চট্টগ্রাম : বড় চেকের টি শার্ট পরা যুবক, চোখে সানগ্লাস। প্রবেশ করেন একটি বহুতল ভবনের নিচতলায়। পেছনে ঢোকেন সাদা শার্ট পরা এক কিশোর। ৩০ সেকেন্ডের রেকি শেষে বেরিয়ে গেলেন তারা। এরপর ঢুকলেন সাদার উপর কালো চেকের শার্ট পরা আরেক যুবক। তার চোখেও সানগ্লাস। ঢুকেই প্রথমে হাত দেন সিঁড়ির পাশের মোটর সাইকেলটিতে। ৪ মিনিটেই খুলে ফেলেন শক্তভাবে ‘লক’ করা মোটর সাইকেলটি। ততক্ষণে টিশার্ট পরা যুবকটিও এসে পাহারাদারের ভূমিকা নেন। সিঁড়ি, মূলগেট হাঁটাহাঁটি করে তিনি পাহারার কাজটি করছিলেন সন্তর্পণে। ৩ থেকে সাড়ে তিন মিনিটের মাথায় পাশের মোটর সাইকেলের তালাটিও খুলে ফেলেন অতি নিখুঁতভাবে।
টিশার্ট পরা যুবকটি গেটের কাছে এগিয়ে রাখলেন প্রথমে খোলা মোটর সাইকেলটি। এরপর তিনি মূল গেট খুলে দিলেন। ততক্ষণে দ্বিতীয় মোটর সাইকেল নিয়ে তৈরি হয়ে যান মোটর সাইকেলের ‘লক’ খোলায় সিদ্ধহস্ত যুবকটি। এরপর দুজন দুটি মোটর সাইকেল স্টার্ট দিয়ে ‘বীরের’ মতো বেরিয়ে গেলেন।
অভিনব এই মোটর সাইকেল চুরির ঘটনাটি ঘটে ১৯ আগস্ট সকাল ৭টার দিকে চট্টগ্রাম নগরীর খুলশী থানাধীন দক্ষিণ খুলশীর নাহার বিল্ডিংয়ে নিচতলায়। আর চুরি হওয়া পালসার ও সুজুকি জিকসার মডেলের মোটর সাইকেল দুটির মালিক সিআইডির কনস্টেবল মোহাম্মদ আলমের।
ঘটনার পর খুলশী থানায় একটি মামলা রুজু করেন তিনি। সিসিটিভির ফুটেজে মোটর সাইকেল চুরির সঙ্গে জড়িতদের চেহারাসৌষ্টব স্পষ্ট বোঝা গেলেও গত এক সপ্তাহেও এ ব্যাপারে কিছুই করতে পারেনি পুলিশ।
সন্দেহজনক হিসেবে রহিম নামের অস্ত্র মামলার এক যুবককে আটক করা গেলেও তার কাছ থেকে এ বিষয়ে কোনো ক্লু পাওয়া যায়নি। সিসিটিভি ফুটেজের সূত্র ধরে মামলার তদন্ত চালিয়ে যাওয়া খুলশী থানার এসআই সমীহ উদ্দিন জানান, ওই ভিডিও ফুটেজে যে তিন ব্যক্তি মোটর সাইকেল চুরির সাথে জড়িত তাদের পরিচয় এখনো খুঁজে পাওয়া যায়নি। ফলে এই মামলায় বলার মতো কোনো অগ্রগতি নেই বলে জানান তিনি।
*** দেখুন ভিডিওতে ***