মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারি ২০২৬, ৭ মাঘ ১৪৩২

রণিকে নিয়ে নোংরা পোস্ট: মামলা না নেওয়ার অভিযোগ

| প্রকাশিতঃ ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৬ | ৯:৩৯ অপরাহ্ন

screenshot_9চট্টগ্রাম: চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নূরুল আজিম রণির বিরুদ্ধে ফেসবুকে নোংরা পোস্ট দেয়ার ঘটনায় অভিযুক্তের বিরুদ্ধে মামলা না নেওয়ার অভিযোগ ওঠেছে চান্দগাঁও থানার বিরুদ্ধে। অভিযোগ দায়েরের চারদিন পার হলেও পুলিশ এ মামলা রেকর্ড না করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অনেকেই।

তবে অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে চান্দগাঁও থানার ওসি আবু মোহাম্মদ শাহজাহান কবির বলেন, রণির বিরুদ্ধে ফেসবুকে নোংরা কথা লেখায় আইসিটি আইনে মামলা গ্রহণের জন্য একটা আবেদন পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তদন্ত এখনো শেষ হয়নি।

এ বিষয়ে মামলা নেওয়ার জন্য গত সোমবার সন্ধ্যায় চান্দগাঁও থানায় গিয়ে আবেদন করেছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সহ সভাপতি রেজাউল হক রুবেল। আবেদনে লেখা হয়েছে, গত ১১ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা ৬টার দিকে নূরুল আজিম রণির ছবি দিয়ে তার পরিবারের সদস্যদের নিয়ে অশালীন মন্তব্য করে পোস্ট দেন কায়সার হামিদ। এতে নুরুল আজিম রণি ও তার পরিবারের সদস্যদের মান-সম্মান চরমভাবে ক্ষুন্ন হয়েছে।

প্রসঙ্গত ৩০ বছর পর গত বছরের ১৬ ডিসেম্বর চট্টগ্রাম সরকারি কলেজ ও মহসিন কলেজ শিবিরমুক্ত করে ছাত্রলীগ; যাতে নূরুল আজিম রণির নেতৃত্বের বিষয়টি উঠে আসে গণমাধ্যমে। এরপর কলেজে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার প্রতিযোগিতায় নামে নূরুল মোস্তফা টিনু নামে স্থানীয় সাবেক এক ছাত্রলীগ নেতা।

ফেসবুকে রণির বিরুদ্ধে পোস্ট দেয়া সেই কায়সার হামিদ টিনুর অনুসারী হিসেবে পরিচিত। আর নূরুল আজিম রণি সাবেক মেয়র ও নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর অনুসারী। অন্যদিকে টিনু পরিচিত প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী নূরুল ইসলাম বিএসসির অনুসারী হিসেবে।

চট্টগ্রাম কলেজ ও মহসিন কলেজে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিভিন্ন সময়ে দফায় দফায় সংঘাতে জড়ায় দুই গ্রুপ। এ বিরোধের রেশ এবার পড়েছে ফেসবুকেও।

এদিকে শুক্রবার রাত ৯টায় অভিযুক্ত কায়সার হামিদের ফেসবুক ওয়ালে গিয়ে বিতর্কিত সেই পোস্টটি দেখা গেছে। এমনকি কায়সার হামিদের প্রতি সমর্থন জানিয়ে কোন কোন অনুসারীকে তার ওয়ালে পোস্ট ও কমেন্ট করতেও দেখা গেছে।

এ প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সহ সভাপতি মো. রেজাউল হক রুবেল বলেন, ‘অভিযোগ দায়েরের চারদিন পার হলেও পুলিশ এ মামলা রেকর্ড করেনি। পুলিশ বলছে, তারা এখনো তদন্ত করছে। অথচ কাইসার হামিদ নামে ওই ব্যক্তির আইডিতে অশ্লীল ভাষায় দেওয়া ওই পোস্টটি এখনো রয়েছে। তদন্ত মামলা রেকর্ডের পরও করা যায়। মামলা রেকর্ডের ক্ষেত্রে এমন দীর্ঘসূত্রিতা কাম্য নয়।’

চট্টগ্রাম কলেজ ছাত্রলীগ নেতা মাহমুদুল করিম বলেন, ‘একজন ত্যাগী ছাত্রলীগ নেতার ব্যক্তিগত ও পারিবারিক বিষয় ধরে চরিত্রহননের মতো নোংরামি করা হয়েছে। দায়ী কায়সার হামিদের বিরুদ্ধে মামলা রেকর্ডের জন্য আবেদন করা হয়েছে চারদিন পার হয়ে গেল। এখনো নাকি পুলিশ অভিযোগের তদন্ত শেষ করতে পারেনি।’

তিনি প্রশ্ন রাখেন, ‘এতদিনেও তদন্ত শেষ হয়নি। তাহলে মামলা রেকর্ড হবে কবে? বিচার কবে হবে?’

‘সরকারদলীয় ছাত্র সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ একটি ইউনিটের সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে ফেসবুকে নোংরামি হলে মামলা হচ্ছে না। তাহলে সরকার তথ্য ও প্রযুক্তি আইন করেছে কি জন্য? সরকারী দলের রাজনীতি করেও মনে হচ্ছে, আমরা বিরোধী দলে আছি।’ – বলেন রণির অনুসারী হিসেবে পরিচিত ছাত্রলীগ নেতা মাহমুদুল করিম।