২৫ জুন ২০১৯, ১০ আষাঢ় ১৪২৬, সোমবার

নবীনদের পদচারণার মুখর চবি ক্যাম্পাস

প্রকাশিতঃ সোমবার, জানুয়ারি ৭, ২০১৯, ১২:২৪ অপরাহ্ণ

ইফতেখার সৈকত : চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) স্নাতক প্রথম বর্ষ (সন্মান) শ্রেণীর ক্লাশ শুরু হয়েছে রোববার। ক্লাশ শুরুর প্রথম দিন থেকেই নবীন শিক্ষার্থীদের পদচারণায় মুখরিত ক্যাম্পাস।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (২০১৮-১৯)শিক্ষাবর্ষে ৪টি ইউনিট ও ২টি উপ-ইউনিট মিলিয়ে ৯ টি অনুষদের অধীনে ৫৩ টি বিভাগ/ইনস্টিটিউটে সর্বমোট ৪৯২৬ জন শিক্ষার্থী ভর্তির কথা রয়েছে। তবে আসন সংখ্যা খালি থাকায় এখনও বিভিন্ন বিভাগে শিক্ষার্থী ভর্তি করানো হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

বছরের শেষ ও শুরুর মধ্যখানে সারাদেশে যখন নির্বাচনী আমেজ। তখন বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস ছিলো প্রায় জনমানবশূণ্য। তবে নতুন বছরে নবীণদের নিয়ে ক্যাম্পাস এখন ঝলমলে উজ্বল। চারদিকে ছুটোছুটিতে ক্যাম্পাস এখন ব্যাস্তময় নগর। নতুনদের আগমনে ক্যাম্পাস যেন তার প্রাণ ফিরে পেল। এ যেন যৌবনের নবায়ন।

ক্যাম্পাসের সর্বত্র এখন নতুনদের আনাগোনা।তাদের স্বরে স্বরগোল শাটল, ঝুপড়ি, শহীদ মিনার, কেন্দ্রীয় খেলার মাঠ, ফরেস্ট্রি, জাদুঘর, লাইব্রেরি এবং চাকসু ভবনসহ সর্বত্র।

এসবের মধ্যে শাটল ট্রেন নিয়েই নবাগত শিক্ষার্থীদের উৎসুক বেশি। কেউবা গলাবাজি করে আবার কেউবা গানের সুরে, যে যেভাবেই হোক নিজের আগমনের জানান দিচ্ছে উচ্চঃস্বরে। মনে হচ্ছে বন্দি পাখি মুক্ত হলো সবে।

রূপসীর কোলে আরেক রূপসী, পাহাড় আর অরণ্যে বেষ্ঠিত ২১’শ একরের চবি ক্যাম্পাস। সৌন্দর্যে কিংবা জ্ঞানচর্চা কোন দিক থেকেই কম নয় চবি। চলতি বছরে এই বিশ্ববিদ্যালয় হয়েছে দেশসেরা। প্রত্যেক বছর এখান থেকে জ্ঞানের আলো ছড়াচ্ছে শত শত শিক্ষার্থী। প্রকাশিত হচ্ছে শিক্ষকদের গবেষণাপত্র।

সবুজ-শ্যামল এই ক্যাম্পাসকে নিজের করে নিতে মহাব্যাস্ত এই জ্ঞানপিঁপাসুরা। একের সাথে অন্যের সখ্যতা যেমন গড়ে তুলছে ঠিক তেমনি এই ক্যাম্পাসের প্রত্যেকটা কোণ নিজেদের করে নিতে মরিয়া তারা।

সরজমিনে দেখা গিয়েছে, নতুন ক্যাম্পাস ঘুরে দেখতে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন জায়গায় দল বেঁধে ছুটে চলছে শিক্ষার্থীরা। কেন্দ্রীয় খেলার মাঠ,সুইস গেইট, ফরেস্ট্রি, বায়োলজির পুকুর পাড়, আইন অনুষদ প্রঙ্গন, পরিত্যাক্ত অডিটরিয়াম সহ বিভিন্ন জায়গায় চলছে ফটো উৎসব। স্থানগুলোকে ঘুরে দেখার পাশাপাশি সবাই জীবনের রঙ্গময় মহুত্বটাকে ধরে রাখতেই ফটো তোলার হিড়কি।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়া নতুন শিক্ষার্থীদের সাথে কথা হয় একুশে পত্রিকার প্রতিবেদকের। এসময় হৃদয় বণিক নামের পরিবেশবিদ্যা বিভাগে ভর্তি হওয়া এক শিক্ষার্থী আবেগে উৎফুল্ল হয়ে বলেন, স্বপ্ন ছিলো মেডিকেলে ভর্তি হবো। তবে সেই স্বপ্ন স্বপ্নই রয়ে গেলো। মেডিকেলে ভর্তি হতে না পারলেও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে পেরে খুব খুশি আমি। এই ক্যাম্পাস যেন স্বর্গের মতো। এখানে আসলে প্রাণ জুড়ে যায়। সেই ভর্তি পরীক্ষা দিতে আসার দিন থেকেই কেমন যেন আত্মার সাথে মিশে গেছে ক্যাম্পাসটা। এ শিক্ষার্থী আরো বলেন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালের সবচেয়ে আকর্ষণীয় বস্তু হলো শাটল। যদিও শাটলে খুব ভিড় হয়। তবুও শাটলে উঠলে এক অন্যরকম অনুভুতি কাজ করে।

সুপ্ত নামে ফিন্যান্স বিভাগে ভর্তি হওয়া আরেক শিক্ষার্থী বলেন, এ ক্যাম্পাসটা যেমন সবুজ তেমনটা এখানকার সিনিয়র শিক্ষার্থীরাও খুব আন্তরিক। ভর্তি পরিক্ষা থেকে শুরু করে ভর্তি হওয়া পর্যন্ত নানানভাবে তারা শিক্ষার্থীদের সহায়তা করেছেন। এসময় এই শিক্ষার্থী আরও বলে, ৬ তারিখের ওরিয়েন্টেশন প্রোগ্রাম ছিলো আমার জীবনের স্মরণীয় একটা দিন। যেমন নতুন নতুন মুখের সাথে পরিচয় ঠিক তেমন নতুন নতুন শিক্ষকদের উপদেশ।

নুসরাত ফারিয়া নামের আরেক শিক্ষার্থী বলেন, আমি গ্রাম থেকে এসেছি। গ্রামের বাড়িতে বন্দি খাঁচার ভেতর ছিলাম। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এসে মুক্তির স্বাদ পেলাম। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় স্বপ্ন দেখতাম। আজ আমি সেই বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষার্থী। সে আরো বলেন, এখানে পর্যাপ্ত আবাসনের ব্যাবস্থা নেই। শহর থেকে এতদূর এসে ক্লাশ করা খুবই দূরূহ। যদি হলে সিট পাওয়া যায় বিশেষ করে মেয়েদের জন্য বেশি উপকার হয়।

এদিকে নবীন শিক্ষার্থীদের বরণ করে নিয়েছে নিজ নিজ বিভাগ। কিছু কিছু বিভাগে উপস্থিতি কম থাকলেও পরের সপ্তাহ থেকে উপস্থিতি বাড়বে বলে মনে করছেন শিক্ষকবৃন্দ। শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সৌহার্দপূর্ণ সম্পর্ক এবং সকলের সস্মিলিত প্রচেষ্টায় এগিয়ে যাবে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়। এমনটাই প্রত্যাশা সকলের।

একুশে/আইএস/এসসি