মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারি ২০২৬, ৭ মাঘ ১৪৩২

আওয়ামী লীগ নেতার বিরুদ্ধে সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ ছড়ানোর অভিযোগ

| প্রকাশিতঃ ২৭ অগাস্ট ২০১৬ | ৫:১২ অপরাহ্ন

চট্টগ্রাম: চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার নারায়ণ হাট ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি হারুনুর রশীদের বিরুদ্ধে সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ ছড়ানোর অভিযোগ করেছেন বাংলাদেশ হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ নেতারা। অভিযুক্ত হারুনুর রশীদ নারায়ণ হাট ইউনিয়ন পরিষদেরও চেয়ারম্যান।

শনিবার দুপুরে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে এ অভিযোগ তোলা হয়। একই সাথে হারুনুর রশীদকে আওয়ামী লীগ ও নারায়ণহাট ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান থেকে বহিষ্কারের পাশাপাশি গ্রেফতারেরও দাবি জানিয়েছেন পরিষদের নেতারা।

সংবাদ সম্মেলনে পরিষদের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক ও যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর রানা দাশগুপ্ত বলেন, জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে সরকারের অবস্থান এবং অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়তে প্রধানমন্ত্রীর শেখ হাসিনার অঙ্গীকার রয়েছে। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের সাথে বলছি, সরকারী দলের নেতা ও নারায়ণ হাট ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচিত চেয়ারম্যান হারুনুর রশীদের ভ’মিকা আমাদের বিস্মিত ও ক্ষুব্ধ করেছে।

তিনি বলেন, আমরা বুঝতে অক্ষম হারুনুর রশীদের মতো আওয়ামী লীগের নেতারা প্রকৃত অর্থে কাদের পক্ষ হয়ে সরকারি দলের ভেতরে ঘাপটি মেরে বসে আছে? তারা কাদের পক্ষ হয়ে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করে প্রধানমন্ত্রীর ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করে চলেছেন?

হারুনুর রশীদকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে আওয়ামী লীগের সকল পদপদবি ও ইউপি চেয়ারম্যান পদ থেকে অপসারণ করে গ্রেফতার না করলে ৩১ আগস্ট কঠোর আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে জানান রানা দাশগুপ্ত।

সংবাদ সম্মেলনে চেয়ারম্যান হারুনুর রশীদের বিতর্কিত বক্তব্যের ভিডিও প্রদর্শন করা হয়। সেখানে তিনি বলেন- ‘কিসের তাবলীগ তোমরা কর? মাওলানা সাঈদী সাহেবের মত, হোক না সে জামায়াত, তার মতো করতে পারনা? তিনি তো অনেক হিন্দুকে মুসলমান বানাইছেন। তোমরা মুসলমান বানাইতে পারনা? কয়জন হিন্দুকে মুসলমান করেছেন? আমাদের নারায়ণ হাট ইউনিয়নের দুই-চারটা হিন্দুকে অবশ্যই মুসলমান করতে হবে। আমি সার্বিকভাবে সহযোগিতা করব।’

রানা দাশগুপ্তের অভিযোগ, গত ১২ আগস্ট শুক্রবার স্থানীয় দারুল সালাম মসজিদ প্রাঙ্গণে তবলিগ জামাতের একদল প্রতিনিধির উদ্দেশে বক্তব্যে চেয়ারম্যান হারুন এমন বক্তব্য রেখে ধর্মীয় বিদ্বেষ উসকে দেন।

অভিযোগ প্রসঙ্গে হারুনুর রশীদ বলেন, আমার ১৫ মিনিটের বক্তব্য থেকে মাত্র ৩৭ সেকেন্ডের খন্ডিত অংশ প্রচার করে রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের চেষ্টা চলছে। ওইদিন আমি অনেক কথাই বলেছি। আমি কোন উদ্দেশ্যে বলেছিলাম, সেটা বুঝতে হবে। খন্ডিত বক্তব্য শুনে তা বুঝতে পারা যাবে না। তারপরও বলছি আমি ভুল বলেছি। অনিচ্ছাকৃত এই ভুলের জন্য আমি দুঃখিত। আর ঐক্য পরিষদের স্থানীয় নেতাদের সাথে আমি গতকাল সভা করেছি। নারায়ণ হাটের হিন্দুরা এ নিয়ে চিন্তিত নয়।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন- হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের নেতা প্রকৌশলী পরিমল চৌধুরী, ইন্দুনন্দন দত্ত, তাপস হোড়, বিজয়লক্ষ্মী দেবী, অ্যাডভোকেট নিতাই প্রসাদ প্রমুখ।