মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারি ২০২৬, ৭ মাঘ ১৪৩২

বাবুল আক্তারের আচরণ অস্বাভাবিক : অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার

| প্রকাশিতঃ ৭ সেপ্টেম্বর ২০১৬ | ৬:৫২ অপরাহ্ন

babulচট্টগ্রাম : স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতু হত্যাকাণ্ডের পর তদন্তের অগ্রগতি জানতে চেয়ে সাবেক পুলিশ সুপার বাবুল আক্তার চট্টগ্রামের পুলিশের সাথে কোনদিন যোগাযোগ করেননি বলে জানিয়েছেন নগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (অপরাধ ও অভিযান) দেবদাস ভট্টাচার্য্য।

বুধবার দুপুরে নিজের কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি এ তথ্য জানান।

দেবদাস ভট্টাচার্য্য বলেন, ঘটনার পর থেকে আজ (বুধবার) পর্যন্ত মামলার অগ্রগতি জানতে বাবুল আক্তার একবারও যোগাযোগ করেননি; মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কিংবা তদারকি কর্মকর্তাদের সাথে কথা হয় না তার। এমনকি মিতুর বাবা সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা মোশাররফ হোসেন গণমাধ্যমে নানা কথা বলেছেন, বাবুল আক্তারের চাকুরির বিষয়ে কথা বলছেন। তিনিও মেয়ের মামলার অগ্রগতি নিয়ে আমাদের সাথে কখনো যোগাযোগ করেননি। এ বিষয়টা আমাদের কাছে স্বাভাবিক মনে হচ্ছে না। তাদের এই আচরণ অস্বাভাবিক।

মিতু হত্যায় বাবুল আক্তারের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে কিনা জানতে চাইলে দেবদাস ভট্টচার্য্য বলেন, মামলার তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত বলা যাচ্ছে না, কে জড়িত, আর কে জড়িত নয়। তদন্তে যার সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যাবে, তাকেই গ্রেফতার করা হবে।’

এদিকে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও গোয়েন্দা পুলিশের সহকারী কমিশনার মো. কামরুজ্জামান বলেন, মিতু হত্যা মামলার আরো নতুন কিছু তথ্য পাওয়ার চেষ্টায় আছি আমরা। তদন্ত এখনো শেষ হয়নি। পলাতক আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। সঠিক পথেই আমরা অগ্রসর হচ্ছি। কিন্তু সবকিছু এখনই বলার মতো সময় আসেনি। তবে মামলার অগ্রগতি আছে।

প্রসঙ্গত গত ৫ জুন সকালে ছেলেকে স্কুলবাসে তুলে দিতে যাওয়ার সময় চট্টগ্রামের জিইসি এলাকায় গুলি ও ছুরিকাঘাতে খুন হন মাহমুদা খানম মিতু। এ ঘটনার পর বাবুল আক্তার বাদি হয়ে অজ্ঞাতনামাদের আসামী করে মামলা দায়ের করেন।

হত্যায় জড়িত সন্দেহে প্রথমে চট্টগ্রামের হাটহাজারীর একটি মাজারের খাদেম আবু নছর ওরফে গুন্নুকে গত ৮ জুন গ্রেফতার করে চট্টগ্রাম নগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। কিন্তু হত্যাকান্ডের বিষয়ে তার কাছ থেকে কোন তথ্য পায়নি বলে জানায় পুলিশ।

আবু নছরের স্ত্রী পারভীন আক্তার সংবাদ সম্মেলন করে দাবি করেন, ৩০ লাখ টাকা নিয়ে পুলিশ ষড়যন্ত্রমূলকভাবে তার স্বামীকে এই মামলায় জড়িয়েছে। এ ছাড়া হত্যাকান্ডে জড়িত সন্দেহে বায়েজিদ বোস্তামি থানা এলাকা থেকে ১১ জুন শাহজামান ওরফে রবিন নামের আরও এক যুবককে গ্রেফতার করে পুলিশ; ঘটনায় তারও সম্পৃক্ততা না পাওয়ার কথা জানায় পুলিশ।

এরপর ২৬ জুন গ্রেফতার করা হয় ওয়াসিম ও আনোয়ারকে। একদিন সংবাদ সম্মেলন করে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ কমিশনার ইকবাল জানান, মিতু হত্যাকান্ড হয় মুছা নামের এক ব্যক্তির নেতৃত্বে। এতে ওয়াসিম, আনোয়ারসহ সাত-আটজন অংশ নেন। একইদিন আদালতে জবানবন্দি দেন ওয়াসিম ও আনোয়ার। জবানবন্দিতে উল্লেখ করা হয়েছে, হত্যাকান্ডে ওয়াসিম, আনোয়ার, মোঃ রাশেদ, নবী, মোঃ শাহজাহান, মুছা ও মোঃ কালু অংশ নিয়েছেন।

এদের মধ্যে নবী ও রাশেদ গত ৪ জুলাই রাঙ্গুনিয়ায় পুলিশের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হন। হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত মোটরসাইকেলে ছিলেন ওয়াসিম, মুছা ও নবী। মাহমুদাকে ছুরিকাঘাত করেন নবী। অস্ত্র সরবরাহ করেন ভোলা। এদের মধ্যে মুছা ও কালুকে এখনো গ্রেফতার করা যায়নি। তবে মিতু হত্যায় অস্ত্র সরবরাহ করা ভোলা ও তার সহযোগী মনিরকে গত ২৭ জুন গ্রেফতার করে পুলিশ।

তবে মিতু হত্যার রহস্য এখনো অজানা রয়ে গেছে। কার নির্দেশে হত্যাকান্ড সেটা এখনো বের করা যায়নি। পুলিশ বলছে, মুছাকে গ্রেফতার করা গেলে, এ মামলার জট খুলবে। তবে মুছার স্ত্রী পান্না আক্তারের দাবি, গত ২২ জুন চট্টগ্রাম নগরীর বন্দর এলাকায় এক আত্মীয়ের বাসা থেকে পুলিশ মুছাকে ধরে নিয়ে গেছে। তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে পুলিশ।