষ্টিকের বস্তায় ভরে সোফার নিচে লুকিয়ে রাখা হয়।
স্বীকারোক্তি রেকর্ড করার পর মুন্নাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ বিচারক দিয়েছেন বলে জানান ওসি বেলাল।
এদিকে মুন্নার ফাঁসির দাবিতে সোমবার সকালে হাটহাজারী সদরে তুহিনের সহপাঠী, বিভিন্ন স্কুলের কয়েক হাজার শিক্ষার্থীসহ হাটহাজারীর সর্বস্তরের মানুষ মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে।
এর আগে গত শুক্রবার সন্ধ্যায় হাটহাজারী পৌরসভাস্থ শাহজালাল পাড়ার সালাম ম্যানশনের আবু তৈয়বের মেয়ে ও হাটহাজারী গার্লস স্কুল এন্ড কলেজের ৮ম শ্রেণীর ছাত্রী তাছনিম সুলতানা তুহিন নিখোঁজ হন।
পরদিন হাটহাজারী থানায় একটি নিখোঁজ ডায়রী করে তার পরিবার। তাদের সন্দেহ ছিল তুহিনকে কেউ অপহরণ করেছে। কিন্তু রোববার রাত সাড়ে আটটার দিকে ওই ভবনেরই ৪র্থ তলায় মুন্নার ঘরের সোফার নিচ থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় তুহিনের লাশ উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারের পরপরই অভিযুক্ত মুন্নাকে আটক করে পুলিশ।
মুন্না হাটহাজারী পৌরসভার মিরেরহাট এলাকার চন্দ্রপুর গ্রামের মালেক উকিল বাড়ির ডা. শাহজান সিরাজের ছেলে। এ ঘটনায় হাটহাজারী থানায় তিনজনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের হয়েছে। প্রধান আসামি মুন্না গ্রেফতার হলেও তার বাবা ও মা পলাতক রয়েছেন।