
সীমান্ত খোকন, সৌদি আরব : সৌদি আরবে অর্থনৈতিক মন্দা, কর্মসংস্থানের অভাব ও অভিবাসন-ব্যয় বৃদ্ধির কারণে এখন প্রবাসীদের রীতিমতো নাজুক অবস্থা। এরইমধ্যে অনেক প্রবাসী সৌদি ছেড়ে নিজ দেশে চলে গেছেন। কিন্তু এসব সহ্য করে এখনো যারা দেশটিতে রয়েছেন তারা কিছুদিন আগেও আশায় বুক বেঁধেছিলেন, হয়ত এই অবস্থার উন্নতি হবে।
শুধু প্রবাসীরাই নয়, আন্তর্জাতিক অনেক পত্রপত্রিকায়ও এ নিয়ে খবর প্রকাশ করেছে। ব্লুমবার্গ পত্রিকায় বলা হয়েছিল, সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান গত দুই বছর আগে দেশটিতে উন্নয়নের জন্য যে সংস্কার করেছিল তাতে কোনো সুফল না পাওয়ায় আগের অবস্থায় ফিরে যাওয়ার কথা ভাবছে সৌদি সরকার। ফলে দেশটির অর্থনৈতিক অবস্থা আবার চাঙ্গা হতে পারে।
আর প্রবাসীরা ভেবেছিল আর কিছু হোক অথবা না হোক অন্তত অভিবাসন-ব্যয় কমবে। এ নিয়ে গত কয়েকমাস ধরে প্রবাসীদের মধ্যে গুঞ্জনও উঠেছিল খুব। ছিল চাপা উত্তেজনা। কিন্তু শেষমেষ কিছুই হলো না। চলতি মাসের ১৮ তারিখে সৌদি আরবের বাজেট ঘোষণা করে সরকার। ওই বাজেটেই দেশটির অর্থমন্ত্রীর বক্তব্যে যেন প্রবাসীদের আশায় গুঁড়েবালি পড়লো।
অর্থমন্ত্রী আহাম্মেদ আল জাদান জানিয়েছেন, প্রবাসীদের ইকামা ফি (রেসিডেন্ট পারমিট) কমছে না বরং পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী কিছু বাড়বে। এই খবরে প্রবাসীদের মন হতাশায় ছেয়ে গেছে।
জানা যায়, এতদিন ইকামা নবায়নের ফি ছিল ৪৮০০ রিয়াল। কিন্তু আগের ঘোষণা অনুযায়ী ২০১৯ সাল থেকে ফি বেড়ে হবে ৭২০০ রিয়াল। ঘোষণা অনুযায়ী ২০২০ সালে এই ফি বেড়ে হবে মোট ৯৬০০ রিয়ালে। আর মুক্তভাবে যারা কাজ করছেন তাদের কফিলকেও প্রতি মাসে টাকা দিতে হয়। তাই এমন যারা আছেন তাদের জন্য আরো বেশি টাকা গুণতে হবে। তবে অর্থমন্ত্রী বাজেট ঘোষণার দিন আরো বলেছেন, প্রবাসীরা যেই প্রতিষ্ঠানে কাজ করছেন সেই প্রতিষ্ঠানে যদি ৫০ ভাগ সৌদি নাগরিক কর্মী থাকে তাহলে প্রবাসীর ফি সামান্য কম নেওয়া হবে। আর যেই প্রতিষ্ঠানে ৫০ সৌদির নাগরিক থাকবে না সে ক্ষেত্রে কিছু বেশি ফি গুণতে হবে প্রবাসীদের।
কুমিল্লার মানিক নামে এক প্রবাসী জানান, সৌদির অবস্থা এতই খারাপ যে কবেই আমি দেশে চলে যেতাম। তবু ইকামার ফি কমবে এই আশায় ছিলাম এতদিন। কিন্তু এখন কর্মসংস্থানের অভাবের মধ্যেও এত টাকা দিয়ে ইকামা নবায়ন করে নিজের জন্য কিছু থাকে না। তাই এখন দেশেই চলে যাবো ভাবছি।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জাবেদ এই প্রতিবেদককে জানিয়েছেন, অনেকটা অবস্থা না বুঝেই দালালের মাধ্যমে বছর খানেক হলো তিনি সৌদি আরব এসেছেন। আসার পর দালাল তাকে ইকামা দেয়নি। ফলে ১ বছর হয়ে গেলেও তিনি ইকামার কারণে কোনো কাজও করতে পারছেন না। নিজে ইকামা করতে গেলেও অনেক টাকার প্রয়োজন যা তার পক্ষে জোগার করা অসম্ভব প্রায়। এই অবস্থায় তিনি কী করবেন বুঝে উঠতে পারছেন না।
বর্তমানে সৌদি আরবে এমন অনেক প্রবাসী আছেন যারা খেয়ে না খেয়ে দিন কাটাচ্ছেন।
একুশে/এসকে/এটি