বৃহস্পতিবার, ২৩ আগস্ট ২০১৯, ৭ ভাদ্র ১৪২৬

মাদক ব্যবসায়ীদের প্রতি ওসি নেজামের ‘তিন অপশন’

প্রকাশিতঃ শুক্রবার, মে ১০, ২০১৯, ১:৪৩ পূর্বাহ্ণ


চট্টগ্রাম: চট্টগ্রাম নগরের বাকলিয়া থানা এলাকায় মাদক ব্যবসায়ীদের অস্তিত্বই রাখবেন না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ওসি মোহাম্মদ নেজাম উদ্দীন।

মাদক ব্যবসায়ীদের প্রতি তিনটি ‘অপশন’ দিয়ে তিনি বলেন, ‘থানায় এসে আত্মসমর্পণ করতে হবে, নয়তো বাকলিয়া থানা এলাকা ছেড়ে চলে যেতে হবে, অন্যথায় গ্রেপ্তার হয়ে কঠিন পরিণতি ভোগ করতে হবে।’

বৃহস্পতিবার দুপুরে একুশে পত্রিকার মাধ্যমে মাদক ব্যবসায়ীদের প্রতি এ বার্তা জানান বাকলিয়া থানার ওসি নেজাম উদ্দীন।

নগরের সদরঘাট থানায় এক বছরের বেশী সময় ওসি হিসেবে দায়িত্বপালনের পর গত ১৯ এপ্রিল বাকলিয়া থানায় ওসি পদে দায়িত্ব পান মাদক ও সন্ত্রাস দমনে প্রশংসিত এ পুলিশ কর্মকর্তা।

বাকলিয়া থানায় নতুন ওসি আসার পর বাস্তুহারা কলোনিতে মাদক ব্যবসা করা ১২ জনের মধ্যে ইতিমধ্যে ৮ জন গ্রেপ্তার হয়েছে। বাকি চারজনকে এক সপ্তাহের মধ্যে ধরে ফেলতে পারবেন বলে আশা করছেন ওসি নেজাম উদ্দীন।

গত ৬ মে অস্ত্র-গুলি ও ইয়াবাসহ শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী মনির হোসেন ওরফে কেহেরমানকে গ্রেপ্তার করে বাকলিয়া থানা পুলিশ। এ প্রসঙ্গে ওসি নেজাম বলেন, ‘কেহেরমান খুবই বিপদজনক আসামি। সে র‌্যাবকেও গুলি করেছিল। তার মতো আসামিকেও আমরা আইনের আওতায় নিয়ে এসেছি।’

‘আরেকজন মাদক ব্যবসায়ীকে ধরেছি, যার মা থেকে শুরু করে ভাই-বোন, ছোট ছেলে সবাই মাদকের সাথে যুক্ত। ২০ জন কর্মচারী রেখে সে মাদক ব্যবসা করে আসছিল। ওই মাদক ব্যবসায়ীকে ধরার পর ২০ জন কর্মচারী সবাই পালিয়ে গেছে। মাদক ব্যবসায়ীদের কোন ছাড় নেই।’

মাদক ব্যবসায়ীদের আশ্রয়-প্রশ্নয়দাতাদের মধ্যে স্ত্রী ও পরিবারের সদস্যরাও পড়েন জানিয়ে ওসি নেজাম উদ্দীন একুশে পত্রিকাকে বলেন, ‘কারো স্বামী বা ভাই ইয়াবা বিক্রি করলে সেটা তাদের জানার কথা। আইনপ্রয়োগকারী সংস্থাকে বিষয়টি জানানো তাদের নৈতিক দায়িত্ব, নাগরিক দায়িত্ব।’

‘মাদক ব্যবসায়ীরা যদি এলাকায় অবস্থান করে তাদেরকে না পেলে তাদের সহযোগি হিসেবে স্ত্রী-সন্তানকে গ্রেপ্তার করবো। মাদক ব্যবসায়ীকে ধরিয়ে দিতেই হবে। নয়তো বউ-বাচ্চা, মা-বাবাসহ জেলে যেতে হবে। অস্তিত্বই রাখব না। আমি বিট পুলিশিংয়ের মাধ্যমে সে প্রস্তাব পাঠিয়েছি। কঠিন প্রস্তাব।’ যোগ করেন ওসি নেজাম।

চলতি মাসের প্রথম ৮ দিন বাকলিয়া থানায় ২৫টির বেশী মাদক মামলা রেকর্ড করা হয়েছে জানিয়ে ওসি বলেন, ‘ইয়াবা উদ্ধারের মামলা প্রতিদিন হচ্ছে। প্রতিদিনই স্থানীয় মাদক বিক্রেতা গ্রেপ্তার হচ্ছে।’

বাকলিয়া থানাকে আটটি বিটে ভাগ করে বিট পুলিশিং কার্যক্রম চলে। এই ৮ জন বিট অফিসারের কাছ থেকে মাদক ব্যবসায়ীদের তালিকা সংগ্রহ করেছেন জানিয়ে ওসি নেজাম বলেন, ‘আমার টার্গেট প্রতি মাসে প্রত্যেক বিট থেকে ৫ জন করে মোট ৪০ জনকে জেলে যেতে হবে। সে হিসেবে দুই মাসের মধ্যে ৮০ জন মাদক ব্যবসায়ীকে জেলে যেতে হবে। এমনভাবে মামলা দেওয়া হচ্ছে যাতে এক বছরের আগে বের হতে না পারে।’