মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারি ২০২৬, ৭ মাঘ ১৪৩২

ভান্ডাল জুড়ি প্রকল্প: নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ হবে?

| প্রকাশিতঃ ৩ অক্টোবর ২০১৬ | ১১:০৬ অপরাহ্ন

ctg wasaচট্টগ্রাম: দক্ষিণ চট্টগ্রামে পানি সরবরাহের জন্য চট্টগ্রাম ওয়াসা হাতে নেয় ভান্ডাল জুড়ি পানি সরবরাহ প্রকল্প। বোয়ালখালীর ভান্ডাল জুড়ি খালের পাড়ে এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে। প্রকল্পটির মেয়াদকাল ২০১৫ সালের অক্টোবর থেকে ২০২০ সালের সেপ্টেম্বর। গত ৫ জানুয়ারি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটিতে (একনেক) প্রকল্পটি অনুমোদন পায়। কিন্তু প্রকল্পের জন্য এখনো কনসালটেন্ট প্রতিষ্ঠান নিয়োগ হয়নি। এমনকি মন্ত্রণালয় থেকে মিলেনি ভূমি অধিগ্রহণের অনুমোদন।

চট্টগ্রাম ওয়াসার কর্মকর্তারা বলছেন, এ প্রকল্পের মাধ্যমে দক্ষিণ চট্টগ্রামের বোয়ালখালী, পটিয়া ও আনোয়ারা উপজেলায় দৈনিক ৬ কোটি লিটার পানি সরবরাহ করা হবে। এর মধ্যে শিল্পাঞ্চলে ৭৫ শতাংশ ও আবাসিক গ্রাহকরা ২৫ শতাংশ পানি পাবেন। এতে কর্ণফুলীর দক্ষিণ পাড়জুড়ে নতুন বসতি স্থাপনসহ দক্ষিণ চট্টগ্রামজুড়ে শিল্পকারখানার ব্যাপক সম্প্রসারণ হবে। কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ এ প্রকল্পের কাজ চলছে অত্যন্ত ধীরগতিতে।

প্রকল্পটির পরিচালক মাহবুবুল আলম বলেন, ‘প্রকল্পের কনসালটেন্ট নিয়োগের প্রক্রিয়া চলছে। ৫টি কনসালটেন্ট প্রতিষ্ঠানকে আরএফপি (রিকুয়েস্ট ফর প্রপোজাল) পাঠানো হয়েছে। আগামী ২৪ অক্টোবর জানতে পারবো, আগ্রহী কনসালটেন্ট প্রতিষ্ঠান হতে কে কে আগ্রহী। সবমিলিয়ে কনসালটেন্ট চূড়ান্ত করতে আরো ৫ থেকে ৬ মাস সময় লাগবে। এরপর প্রকল্পের ডিজাইন করবে কনসালটেন্ট প্রতিষ্ঠান; এজন্য এক বছর সময় লাগতে পারে। এরপর টেন্ডার আহ্বান করা হবে।’

নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ হবে না জানিয়ে তিনি বলেন, ‘ওয়াসার প্রায় প্রতিটি প্রকল্পই নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ করা যায়নি। ভ’মি অধিগ্রহণের অনুমোদন পেতে সময় লাগছে। এছাড়া প্রকল্পের প্রতিটি কাজই সময়সাপেক্ষ। ভান্ডাল জুড়ি প্রকল্পের কোনকিছুই এখনো দৃশ্যমান হয়নি। প্রকল্পের কাজ এখনো চিঠি চালাচালির মধ্যে সীমাবদ্ধ।’

ওয়াসা সূত্র জানায়, ভান্ডাল জুড়ি পানি সরবরাহ প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যয় হবে ১ হাজার ৩৬ কোটি টাকা। এর মধ্যে ৭৫৪ কোটি টাকা দিচ্ছে দক্ষিণ কোরিয়া, বাংলাদেশ সরকার দিচ্ছে ২৬১ কোটি টাকা, আর চট্টগ্রাম ওয়াসা দিচ্ছে ২০ কোটি টাকা। এরপর প্রকল্পের জন্য ৫০ একর ভূমি চেয়ে জেলা প্রশাসনের কাছে আবেদন করে চট্টগ্রাম ওয়াসা। পরে যাচাই-বাছাই শেষে ৪১ দশমিক ২৬ একর ভূমি প্রকল্পের জন্য দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয় জেলা প্রশাসন। এরপর এই ভূমি অধিগ্রহণের অনুমোদন চেয়ে গত ৭ আগস্ট ভূমি মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেয় জেলা প্রশাসন। এই চিঠি মন্ত্রণালয় গ্রহণ করে গত ২১ আগস্ট। গতকাল সোমবার পর্যন্ত এ বিষয়ে কোন সিদ্ধান্ত দেয়নি মন্ত্রণালয়।

প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রকল্পের কাজকে তিনভাগে ভাগ করা হয়েছে। প্রথম ভাগে- ৬ কোটি লিটার ধারণ ক্ষমতার ইনটেক নির্মাণ ও পানি শোধনাগার নির্মাণ করা হবে। দ্বিতীয় ভাগে- ট্রান্সমিশন ও কনভেয়েন্স পাইপ লাইন নির্মাণ, ১৫ মিঃ কনভেয়েন্স পাইপ লাইন, ৬০ কিলোমিটার ট্রান্সমিশন পাইপ লাইন নির্মাণ ও ৫৩ দশমিক ৩ কিলোমিটার ডিস্টিবিউশন পাইপ লাইন নির্মাণ করা হবে। আর সর্বশেষ তৃতীয় ভাগে- প্রকল্প এলাকায় রিজার্ভার নির্মাণ, কোরিয়ান ইপিজেডে পানির রিজার্ভার নির্মাণ ও পটিয়ায় পানির রিজার্ভার নির্মাণ করা হবে।

এ প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক একেএম ফজলুল্লাহ বলেন, ভান্ডাল জুড়ি প্রকল্পটি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকারভুক্ত। এটি বাস্তবায়িত হলে দক্ষিণ চট্টগ্রাম ও কর্ণফুলী নদীর বাম তীরে শিল্পকারখানা সম্প্রসারণ হবে। কিন্তু প্রকল্পের কাজের বিষয়ে দক্ষিণ কোরিয়া একেক সময় একেক পরামর্শ দিচ্ছে। এছাড়া অফিসিয়াল কাজগুলো করতে সময় বেশী লাগছে। তাই প্রকল্পের কাজ ধীর গতিতে চলছে। তবে কাজ দ্রুত শেষ করার জন্য আমরা তৎপর আছি।