চট্টগ্রাম: চট্টগ্রামের কোরবানির পশুর হাটগুলোতে এখনো পর্যাপ্ত গরু-ছাগল আসেনি। বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত সময়ে হাটে এসেছে ধারণক্ষমতার ২৫ শতাংশ পশু। এতে জমে উঠেনি বেচাকেনাও। তবে গরুর দাম হাঁকা হচ্ছে বেশী। বাজারে নেই ক্রেতার ভিড়। যারা আসছেন তারা দাম পরখ করছেন শুধু। তবে বেপারীরা জানিয়েছেন, শনিবারের পর থেকে গরুর বাজার জমে উঠবে। পর্যাপ্ত গরু বাজারে আসলে কমে যাবে দাম।
এদিকে চট্টগ্রামে কোরবানির জন্য দেশীয় গরুর চাহিদাই বেশি। এর মধ্যে লাল জাতের রেড চিটাগাং বা স্থানীয় ভাষায় ‘লাল বিরিষ’ রয়েছে চাহিদার শীর্ষে। তবে বাজারে এখনো পর্যাপ্ত গরু-ছাগল না আসায় বাড়তি দাম হাঁকা হচ্ছে। ফলে দাম কমার অপেক্ষায় আছেন অনেকেই।
বিবিরহাট গরু বাজারে বৃহস্পতিবার দুপুরে কথা হয় গরু বেপারী অলি আহমদের সাথে। তিনি বলেন, গরু বিক্রি হয় কোরবানির শেষ মুহুর্তের দিকে। এতদিন শহরে এনে গরুকে রাখা-খাওয়ানোর পেছনে অনেক টাকা খরচ করতে হবে। এই ভেবে অনেকেই গরু তাড়াতাড়ি হাটে আনেননি। আগামী শনিবার থেকে বিবিরহাটে পর্যাপ্ত গরু আসতে পারে।
বিবিরহাট গরু বাজারের ইজারাদার হাজী আবদুস সাত্তার বলেন, বিবিরহাটের পশুর ধারণ ক্ষমতা ২০ হাজার। বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত দুই ময়দানে মিলে গরু উঠেছে ৫ হাজারের মতো। বুধবার গরু বিক্রি হয়েছে ২২৫টি। বৃহস্পতিবার দুপুর ১টা পর্যন্ত ৩৯টি গরু বিক্রি হয়েছে। এ হাটে চট্টগ্রামের পটিয়া, সাতকানিয়া, চন্দনাইশ, বাঁশখালী, বোয়ালখালী, রাউজান, রাঙ্গুনিয়াসহ তিন পার্বত্য জেলা থেকে গরু আসে।
অন্যদিকে চট্টগ্রামের সবচেয়ে বড় গরু বাজার হিসেবে খ্যাত সাগরিকা পশুর হাটের ইজারাদার সাইফুল হুদা জাহাঙ্গীর বলেন, এ হাটে ৬০ হাজার গরু রাখার ব্যবস্থা রয়েছে। হাটে এ বছর ১০০-১৫০ জন ব্যাপারী গরুর রাখার স্থান ভাড়া নিয়েছেন। বুধবার এ হাটে বিক্রি হয়েছে ৩৭৭টি, বৃহষ্পতিবার দুপুর ১ টা পর্যন্ত বিক্রি হয়ে ১৮৬টি। বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত ১৫ হাজারের মত গরু এই হাটে এসেছে।
সাগরিকা পশু হাটের গরু বেপারী আবদুল করিম বলেন, কুষ্টিয়া, দিনাজপুরসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে পশুবাহী ট্রাক আসছে। আশা করছি, শনিবার থেকে বাজার জমে উঠবে। আগেভাগে গরু নিয়ে না আসার কারণ হচ্ছে- প্রতিটি গরুর পেছনে খরচ করতে হয় গড়ে ৫০০-৬০০ টাকা। এ টাকা খরচ করে গরু বিক্রি করে লাভ করা কঠিন হয়ে পড়ে। তাছাড়া গরু রাখার স্থান সংকটের কারণে নগরবাসী শেষ মুহুর্তে গরু কেনে।
এদিকে চট্টগ্রামের প্রাণিসম্পদ অফিসের তথ্য অনুযায়ী- এবারের কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে চট্টগ্রামে ২ হাজারের বেশি খামারি পশু পালন করেছেন। আর এসব খামারে প্রায় সোয়া ৩ লাখ দেশী জাতের গরু রয়েছে। গত বছর চট্টগ্রাম জেলার ৮০ শতাংশ পশুর জোগান দিয়েছিল এখানকার খামারিরা। এবারও প্রায় সাড়ে ৩ লাখের কাছাকাছি পশু মজুদ রয়েছে।
চট্টগ্রাম নগরীতে স্থায়ী-অস্থায়ী মিলিয়ে এবার মোট আটটি পশুর হাট বসেছে। এর মধ্যে সাগরিকা ও বিবিরহাট বাজার দুটি স্থায়ী। এছাড়া ৬টি অস্থায়ী পশুর হাট হলো- কর্ণফুলী হাট, সল্টগোলা রেলক্রসিং হাট, পতেঙ্গা সিটি করপোরেশন উচ্চবিদ্যালয় মাঠ, পোস্তারপাড় উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ, স্টিল মিল হাট ও কমল মহাজন হাট।
এদিকে পশুর হাটগুলোতে জাল নোট শনাক্তকরণ মেশিন স্থাপন, টাকা লেনদেনের জন্য ব্যাংকের বুথ ও ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা স্থাপনসহ নিরাপত্তায় নানা ব্যবস্থা গ্রহণ করার কথা জানিয়েছে পুলিশ।
চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (অপরাধ ও অভিযান) দেবদাস ভট্টাচার্য্য বলেন, পশুর হাটের নিরাপত্তার জন্য প্রতিটি হাটে পুলিশ বক্স স্থাপন করা হয়েছে। টাকা লেনদেনের ক্ষেত্রে যে কেউ পুলিশের সহযোগিতা নিতে পারবে। হাটের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সাদা পোশাকে পুলিশ সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছে।