২৫ জুন ২০১৯, ১০ আষাঢ় ১৪২৬, সোমবার

কে এই ঘাতক ব্রেনটন

প্রকাশিতঃ শনিবার, মার্চ ১৬, ২০১৯, ১১:২৬ পূর্বাহ্ণ


নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে মসজিদে হামলাকারী ২৮ বছর বয়সী একজন অস্ট্রেলীয় শ্বেতাঙ্গ। নিউজিল্যান্ডের স্থানীয় সংবাদমাধ্যম এক্সপ্রেসে বলা হয়েছে, দুই বছর ধরে হামলার পরিকল্পনা করছিল সে। অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসনও হামলাকারী তার দেশের নাগরিক বলে জানিয়েছেন। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো জানায়, ব্রেনটন ট্যারেন্ট নামে পরিচয় দেওয়া ওই হামলাকারী মসজিদে নির্বিচারে গুলির দৃশ্য মাথার হেলমেটে বসানো গো-প্রো ক্যামেরার মাধ্যমে ১৭ মিনিট লাইভ সম্প্রচার করেছিল।

হামলা চালানোর আগে ৮৪ পৃষ্ঠার একটি ঘোষণাপত্র ছড়িয়েছিল সে। এতে ব্রেনটন বলে, নিজের পরিবারের লোকজনের ভবিষ্যৎ নিশ্চিতের জন্য সে পদক্ষেপ গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ওই ঘোষণাপত্রে ‘সন্ত্রাসী হামলায় হাজার হাজার ইউরোপীয়র প্রাণহানির প্রতিশোধের প্রতিজ্ঞা’র কথা জানায় ব্রেনটন।

সে জানায়, তার প্রেরণা হচ্ছে আন্দ্রে ব্রেভিক, যে ২০১১ সালের ২ জুলাই নরওয়েতে জোড়া বোমা হামলা চালিয়ে ৭৭ জনকে হত্যা করেছিল। ব্রেনটন তিন মাস আগেই ক্রাইস্টচার্চে হামলার সিদ্ধান্ত নেয়। তবে নিউজিল্যান্ডই হামলার মূল লক্ষ্য ছিল না বলেও উল্লেখ করে সে।

হামলার সময় মাথায় হেলমেটের সঙ্গে লাগানো একটি বিশেষ ক্যামেরা দিয়ে ওই ঘটনা ফেসবুকে লাইভ প্রচার করে হামলাকারী। লাইভ শুরু করার সময় তাকে বলতে শোনা যায়, ‘এই পার্টি শুরু করা যাক।’

শুক্রবার দুপুর দেড়টার দিকে ক্রাইস্টচার্চের আল নুর মসজিদে জুমার নামাজ আদায়রত মুসলিমদের ওপর হামলা চালায় ওই বন্দুকধারী। পরে কাছাকাছি শহরতলি লিনউডের মসজিদেও হামলা চালানো হয়। তবে দ্বিতীয় মসজিদে হামলাকারী একই ব্যক্তি কিনা, তা এখনো নিশ্চিত করা যায়নি। এ পর্যন্ত চারজনকে আটক করা হয়েছে।

হামলার দৃশ্য ফেসবুকে মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে যায়। ভিডিওটিতে দেখা যায়, প্রথমে একটি গাড়ি নিয়ে ব্রেনটন তা পার্ক করে আল নুর মসজিদের পাশে। এ সময় গাড়িতে গান চলছিল। গাড়ি থেকে নামার আগে সে একটি অটোমেটিক রাইফেল বের করে। গাড়ির ভেতরে আরও কয়েকটি অ্যাসল্ট রাইফেল দেখা যায়। গুলিভর্তি সেই রাইফেল নিয়ে ব্রেনটন শান্তভাবে মসজিদের প্রবেশপথেই একজনকে গুলি করে। এর পর ভেতরে ঢুকে একে একে যাকেই সামনে পেয়েছে তাকেই গুলি করে। এ সময় অনেকে পালানোর চেষ্টা করলে তাদেরও গুলি করা হয়। আহত হয়ে অনেকে কাতরানোর সময় তাদেরও গুলি করে মৃত্যু নিশ্চিত করে সে। এমনকি স্তূপ হয়ে পড়ে থাকা লাশের ওপরও ট্যারেন্ট একাধিকবার গুলি করে। গুলি শেষ হয়ে গেলে সে বারবার ম্যাগাজিন রিলোড করছিল।

নিউজিল্যান্ড হেরাল্ড এক খবরে জানিয়েছে, হামলার ভয়াবহ ভিডিওটি যাতে আর ছড়াতে না পারে এজন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে পুলিশ। ক্রাইস্টচার্চের পুলিশ কমিশনার মাইক বুশ বলেছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ওই ভিডিওর ব্যাপারে তিনি অবগত। এ ফুটেজ অনলাইন থেকে সরিয়ে ফেলতে যথাসাধ্য চেষ্টা করছেন তারা।

আইসিটি প্রোভাইডার স্পার্কের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সিমন মৌটার জানান, ওই ভয়াবহ ফুটেজ বিতরণের চেষ্টাকারী ওয়েবসাইটগুলো বন্ধ করে দেওয়ার কাজ চলছে। এ জন্য গ্রাহকদের ইন্টারনেট ব্যবহারের ক্ষেত্রে সাময়িক অসুবিধা হতে পারে।

স্পার্কের মুখপাত্র এন্ড্রু পিরি বলেছেন, প্রযুক্তিকর্মীরা প্রাথমিকভাবে ওই ফুটেজ বিতরণকারী তিনটি সাইট শনাক্ত করেছেন। এ ধরনের সাইটগুলো বন্ধে ইন্টারনেট প্রোভাইডররাও একযোগে কাজ করছেন। এরইমধ্যে ‘ব্রেনটন ট্যারেন্ট’ নামে একটি অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দিয়েছে টুইটার কর্তৃপক্ষ।