চট্টগ্রাম: স্ত্রীকে খুনের ঘটনায় গ্রেফতার মোঃ আনারুল চট্টগ্রামের আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
শনিবার চট্টগ্রাম মহানগর হাকিম মোহাম্মদ আবদুল কাদেরের কাছে এই আসামি জবানবন্দি দেন বলে জানিয়েছেন বায়েজিদ বোস্তামি থানার ওসি মোহাম্মদ মহসীন।
তিনি বলেন, জবানবন্দিতে স্ত্রী খুনের বিষয়টি স্বীকার করে নিয়েছেন আনারুল।
মোঃ আনারুল (২৫) গাইবান্ধা জেলার সদর থানার কিযামুল ধর্মপুর এলাকার আমির হোসেনের ছেলে। নগরীর বায়েজিদ বোস্তামী থানাধীন মোজাফ্ফর নগর এলাকার একটি ভাড়া বাসায় পরিবার নিয়ে বসবাস করতেন তিনি। অন্যদিকে নিহত খাদিজা আক্তার (২০) কিশোরগঞ্জের কাটিয়াদি থানার ভুনা এলাকার হেলাল উদ্দিনের মেয়ে।
জবানবন্দিতে ঘটনার বর্ণনা দিয়ে আনারুল বলেছেন, আমি ট্রাকে মাল তোলা-নামানোর কাজ করি। আমি ট্রাকে পরিশ্রমের কাজ করে ক্লান্ত, শ্রান্ত। ১০-১২ দিন ধরে বিরক্ত করতেছে, তাই মাথা ঠিক ছিল না। রাগ হয়ে শোয়া অবস্থায় তার গলায় ডান হাত দিয়ে চেপে ধরি। ৪-৫ মিনিট চেপে ধরে রাখি। আমি আধা শোয়া অবস্থায় থেকে তার গলায় চাপ দেই। ৪-৫ মিনিট পর দেখি নড়াছড়া নাই। তারপর আমার বাবা-মাকে কল দিয়ে ডেকে নিয়ে আসি।
এর আগে গত শুক্রবার দুপুরে বায়েজিদ বোস্তামি থানাধীন মোজাফফর নগর এলাকায় নিজ ঘরে স্ত্রীকে খুন করেন আনারুল। এরপর শশুর পক্ষের লোকজনদের খবর দেন যে, তার স্ত্রী খাদিজা আক্তার (২০) মাথা ঘুরে পড়ে গেছে; তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়েছে।
খবর পেয়ে হাসপাতালে গিয়ে নিহতের গলায় আঘাতের চিহ্ন দেখতে পান স্বজনরা। এ সময় নিহতের স্বজনদের অভিযোগের ভিত্তিতে হাসপাতাল থেকে আনারুলকে আটক করে বায়েজিদ বোস্তামি থানার পুলিশ।
ওসি মোহাম্মদ মহসীন বলেন, ৩ বছর আগে আনারুল-খাদিজা দম্পতির বিয়ে হয়। রবিউল নামে তিন মাস বয়সী একটি ছেলে সন্তান আছে তাদের। স্বামী, সন্তান ও শ্বশুড়-শ্বাশুড়িকে নিয়ে টিনশেডের একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করে আসছিল খাদিজা। কিন্তু গত ৩-৪ মাস ধরে আলাদা বাসা নেওয়ার জন্য স্বামীকে চাপ দিয়ে আসছিল খাদিজা। এ নিয়ে তাদের মধ্যে ঝগড়া বিবাদ হতো। এরই এক পর্যায়ে খুনের ঘটনা ঘটে যায়।