চট্টগ্রাম: চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে গৃহবধূ হোসনে আরার হত্যা রহস্য উন্মোচিত হয়েছে। নিহতের স্বামীর প্রবাস থেকে পাঠানো অর্থ ও স্বর্ণালংকার চুরি করতে গিয়েই মূলত খুনের ঘটনা ঘটে। দেবর মিয়াকে নিয়ে চুরির পরিকল্পনা করে ভাসুরের ছেলে মোশাররফ। চুরির ঘটনা টের পেয়ে যাওয়ায় হাত পা চেপে ধরে মিয়া এবং মুখ চেপে ধরে গলায় ছুরি চালায় মোশাররফ।
মিরসরাই থানার ওসি ইমতিয়াজ এমএকে ভূঁইয়া বলেন, মিয়া নামের প্রতিবেশী এক চাচাকে নিয়ে নিজের আপন চাচির ঘরে স্বর্ণালংকার ও অর্থ চুরির পরিকল্পনা করে মোশাররফ। পরিকল্পনা অনুযায়ী ঘটনার রাত প্রায় ১২টার দিকে চাচির পাশের রুমে শুয়ে পড়ে সে। এরপর গভীর রাতে ঘরের ভেতর থেকে মিয়াকে দরজা খুলে দেয় মোশাররফ। এরপর দুজন মিলে আলমিরা খুলে চুরি করতে গেলে হঠাৎ ঘুম থেকে জেগে ওঠে গৃহবধূ হোসনে আরা।
ওসি বলেন, ঘটনা জানাজানি হয়ে যাবার ভয়ে হোসনে আরার গলায় ছুরি চালিয়ে দেয় মোশাররফ ও মিয়া। হোসনে আরা নিস্তেজ হয়ে গেলে তার কানের দুল, আংটি ও বালা খুলে নেয় তারা। পরে লুট করা স্বর্ণালংকার নিয়ে ঘর থেকে বের হয়ে যায় মিয়া। মোশাররফ ঘুমিয়ে পড়ে তার নিজের ঘরে।
শুক্রবার বিকালে চট্টগ্রামের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট হোসেন রেজার আদালতে মোশাররফ তার চাচি হোসনে আরার খুনের সাথে জড়িত থাকার বিষয়ে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে বলে জানান ওসি ইমতিয়াজ এমএকে ভূঁইয়া।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার আমজাদ হোসেন ওরফে মোহাম্মদ মিয়া (২৫) ও মোশাররফ হোসেন (২৩) গ্রেফতার করে পুলিশ। এ ঘটনায় গত বৃহস্পতিবার রাতে নিহত গৃহবধূর ভাই সাইফুল ইসলাম বাদি হয়ে মিরসরাই থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
প্রসঙ্গত, গত বুধবার (২৪ আগস্ট) দিবাগত রাতে মিরসরাইয়ের খইয়াছরা ইউনিয়নের মসজিদিয়া গ্রামের আবুল কালাম ড্রাইভার বাড়িতে শোবার ঘরে খুন হন বাড়ির গৃহবধূ হোসনে আরা বেগম।