সোমবার, ১৯ জানুয়ারি ২০২৬, ৬ মাঘ ১৪৩২

ভালোবাসা দিবসে চবি শিক্ষার্থীদের ব্যতিক্রমী আয়োজন

| প্রকাশিতঃ ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০১৯ | ৮:২৮ অপরাহ্ন


চবি প্রতিনিধি : বিশ্ব ভালোবাসা দিবসে ‘কপোত-কপোতী’ যখন মধুর প্রেমে মগ্ন তখন বঞ্চিত শিশুদের মুখে একটুকরো হাসি ফোটাতে ব্যতিক্রমী আয়োজন নিয়ে হাজির চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) কিছু শিক্ষার্থীরা।

সকাল থেকে চারদিকে ফুলের ছড়াছড়ি আর রঙ বেরঙের সাজে সজ্জ্বিত শিক্ষার্থীরা। বেলা ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বুদ্ধিজীবি চত্বরে দেখা মেলে একঝাঁক কোমলমতি শিশু। যাদের মুখে প্রাণবন্ত হাসি। কিছু শিক্ষার্থী তাদের জড়ো করছে। সারিবদ্ধভাবে বসিয়ে তাদের মাঝে ফুল বিতরণ করছে কেউ। আবার কেউ শৃঙ্খলার কাজ ভাগ করে নিয়েছে।

ভালোবাসা দিবসে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনীতি বিজ্ঞান বিভাগের (১৭-১৮) শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের নিয়ে গঠিত ‘লাভ ফর চাইল্ড’ একটি সেচ্ছাসেবী সংগঠনের উদ্যোগে এই আয়োজন। গত বছর এই দিনে একঝাঁক তরুণ মুক্তমনা শিক্ষার্থীরা বঞ্চিত শিশুদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য এই সংগঠনটি প্রতিষ্ঠা করে। আজকে সংগঠনটির বর্ষপূর্তি। আর এই বর্ষপূর্তিতে নেই কোন প্রধান বা বিশেষ অতিথি, আছে কিছু নিস্পাপ প্রাণবন্ত শিশু। যারা তাদের আধিকার পায় না। বসবাস এই শহরের অলিতে গলিতে।


সংগঠনটির উদ্যোগে প্রথমে এই শিশুদের মধ্যে ফুল ও চকলেট বিতরণ করে ভালোবাসা দিবসের শুভেচ্ছা বিনিময় করে শিক্ষার্থীরা। পরে কেক কেটে ‘লাভ ফর চাইল্ড’ এর বর্ষপূর্তি পালন করা হয়। এবং বঞ্চিত শিশুদের মধ্যে প্রায় ৫০টি স্কুল ব্যাগ বিতরণ করা হয়। শেষে শিক্ষার্থীরা বঞ্চিত শিশুদের মধ্যে দুপুরের খাবার বিতরণ করে।

ভালোবাসা দিবসে স্কুল ব্যাগ, ফুল, খাবার ও চকলেট পেয়ে উচ্ছ্বসিত সায়মা আক্তার নামে এক শিশু বলে, আমার খুব ভালো লেগেছে। আমি এর আগে কখনও এত আনন্দ পাইনি। আমার বাবা নেই, আমি এখন দ্বিতীয় শ্রেণীতে পড়ি। বাড়িতে গিয়ে মাকে বলবো আমিও বড় হয়ে এই ভাইয়াদের মতো যেন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে পারি।

মঞ্জু নামের আরেক শিশু বলে, আপু-ভাইয়ারা আমাদের খুব আদর করেছে। তারা আমাদের ফুল, চকলেট ও স্কুল ব্যাগ দিয়েছে। আমি আজকে খুব খুশি।

এই কর্যক্রমের উদ্যোগ নেয়াদের একজন রাজনীতি বিজ্ঞান বিভাগের (১৭-১৮) শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মোঃ সুমন; তিনি বলেন, শিশুদের মাঝে ভালোবাসা ছড়িয়ে দিতে আমরা এই ধরণের উদ্যেগ গ্রহণ করেছি।


সুমন আরো বলেন, হয়তো আমাদের আজকের আয়োজন খুব বড় না। তবে আমার বিশ্বাস আমরা একদিন আরও বড় পরিসরে বঞ্চিত শিশুদের পাশে দাঁড়াবো।

তিনি বলেন, শুধু বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীরা নয়, সমাজের বিত্তবানদেরও উচিত এই ধরণের উদ্যোগ গ্রহণ করা।