১৯ জুন ২০১৯, ৫ আষাঢ় ১৪২৬, বুধবার

নির্বাচনে ইভিএম চাপিয়ে দেয়া নতুন ষড়যন্ত্রের অংশ : চট্টগ্রাম বিএনপি

প্রকাশিতঃ সোমবার, অক্টোবর ২৯, ২০১৮, ৬:৪৪ অপরাহ্ণ

চট্টগ্রাম : আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বর্তমান নির্বাচন কমিশনের ইভিএম পদ্ধতিতে ভোট গ্রহণের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়েছে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপি।

সংগঠনের সভাপতি ডা. শাহাদাত হোসেন, সিনিয়র সহ সভাপতি আবু সুফিয়ান, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক এস এম সাইফুল আলম সোমবার এক যুক্ত বিবৃতিতে বলেছেন, উন্নত দেশগুলো যখন কাগজের ভোটে ফিরে যাচ্ছে, তখন উন্নত হওয়ার স্বপ্ন দেখানো বাংলাদেশের সরকার এবং নির্বাচন কমিশন ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) নির্বাচন অনুষ্ঠানের পাঁয়তারা করেছে। পর্যাপ্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষা, প্রশিক্ষণ ও প্রস্তুতি ছাড়াই তাড়াহুড়ো করে যেভাবে সংসদ নির্বাচনে এটি ব্যবহারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তাতে তাদের উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন ওঠাই স্বাভাবিক। অস্বাভাবিক দ্রুততায় ইভিএম কেনার জন্য প্রকল্প তৈরি, জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদে সেই প্রকল্প অনুমোদন, শুরুতেই প্রায় দুই হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ, নির্বাচনী আইন, আরপিও সংশোধনের খসড়া রচনা এবং তা পাস করানোর সব আয়োজন যে গতিতে সম্পন্ন হচ্ছে, তা নিঃসন্দেহে এক নতুন রেকর্ড তৈরি করছে। একজন কমিশনারের যৌক্তিক আপত্তি কেন নাকচ হয়েছে, তারও কোনো ব্যাখ্যা নেই। অথচ ইভিএম কেনা হচ্ছে ভারতের চেয়েও ১১ গুণ বেশি দামে।

নেতৃবৃন্দ বলেন, নির্বাচন কমিশন সরকারের নির্বাচনী ফর্মুলা বাস্তবায়নে অগ্রসর হচ্ছে। মনে হচ্ছে ইভিএম ভোটিং মেশিন কেনাই এখন নির্বাচন কমিশনের প্রধান এজেন্ডা। অথচ নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর সংলাপে প্রায় সব দলের নেতারা নির্বাচনে ইভিএম পদ্ধতির বিরোধিতা করে মতামত দিয়েছিলেন, সেই সময় প্রধান নির্বাচন কমিশনারও রাজনৈতিক দলগুলোর নেতাদের আশ্বস্ত করে বলেছিলেন, রাজনৈতিক দলগুলো না চাইলে ইভিএম চাপিয়ে দেয়া হবে না। দেশের জনগণকে ইভিএম সম্পর্কে পুরোপরি সচেতন না করে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইভিএম চাপিয়ে দেয়া ষড়যন্ত্রেরই অংশ। ইভিএম মেশিনে ভোট জালিয়াতি এবং চুরির সুযোগ রয়েছে। এই মেশিন হ্যাকিং প্রুফ নয়। হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে নির্বাচনের ফল পাল্টে দেয়া যায়।

নেতৃবৃন্দ বলেন, ইলেকট্রনিক ভোট এবং ভোট মেশিনের সফটওয়্যারগুলো যে ভোটের আগে, ভোট গ্রহণের সময়ে এবং পরে হ্যাকিংয়ের কবলে পড়বে না, তা নিশ্চিত করা যায়নি বলেই উন্নত দেশে এখনো কাগজের ভোটই ভরসা।

ইউরোপের ৮টি দেশ ইভিএম পদ্ধতি চেষ্টা করে তা পরিত্যাগ করেছে, ফিরে গেছে কাগজের ভোট এবং হাতে হাতে গণনার ব্যবস্থায়। ভারতেও ইভিএম নিয়ে জোর বিতর্ক হয়েছে এবং অনেক দলই এর বিরোধিতা করছে। আমাদের ইভিএমে কোনো যাচাইযোগ্য কাগজের রেকর্ড রাখার ব্যবস্থা নেই, যা স্পষ্টতই যথার্থ বিকল্প নয়। অথচ একটা গ্রহণযোগ্য ও যৌক্তিক মূল্যায়ন ছাড়াই ইভিএম দেশবাসীর ওপর চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে। কয়েকটি বিভাগীয় শহরে কথিত ইভিএম মেলা আয়োজনেই অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ঐকমত্য গড়ে উঠবে এমন ধারণা হাস্যকর।

নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, বিএনপি সন্দেহ করছে, মানুষ দিয়ে জাতীয় নির্বাচন নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয় বুঝতে পেরে যন্ত্র দিয়ে নির্বাচন নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করছে সরকার। অবিলম্বে আসন্ন নির্বাচনে ইভিএম পদ্ধতিতে ভোট নেয়ার সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসার আহ্বান জানান চট্টগ্রাম নগর বিএনপির নেতৃবৃন্দ।

একুশে/প্রেসবিজ্ঞপ্তি