বুধবার, ২৪ অক্টোবর ২০১৯, ৮ কার্তিক ১৪২৬

পাঠ্যবইয়ে ডারউইনের ‘বিবর্তনবাদ’, হেফাজত নেতা বাবুনগরীর প্রতিবাদ

প্রকাশিতঃ শুক্রবার, জুলাই ১২, ২০১৯, ২:৫৯ অপরাহ্ণ

মো.আলাউদ্দীন,হাটহাজারী ঃ নবম-দশম শ্রেণী থেকে শুরু করে মাস্টার্স শ্রেণী পর্যন্ত পাঠ্যবইয়ে ডারউইনের ‘বিবর্তনবাদ’ অন্তর্ভুক্ত করার প্রতিবাদ জানিয়েছেন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ’র মহাসচিব আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী।

গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, আধুনিকতার নামে ২০১৩ সালে পাঠ্যবইয়ে সংযোজিত বিষয়টি আমাদের গোচরীভূত হয়েছে। এর আগে ২০১২ সাল পর্যন্ত একই বইসমূহে এই ‘বিবর্তন’ পাঠ ছিল না। এই শিক্ষার মাধ্যমে ৯২ ভাগ মুসলিম অধ্যুষিত দেশের কোমলমতি লক্ষ লক্ষ মুসলিম শিক্ষার্থীর মননে মহান আল্লাহর প্রতি গভীর বিশ্বাসকে ঘোরতর সন্দিহান ও ভঙ্গুর করে নাস্তিক্যবাদের প্রতি উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে।

তিনি পাঠ্যবইয়ে ‘বিবর্তনবাদ’ অন্তর্ভুক্তির প্রতিবাদ করে সরকারের প্রতি অবিলম্বে ইসলামী আক্বিদা-বিশ্বাস ও জাতিবিনাশী ‘বিবর্তনবাদ’- এর শিক্ষা বাতিল ও নিষিদ্ধ এবং‘বিবর্তনবাদ’ অন্তর্ভুক্তির সাথে যারা জড়িত, তাদেরকে চিহ্নিত করে বিচারের আওতায় আনা এবং রাষ্ট্রীয় সকল কর্মকাণ্ড থেকে তাদেরকে দূরে রাখার দাবি জানান।

বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘বিবর্তন’-এর এই শিক্ষা চলতে থাকলে আগামী কয়েক প্রজন্ম পর সকলের অগোচরেই এই দেশ নাস্তিক অধ্যুষিত রাষ্ট্রে পরিণত হবে। নামে মুসলমান থাকলেও চিন্তা চেতনায় সকলে নাস্তিক্যবাদি ধ্যানধারণা ও ভোগবাদে ডুবে থাকবে। আল্লাহ, রাসূল, ইসলাম নিয়ে কটূক্তি বাড়তে থাকবে। আলেম-উলামা, ধর্মীয় শিক্ষা ও ধর্মভীরু মানুষকে বাধা ও বিরক্তিকর ভাবতে শুরু করবে। ধর্মীয় বিয়ে মানবে না। বিয়ের নানাবিধ দায়বদ্ধতা ছাড়াই লিভটুগেদার ও অবাধ যৌনতার প্রতি আগ্রহী হবে। মদ, জুয়ার বিধিনিষেধ মানবে না। সমকামিতার বৈধতা দেওয়ার জন্য আন্দোলনে নামবে।

আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী আরো বলেন, বিবর্তনবাদ মতে, সৃষ্টিকর্তার ধারণা ভিত্তিহীন। তাই বিবর্তনবাদ সৃষ্টিকর্তাকে স্বীকার করে না। পৃথিবীর প্রচলিত কোন ধর্মকেই স্বীকার করে না। এই বিবর্তনবাদের পাঠ দিতে গিয়ে একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণীর সমাজ বিজ্ঞান বইয়ে বাংলাদেশের মুসলমান ছাত্র-ছাত্রীদেরকে পড়ানো হচ্ছে- ‘ধর্ম মানুষের চিন্তা- চেতনার ফসল’।

তিনি বলেন, সংবিধান মতে যেখানে রাষ্ট্রের দায়িত্ব হল- প্রতিটি নাগরিকের ধর্মীয় বিশ্বাসের চেতনাবোধের চর্চাকে নিরাপদ রাখা, সেখানে পাঠ্যবইয়ে ৯২% ছাত্র-ছাত্রীকে তাদের ধর্মীয় বিশ্বাসের বিরোধী বিষয় পড়তে শিক্ষাবোর্ড কী করে বাধ্য করার সুযোগ পেল- জাতিকে এর ব্যাখ্যা দিতে হবে। একজন মুসলমানকে মানব জাতির উদ্ভব মা হাওয়া ও বাবা আদম (আ.) থেকে উৎপত্তি- আবশ্যিকভাবে এই বিশ্বাস ধারণ করতে হয়। তাহলে পাঠ্যবইয়ে মুসলিম ছাত্র-ছাত্রীদেরকে মানবজাতি ও বানরের পূর্বপুরুষ একই ছিল- এমন ঈমান-আক্বিদাবিরোধী শিক্ষা দেওয়ার অধিকার সংবিধানিকভাবে শিক্ষাবোর্ডের আছে কিনা- আমরা এই ব্যাখ্যাও জানতে চাই।

একুশে/এমএ/এটি