
সীমান্ত খোকন, সৌদি আরব : ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ফকির আল আমীন। শৈশব থেকেই স্বপ্ন দেখতেন বড় হয়ে ফুটবলার হবেন। গ্রামের যেখানেই ফুটবল খেলা হতো সেখানেই হাজির হতেন তিনি।
এভাবে জেলা-উপজেলা পর্যায়ে অনেক খেলেছেন তিনি। কলেজে প্রথম বর্ষে পড়ার সময় বাবা মারা যান। ৪ ভাই ও ছোট ২ বোনদের মধ্যে সবার বড় তিনি। জেলার সদর উপজেলার মজলিশপুর ইউনিয়নের মৈন্দ গ্রামে তার বাড়ি।
কিন্তু সংসারে বাবা মারা যাওয়ার পর বড় ছেলে হিসেবে তার ঘাড়েই এসে পড়ে সংসারের ভার। বাধ্য হয়ে ফুটবলের স্বপ্ন বুকে ধারণ করেই জীবিকার তাগিদে
পাড়ি জমান সৌদি আরবে। কিন্তু এখানে এসেও তিনি ফুটবল ছাড়া থাকতে পারেন না। সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে তিনি প্রতিষ্ঠা করেছেন প্রবাস বাংলা ফুটবল ক্লাব। সেই থেকে কাজের ফাঁকে তিনি সৌদিতেও নিয়মিত ফুটবল খেলছেন। তিনি স্বপ্ন দেখেন নিজে একদিন জাতীয় দলের ফুটবলার হয়ে খেলবেন। যদি তা নাও হয় তার ক্লাবের কেউ নিশ্চয় খেলবে জাতীয় দলে।
কিন্তু সম্প্রতি একটি ম্যাচে বড় ধরনের দুর্ঘটনার শিকার হন আল আমীন। গত ২ ডিসেম্বর সৌদিতে একটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলতে গিয়ে তার ডান পা ভেঙ্গে যায়।
হাসপাতালে নেওয়ার পর ডাক্তার জানিয়েছেন পায়ের প্রধান দুটি হাড় ভেঙে গেছে। অপারেশন করাতে হবে এবং তারপর পায়ে রড ঢুকিয়ে রাখতে হবে। এটা করতে
প্রচুর টাকা দরকার।
এই অবস্থায় আল আমীনের ঘনিষ্ঠজনরা মনে করছেন তিনি হয়ত আর কোনোদিনই ফুটবল খেলতে পারবেন না। এখানেই বোধহয় তার স্বপ্নের সলিল সমাধি হবে।
কিন্তু আল আমীন এই কথা মানতে নারাজ। তিনি বলছেন, এই ভাঙা পা আমার ফুটবল খেলা কোনোমতেই আটকাতে পারবে না। হয়ত বছর দুয়েক সময় আমি খেলতে পারবো না। কিন্তু তারপরই আমি আবার খেলতে পারবো। এমন অনেক খেলোয়াড় আছেন যারা দুই পা ভাঙ্গা নিয়েও ফুটবল খেলে যাচ্ছেন। কিন্তু আমারতো এক পা ভেঙেছে। এটা কোনো ব্যাপারই না।
আল আমীনের এই দুর্ঘটনার কারণে তিনি সৌদি আরব থেকে দেশে যাবেন চিকিৎসা করাতে। সৌদিতে চিকিৎসা করাতে প্রচুর টাকার প্রয়োজন তাই দেশে চিকিৎসার সিদ্ধান্ত। কিন্তু এতে আরেকটা জটিলতা দেখা দিয়েছে। যদি তিনি দেশে যান তাহলে একেবারে চলে যেতে হবে নয়ত আবার যদি একই ভিসায় সৌদি ফিরতে চান তাহলে এখানকার ইকামা বা রেসিডেন্ট পারমিট রি-নিউ করে যেতে হবে যা করতে মোটা অঙ্কের টাকার প্রয়োজন। এ নিয়ে দ্বিধাগ্রস্থ হয়ে পড়েছেন অসুস্থ আল আমীন।
আল আমীন মনে করছেন, যদি তিনি আর সৌদি ফেরত যেতে না পারেন তাহলে তিনি বড় ধরনের অর্থনৈতিক সঙ্কটে পরতে পারেন। যা তার স্বপ্ন পূরণের পথে একটি বড় বাধা। কেননা, তার পরিবারে তিনিই একমাত্র টকা উপার্যন করা ব্যক্তি। ফকির আল আমীন বর্তমানে বাংলা টিভির রিয়াদ প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
একুশে/এসকে/এটি