মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারি ২০২৬, ৭ মাঘ ১৪৩২

ক্ষতিগ্রস্ত চামড়ার মৌসুমি ব্যবসায়ীরা, সংশয়ে আড়তদাররা

| প্রকাশিতঃ ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৬ | ১২:২৬ পূর্বাহ্ন

camraচট্টগ্রাম: চট্টগ্রামে মৌসুমি চামড়া ব্যবসায়ীরা কাক্সিক্ষত মূল্য না পেয়ে লোকসানের মুখে পড়েছেন। নির্ধারিত দামের সঙ্গে সংগতি না থাকায় ওই ক্ষুদ্র চামড়া ব্যবসায়ীদের লোকসান গুনতে হচ্ছে। তবে মৌসুমী চামড়া ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, চট্টগ্রামে আড়তদারদের সিন্ডিকেটের কারসাজিতে তারা লোকসানে পড়েছেন। তবে আড়তদারদের দাবি, মৌসুমী ব্যবসায়ীরা বেশি দামে চামড়া সংগ্রহ করায় এবং প্রক্রিয়া খরচ বেড়ে যাওয়ায় কম দামে চামড়া কিনতে হয়েছে। এছাড়া ঢাকার ট্যানারি মালিকদের কাছ থেকে গতবছরের বকেয়া টাকা পাননি চট্টগ্রামের অনেক আড়তদার। এ অবস্থায় নতুন চামড়ার সঠিক দাম পাওয়া নিয়ে সংশয়ে আছেন তারা।

আড়তদারদের মতে, ঢাকার বাইরে প্রক্রিয়াজাত করা চামড়ার দর নির্ধারণ করা হয়েছে প্রতি বর্গফুট ৪০ টাকা। সেই দামে চামড়া সংগ্রহ করলে মৌসুমি সংগ্রহকারীদের লাভ দেওয়া সম্ভব না। প্রতি বর্গফুট ২৫-২৬ টাকায় যারা কিনেছেন, তারা লাভবান হয়েছেন।

এদিকে প্রতি ঈদুল আজহায় চট্টগ্রাম নগরীতে মৌসুমী ব্যবসায়ীদের সবচেয়ে বড় বাজার বসে চৌমুহনী, দেওয়ানহাট, কর্ণফুলী মার্কেটসহ আশপাশের এলাকায়। মঙ্গলবার দুপুরে দেওয়ানহাট এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, রাস্তায় বড় গরু, মাঝারি ও ছোট গরু এবং ছাগলের চামড়া সাজিয়ে বিক্রি করতে বসেছেন অনেকেই। আড়তদারদের কেউ কেউ তাদের সঙ্গে দরদাম করছেন। কেউ কেউ চামড়া কিনে ভ্যানভর্তি করে নিয়ে যাচ্ছেন আতুরার ডিপোতে।

কয়েকজন মৌসুমি চামড়ার বিক্রেতার সঙ্গে এই প্রতিবেদকের কথা হয়। তারা জানান, গত বছরের তুলনায় এ বছর চামড়ার দাম ২০০ থেকে ৩০০ টাকা কম। চামড়া নেওয়ার ব্যাপারে ব্যবসায়ীদেরও আগ্রহ কম।

মৌসুমি চামড়া ব্যবসায়ী শফিকুল ইসলাম দাবি করেন, ‘গত বছর বড় গরুর চামড়া ১৫০০ টাকা বিক্রি করছি। এবার তা ৮০০ টাকাও বলছে না কেউ। চামড়া ব্যবসায়ীরা মনে হয় সিন্ডিকেট করছে।’

আরেক মৌসুমি ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলামের দাবি, ‘সবকিছুর দাম বাড়লেও চামড়ার দাম কমছে। কোরবানিতে সবচেয়ে বেশি চামড়া উৎপাদন হওয়ায়- এটাকে অসাধু ব্যবসায়ীরা সুযোগ হিসেবে নিয়েছে। চামড়াগুলো তাদের কাছে ঠিক সময়ে বিক্রি না করলে তো পঁচে যাবে। তাই তাদের দরেই বিক্রি করতে হয়েছে।’

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে চট্টগ্রাম কাঁচা চামড়া আড়তদার ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক নুর আহমদ বলেন, ‘দাম নির্ধারণ করে দেওয়ার পর মৌসুমি চামড়া ব্যবসায়ীরা বেশি দামে চামড়া কিনে ধরা খেয়েছে। এক দিনের ব্যবসায়ীদের উৎপাতে আমরা ঠিকমতো ব্যবসা করতে পারিনা। সর্বোচ্চ ৫০ টাকা প্রতি বর্গফুট চামড়া কিনেছে আড়তদাররা। আমরা যদি না কিনি তাহলে তো এসব চামড়া নষ্ট হয়ে যাবে।’

চট্টগ্রাম কাঁচা চামড়া আড়তদার ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির যুগ্ন সম্পাদক মোঃ আইয়ুব বলেন, এবার বৃহত্তর চট্টগ্রাম অঞ্চলে চার লাখের মতো গরু, একলাখের মতো ছাগল এবং ১০ থেকে ১২ হাজার মহিষের চামড়া সংগ্রহ হতে পারে। কি পরিমাণ চামড়া সংগ্রহ হয়েছে- তার হিসেব দুই-তিন দিনের মধ্যে পাব। আশা করছি, চামড়ার সংকট হবে না।

এদিকে চট্টগ্রাম কাঁচা চামড়া আড়তদার ব্যবসায়ী সমিতির সহ-সভাপতি মোঃ আব্দুল কাদের বলেন, ‘চামড়া প্রক্রিয়াকরণের কাজ প্রায় শেষ। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যেই ঢাকার ট্যানারিগুলো মজুদ চামড়া কিনে নেবে- বলে আশা করছি। তবে গত বছরের প্রায় ৬০ শতাংশ বকেয়া টাকা ঢাকার ট্যানারিগুলো শোধ করতে পারেনি। এখন চট্টগ্রামের আড়তদাররা চামড়াগুলো কোন ট্যানারির মালিকের কাছে বিক্রি করবে, কোথায় টাকা পাবে- এ নিয়ে সংশয়ে আছে।’

এদিকে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০১৩ সালে প্রতি বর্গফুট কাঁচা চামড়া সংগ্রহ করা হয় ৮৫-৯০ টাকায়, ২০১৪ সালে ৭০-৭৫ টাকা ও ২০১৫ সালে ৫০-৫৫ টাকা। সর্বশেষ ২০১৬ সালে ঢাকায় ৫০ টাকা ও ঢাকার বাইরে প্রতি বর্গফুট কাঁচা চামড়া ৪০ টাকায় সংগ্রহ করার জন্য নির্ধারণ করে দেয়া হয়।